ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে উপকূলীয় বাগেরহাটে বুধবার সকাল থেকে দমকা ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছে। বাগেরহাটসহ উপকূলবর্তী এলাকায় এরইমধ্যে থেমে থেকে বৃষ্টি আর দমকা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। এছাড়া নদ-নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে আট ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার (২০ মে) সকাল থেকে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হওয়ায় উপকূলের মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। এছাড়াও আশ্রয় কেন্দ্রে ৯০ হাজারের অধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আশংকায় উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের বুধবার সকাল পর্যন্ত জেলার ৯৭৭টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে এক লাখ ৩০ হাজারের অধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এদের মধ্যে বয়স্ক নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রতিবন্ধীই বেশি রয়েছেন। দুর্গত মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে নিতে জেলায় প্রায় বারো হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি আশ্রয় কেন্দ্রের এসব মানুষদের খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও মোমবাতি সরবরাহ করেছে। এসময় ১৩ হাজার গবাদি পশু আশ্রয় কেন্দ্রে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঝড় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সমন্বয়কারী বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কামরুল ইসলাম। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানান, বুধবার বেলা ১২টা পর্যন্ত জেলার এক হাজার ৩১টি সাইক্লোন শেল্টারে এক লাখ ৩০ হাজার উপকূলবাসী আশ্রয় নিয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব মেনেই এসব মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। সেখানে প্রবেশের আগে সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশ্রয় নেয়া মানুষদের মাঝে শুকনা খাবার, পানিসহ অন্যান্য খাদ্য সরবারহ করা হয়েছে। জেলায় ৮৪টি মেডিকেল টিম ও ১১ হাজার ৭০৮ জন সেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে এবং বিভিন্ন উপজেলায় ২০০ মেট্রিকটন চাল, নগদ সাত লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।