দলীয় ৬০ রানের মাথায় সাব্বির রহমান আউট হবার সাথে সাথেই মাঠে থাকা দর্শকদের মধ্যে নিরবতা দেখা যায়। কারণ এসময় উইকেট হারিয়েছিল ৬টি। মনে হচ্ছিল হেরে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

এসময় মাঠে নামে আফিফ হোসেইন। তার ঝড়ো ব্যাটিং এ আবার মাঠে উত্তেজনা দেখা দেয়। মারমুখি ব্যাটিংয়ে ভয় পেয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। পর পর কয়েকটি বাউন্ডারিতে দর্শক ফিরে পায় প্রাণ। দেখতে শুরু করেছিল জয়ের স্বপ্ন। মাত্র ২৪ বলে ৫০ রান পূর্ণ করে আফিফ। এর পর ব্যক্তিগত ৫২ রানে ফিরে যায় আফিফ। আবার নিরবতা।

এরপর সত্যি অধরা জয় ধরা দেয়া বাংলাদেশের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে প্রথম খেলায় প্রথম জয় পেল বাংলাদেশ। এক কথায় বলা যায়য় আফিফের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ এই জয় লাভ।

দলীয় ২৯ রানে যখন ৪ উইকেট হারিয়ে সাফরকারী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ধুঁকতে ছিল টাইগারা। সেই বির্পযয় থেকে রানের চাকা সচল করে মাহমুদুল্লাহ-সাব্বির। তাদের ব্যাটিং নৈপুণ্যে এগুতে থাকে বাংলাদেশ কিন্তু দলীয় ৫৬ রানে আবারও ছন্দ পতন হয়।

রায়ান ব্রুলের বলে এলবিডব্লিউ ফাঁদে পরে সাজঘরে ফিরে যায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি এই ব্যাটসম্যানের। কিছু পরেই আবারও টাইগার শিবিরে রায়ান ব্রুলের আঘাত এবার তার শিকার সাব্বির রহমান। বাউন্ডারির থেকে দূর্দান্ত ক্যাচ নেন নেভিল মাদজিভা। তবে মাঠে নেমেই চমক দেন দুই তরুণ ক্রিকেটার মোসাদ্দেক হোসেন ও আফিফ হোসেন। মূলত এই দুই ব্যাটসম্যানের ব্যাটিং নৈপুণ্যে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

ইনিংসের শুরুতে ২৬ রানে টেন্ডাই চাতারার বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যায় লিটন কুমার দাস। আউট হওয়ার আগে এই ব্যাটসম্যান করেন ১৪ বলে ১৯ রান। এরপর সোউম্যকে সঙ্গ দিতে ক্রিজে আসেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তবে ইনিংস বড় করতে ব্যার্থ ছিলো সৌম্য। কাইল জারভিসের বলে নেভিল মাদজিভাকে ক্যাচ দিয়ে ৭ বলে ৪ রান করে সাজঘরে ফিরে যায় সৌম্য সরকার।

এরপর অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে সঙ্গ দিয়ে ক্রিজে আছেন মিস্টার ডিপেন্ট ডাবল। তিনিও জারভিসের বলে ০ রান করে আউট হয়ে যায়। সবাই যখন ব্যাট হাতে ব্যর্থ তখন আসা জাগিয়েছিল অধিনায়ক সাকিব আল হাসান কিন্তু মুশফিকের কিছু পরে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিবও সবার দেখানো পথে হাঁটেন।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খুবই বাজে হয় জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার ব্রেন্ডন টেলর ও হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম বলেই প্যাভিলিয়নে ব্রেন্ডন টেলর। আর অভিষেক ম্যাচেই টাইগারদের হয়ে দারুন সূচনা এনে দেন তাইজুল ইসলাম। প্রস্তুতি ম্যাচে ফিফটি করা ব্রেন্ডন টেলর স্লগ সুইপ করতে গিয়ে আউট হয় তিনি।

টেলর আউট হওয়ার পর ক্রেগ এরভিনকে সাথে নিয়ে জিম্বাবুয়ের রানের চাকা সচল করেন অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। এরপর টাইগার বোলাদের আক্রমনাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকে এই দুই ব্যাটসম্যান। তবে তাদের ছন্দ বেশিক্ষণ ধরে রাখতে দেয়নি কাঁটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। ছক্কা হাকাতে গিয়ে মোসাদ্দেক হোসেন হাতে ধারা পরে এরভিন। এই ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার আগে করে ১৪ বলে ১১ রান। এরপরই বল করতে আসনে সাইফুদ্দিন। সাইফুদ্দিনের বলে আউট হন মারুমা। পরের ওভারেই মোসাদ্দেকের বলে আউট হন বিপদ জনক হয়ে ওঠা মাসাকাদজা।

যার ফলে দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পরে জিম্বাবুয়ে। তবে সফরকারীদের চাপ আরোও বাড়ায় যখন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের বলে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যায় সন উইলিয়ামস। আউট হওয়ার আগে এই ব্যাটসম্যান করেন ৩ বলে ২ রান। এর কিছু পরেই রান আউটে কাটা পরেন টিমেনসেন মারুমা। আউট হওয়ার আগে তিনি করেন ২ বলে ১ রান। শেষের দিকে মুটম্বোডজি ও রায়ানের ব্যাটিং নৈপুণ্যে মামুলি স্কোর পায় জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশ একাদশ: লিটন কুমার দাস, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন, আফিফ হোসেন, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, তাইজুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান।

জিম্বাবুয়ে একাদশ: ব্রেন্ডন টেলর, হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, রায়ান বার্ল, ক্রেগ এরভিন, সন উইলিয়ামস, টিমেনসেন মারুমা, টিনোতেডা মুটম্বোডজি, টনি মুনিয়ঙ্গা, নেভিল মাদজিভা, কাইল জারভিস, টেন্ডাই চাতারা।