ডেস্ক রিপোর্টঃ ‘এইমাত্র মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে ডুয়েট গান করার অফার পেলাম। কী করব বুঝতে পারছি না। বন্ধুদের পরামর্শ চাই।’ নারী উদ্যোক্তা, জয়যাত্রা টেলিভিশনের চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক হেলেনা জাহাঙ্গীর সম্প্রতি নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাসে এমন কথা লিখেন। তাঁর স্ট্যাটাসে বেশ সাড়া ফেলে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হন এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান। নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে ফোন করেন হেলেনা জাহাঙ্গীরকে। কড়া ভাষায় কথা বলেন তাঁর (হেলেনা জাহাঙ্গীর) সঙ্গে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে হেলেনা জাহাঙ্গীরের এর ফোনালাপের অডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।

ফোনালাপে ড. মাহফুজুর রহমান বলেন, আমাকে নিয়ে ফেসবুকে আপনাকে স্ট্যাটাস কে দিতে বলছে?

হেলেনা জাহাঙ্গীর : ভাইয়া, আমাকে কয়েকজন অফার করছে আপনার সঙ্গে গান গাওয়ার জন্য।

ড. মাহফুজুর রহমান বলেন : মানুষ অফার করলেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেবেন? ফাজিল মার্কা কাজ করেন। কতটুকু ফাজিল হইলে মানুষ এমন কাজ করে। আপনি এর আগেও ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে আমাকে ডুবাইছেন। কোয়ালিটি থাকলে নিজের পায়ে দাঁড়ান। এসবের মাঝে আমাকে কোনো জড়াইছেন। আপনি কি গাঁধা? যে একজন বললেই লিখবেন।

হেলেনা জাহাঙ্গীর : এখানে কি খারাপ কাজ হয়েছে কিছু?

ড. মাহফুজুর রহমান বলেন : কেন হয়নি, আজাইরা কথা। আপনাকে কি আমি রিকোয়েস্ট করছি যে আপনার সঙ্গে ডুয়েট করব?

হেলেনা জাহাঙ্গীর : না, আপনি করেননি; যাঁরা গানের ক্যাসেট বের করেন, তারা অফার দিয়েছেন। আপনি কেন অফার করবেন।

ড. মাহফুজুর রহমান বলেন : আপনার মতো গাঁধা দুনিয়ার লোক না। পারলে নিজের কোয়ালিটি দিয়ে পপুলার হন। আপনি কি আমার নাম জড়ানোর আগে আমাকে জিজ্ঞাসা করেছেন?

হেলেনা জাহাঙ্গীর : আপনি কি পড়েছেন লেখাটা, এখানে কী লিখা আছে আপনি অফার করছেন? আপনি রাগারাগি করছেন কেন। আপনি কি পড়েছেন?

ড. মাহফুজুর রহমান বলেন : অবশ্যই, সকাল বেলায় দু-তিনজন আমাকে দেখিয়েছে লেখাটা।

হেলেনা জাহাঙ্গীর : এখানে কী লেখা আছে?

ড. মাহফুজুর রহমান বলেন : আপনি লিখেছেন ‘এইমাত্র মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে ডুয়েট গান করার অফার পেলাম।’ তার মানে কি মাহফুজুর রহমান আপনাকে অফার করেছে?

হেলেনা জাহাঙ্গীর : আমাকে কয়েকজন সাংবাদিক অফারটা করেছে। এটা কি আমি লিখতে পারি না। সেখানে তো লেখা নেই যে আপনি আমাকে অফার করছেন।

ড. মাহফুজুর রহমান বলেন : আপনি আমার নাম জড়ানোর আগে আমাকে কি জিজ্ঞেস করেছেন?

এর পর আরো রেগে গিয়ে ‘চুপ’ বলে ফোনটা কেটে দেন মাহফুজুর রহমান।

বিষয়টি নিয়ে এনটিভি অনলাইন থেকে কথা বলতে চাইলে ফোন ধরেননি হেলেনা জাহাঙ্গীর। এসএমএস করা হলে তারও কোনো উত্তর দেননি তিনি।

তবে তার আগেই তিনি নিজের ফেসবুকে এ নিয়ে দুটি পোস্ট দিয়েছেন। ৩০ মে তিনি লিখেন, ‘গতকালের ফেসবুকের স্ট্যাটাসে কোথাও কি লিখা ছিল ডঃ মাহফুজুর রহমান নিজে আমাকে ডুয়েট গান করার ওফার করেছে???’

