অরিত্রির আত্মহত্যা: প্রিন্সিপালের কক্ষের ভিডিও প্রকাশ (ভিডিও)

ডেস্ক রিপোর্টঃ ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ ৩ শিক্ষককে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বুধবার (৫ ডিসেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অব্যাহতি দেয়া তিন শিক্ষক হলেন- ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনা ও প্রভাতি শাখার প্রধান শিক্ষক জিনাত আরা।

এর আগে অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় প্ররোচনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, শাখা প্রধান এবং এক শ্রেণিশিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে র‍্যাব ও পুলিশের প্রতি অনুরোধ জানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বুধবার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় র‍্যাবের মহাপরিচালক ও ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনারকে চিঠি দিয়ে এই অনুরোধ জানায়।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার আগে অধ্যক্ষ নাজনিন ফেরদৌসের কক্ষের একটি ভিডিও সংবাদমাধ্যমের হাতে এসেছে।

তবে, ৭ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপটিতে কোন অডিও না থাকায় তাদের কথোপকথন শোনা যায়নি। তাদের অঙ্গভঙ্গি দেখে ধারণা করা যায়, দিলীপ অধিকারী বারবার অধ্যক্ষের কাছে অনুনয়-বিনয় করেন। তবে প্রতিবারই অধ্যক্ষের দিক থেকে নেতিবাচক জবাব আসে।

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিওটি ঐ স্কুলের সমাজ বিজ্ঞানের সিনিয়র শিক্ষক ও গভর্নিং বডির প্রতিনিধি মুস্তারি সুলতানা সংবাদমাধ্যমকে দেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, অরিত্রীর বাবা-মাকে হাত নেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন অধ্যক্ষ নাজনিন ফেরদৌস। একপর্যায়ে অরিত্রী এবং তার মা কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। বাবা দাঁড়িয়েই থাকেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আবারও কক্ষে প্রবেশ করেন মা। তারা দু’জন বারবার অধ্যক্ষের কাছে ক্ষমা চাইতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত অন্যদের সঙ্গে ব্যস্ত হয়ে পড়েন অধ্যক্ষ। এরপরেও দু’য়েকবার তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন অরিত্রীর বাবা-মা।

কিন্তু, তাদের সব চেষ্টাই নিষ্ফল হয়। শেষ পর্যন্ত বিমর্ষ হয়ে মাথা নিচু করে কক্ষ ত্যাগ করেন তারা। এরপর বাসায় গিয়ে দেখেন তাদের মেয়ে গলায় ফাঁস নিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে।

জানা যায়, বার্ষিক পরীক্ষায় নকলের অভিযোগে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী ও মা বিউটি অধিকারীকে ডেকে পাঠায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষ। প্রথমে তারা প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রিন্সিপালের কাছে যান। কিন্তু, তিনি তাদের অপমান করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এসময় মেয়ের টিসি নিয়ে যেতে বলা হয়।

পরে অরিত্রীর বাবা-মা অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌসের কক্ষে যান। সেখানেও মেয়ের সামনেই একই ধরণের আচরণের মুখোমুখি হন তারা।

এ সময় অরিত্রী অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বেরিয়ে দ্রুত বাসায় ফিরে যায়। পরে তার বাবা-মা বাসায় গিয়ে দেখেন, অরিত্রী তার কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে।

অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় প্ররোচনা দানের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ৩ শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন-অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, বেইলি রোড শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক জিনাত আরা এবং ক্লাস টিচার হাসনা হেনা।

রাজধানীর পল্টন থানায় অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী বাদী হয়ে মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) একটি মামলা করেন।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