আনিসুলের পথেই হাটছেন কুমিল্লার কৃতিমুখ আতিকুল

নাসির উদ্দিন তন্ময়ঃ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কুমিল্লার কৃতি সন্তান, তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠনের (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলামকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখাও করেছেন তিনি। এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন নির্বাচনের।

আতিকুলের বাড়ি কুমিল্লার তিতাস উপজেলার লালপুর গ্রামে। ৬ বোন ও ৫ ভাইয়ের মাঝে আতিকুল সবার ছোট। তাঁর ভাই তাফাজ্জাল ইসলাম প্রধান বিচারপতি ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আপিলের রায় দেন। তাঁর আরেক ভাই মইনুল ইসলাম সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রধান ছিলেন। বিডিআর বিদ্রোহের পর তাঁকে এই বাহিনীর প্রধান করা হয় এবং তাঁর আমলেই বিডিআরের নাম পরিবর্তন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) করা হয়।

আতিকুল ইসলাম বিজিএমইএর সভাপতি ছিলেন ২০১৩-১৪ মেয়াদে। বর্তমানে তিনি ইসলাম গার্মেন্ট লিমিটেডের পরিচালক এবং পোশাক খাতের শ্রম পরিস্থিতি ও পণ্যের মান উন্নয়নে গঠিত ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ফর বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রিজ’-সিবাইয়ের সভাপতি।

নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা বলেছেন, গত সপ্তাহে আতিকুল গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। তখনই তাকে ‘গ্রিন সিগনাল’ দেওয়া হয়।

এরইমধ্যে আতিকুলের ছবি সম্বলিত ব্যানার-পোস্টারে ছেয়ে গেছে তেজগাঁও ও ফার্মগেইট এলাকা।

আতিকুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নৌকা প্রতীক নিয়ে মেয়র নির্বাচন করতে নিজের আগ্রহের কথা সরাসরিই জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আতিকুল ইসলাম সম্পর্কে আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের মূল্যায়ন হচ্ছে তাঁর বদনাম নেই, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি আছে। পারিবারিকভাবেও তাঁদের একটা অবস্থান আছে।  গুলশান-বারিধারার মতো অভিজাত এলাকা নিয়ে গঠিত এই সিটি করপোরেশনের জন্য পারিবারিকভাবে পরিচিত ও ব্যবসায়ীকে বেছে নিলে সুফল মিলবে।

ডিএনসিসির নির্বাচন সম্পর্কে ব্যবসায়ী আতিকুল বলেন, আনিসুল ভাইয়ের (মরহুম মেয়র আনিসুল হক) জায়গায় প্রধানমন্ত্রী আমাকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে পছন্দ করেছেন। তাই আমার প্রথম কাজ হবে আনিসুল হকের অসমাপ্ত কাজ সম্পূর্ণ করা। তার দেখা স্বপ্নের ঢাকা বাস্তবায়ন করা। আর তা করতে পারলেই আনিসুল হকের আত্মা শান্তি পাবে। ঢাকাবাসীও স্বস্তি পাবে।