সেদিনই হেলেনা জাহাঙ্গীর তাঁর ফেসবুকে আরেকটি স্ট্যাটাস দিয়ে লিখেন, ‘দিন শেষে আমি একজন সফল উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, সফল কন্যা-জায়া-জননী। বাংলাদেশের স্বনামখ্যাত সিআইপি। আমি বিশ্বাস করি একজন নারীকে কিভাবে সম্বোধন করতে হয়, সম্মান করতে হয় তা সকলেই জানেন। বিশেষ করে ড. মাহফুজুর রহমানের মতো মানুষদের কাছে এ প্রত্যাশা আরো বেশি। আশা করি সকল মানুষের প্রত্যাশা পুরনে ড. মাহফুজসহ অন্যরাও পৃথিবীর সকল নারীকে সম্মান করবেন এবং সেমতেই বাক্যও উচ্চারন করবেন। আমরা সেদিনের অপেক্ষায়। সুস্থ্য থাকুন ড. মাহফুজের মতো সকলেরাই।’

আসন্ন ঈদে একক সংগীতানুষ্ঠানে দেখা মিলবে ড. মাহফুজুর রহমানের। তারই মালিকানাধীন চ্যানেল এটিএন বাংলায় অনুষ্ঠানটি প্রচার করা হবে। এরই মধ্যে বেশ কটি গানের রেকর্ডিং ও ভিডিও ধারণ শেষ হয়েছে। বিশ্বের নানা দেশের লোকেশনে চিত্রায়িত হচ্ছে গানগুলো।

দেশের প্রথম স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান। এটিএন নিউজেরও চেয়ারম্যান তিনি। একসময় তিনি ছিলেন সফল পোশাকশিল্প (গার্মেন্ট) ব্যবসায়ী। একাধিকবার জাতীয় রপ্তানি ট্রফিও পেয়েছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত চ্যানেল এটিএন বাংলা পেয়েছে এমি অ্যাওয়ার্ডসহ বহু পুরস্কার। গান গাইতে ভালোবাসেন তিনি।

২০১৬ সালে মাহফুজুর রহমান ‘হৃদয় ছুঁয়ে যায়’ শিরোনামে প্রথম একক গানের অনুষ্ঠান করেন। ২০১৭ সালের ঈদুল ফিতরে প্রচারিত হয় তাঁর গান নিয়ে অনুষ্ঠান ‘প্রিয়ারে’। একই বছর তাঁর একক সংগীতানুষ্ঠান ‘স্মৃতির আলপনা আঁকি’ ব্যাপক আলোচিত হয়। গত বছর তাঁর একক সংগীতানুষ্ঠান ‘বলো না তুমি কার’ এটিএন বাংলায় প্রচারিত হয়।

তবে ড. মাহফুজুর রহমানের গাওয়া গান নিয়ে যাঁরা সমালোচনা কিংবা আলোচনা করেন, এসব নিয়ে একদমই চিন্তা করেন না তিনি। তিনি বলেন, ‘বিশেষ একটা শ্রেণি আছে, যারা সব সময় আমার পেছনে লেগে থাকে। আমি ভালো করলেও পেছনে কথা বলে, আবার খারাপ কিছু করলেও করে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ফেসবুক পছন্দ করি না। ফেসবুকের ইতিবাচক অনেক ব্যাপার আছে। কিন্তু তরুণ প্রজন্ম এটার অপব্যবহার বেশি করছে।’

মাহফুজুর রহমানের গাওয়া উল্লেখযোগ্য গানগুলো হলো ‘স্মৃতির আলপনা আঁকি’, ‘কত সুন্দর তুমি’, ‘একা থাকার যন্ত্রণা’, ‘একটা মন দাও’ ইত্যাদি।

গান গাওয়ার পাশাপাশি মাহফুজুর রহমান ‘স্মৃতির আলপনা আঁকি’ শিরোনামে একটি উপন্যাসও প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া ‘ভালোবাসি তোমাকে’, ‘আরো সাবধান’, ‘বিদ্রোহ চরিদিকে’ এই চলচ্চিত্রগুলোর গল্প তাঁর লেখা ছিল।

সূত্রঃ এনটিভি