ডেস্ক রিপোর্টঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা ও ইসি সচিবের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে এবার চার কমিশনার ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছেন। এর আগে ইভিএম ব্যবহারের বিধান যুক্তের বিরোধীতা করে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে কমিশনের সভা বর্জন করেন।

গত সোমবার বিকালে ইসি সচিবকে চার কমিশনার এই নোট দিয়েছেন বলে জানা গেছে। নোটে নির্বাচন কেন্দ্রিক কার্যক্রমে তাদের মতামত নিতে বলা হয়েছে। এই নোটের একটি কপি সিইসি বরাবরও দেওয়া হয়েছে। ইসি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বিডি২৪লাইভকে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি নোট দেওয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করেননি।

>>আরো পড়ুনঃ  এখানে এক থালা স্বপ্ন ছিল কর্তব্য বুঝি গরিবের বেলায় প্রযোজ্য?

নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কিছু ইন্টারনাল (অভ্যন্তরীন) বিষয় আছে সে বিষয়গুলোকে আমরা উপস্থাপন করতে বলেছি। এটা ‘ইউনোট’ তো বটেই। আসলে আমরা যখন কিছু চেয়ে পাঠাই তখন ইউনোট দিয়েই চেয়ে পাঠাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কিছু তথ্য জানতে চেয়েছি। যে জিনিসগুলো ওনারা আমাদের দেবেন।’

চার কমিশনার মিলে একটি নোট দিয়েছেন জানিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘ওনারা একটি নোট দিয়েছেন। সেখানে বলেছেন, নির্বাচন কার্যক্রম সম্পর্কে যেন ওনাদের জানানো হয়।’

জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই মতপার্থক্যের শুরু। সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিধান যুক্তের বিরোধীতা করেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। নোট অফ ডিসেন্ট দিয়ে তিনি কমিশন সভা বর্জন করেন। এ বিষয়ে অপর তিন কমিশনার সিইসির সঙ্গে একমত পোষণ করে আরপিও সংশোধনের সুপারিশ অনুমোদন করেন।

>>আরো পড়ুনঃ  মারা গেছেন সিআইডির জামাল আহমেদ

গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত ফেমবোসা সন্মেলন কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। সার্কভক্ত দেশগুলোর নির্বাচন কমিশনারদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক এই সন্মেলনে প্রস্তুতি-অনুষ্ঠান সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনারদের মতামত গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গেছে। এছাড়া অনুষ্ঠান কিভাবে হবে তাও তাদের জানানো হয়নি। সিইসি ও সচিবের পরিকল্পনা অনুসারে সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এদিকে গত ২২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। এই বিষয়েও চার কমিশনারের মতামত নেওয়া হয়নি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও সিইসি ও সচিব ছিলেন। চার কমিশনারের কেউকে দেখা যায়নি। এই প্রশক্ষিণ বিষয়ে তাদের মতামত গ্রহণ এবং আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে জানা গেছে।

এছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে সিইসি নির্বাচনী সফর শুরু করেছেন। ইসি সচিবেরও নির্বাচনী সফরের তারিখ নির্ধারন করা হয়েছে। তবে এখনও চার নির্বাচন কমিশনারের নির্বাচনী সফরের বিষয়ে কিছু ঠিক হয়নি বলে জানা গেছে।

>>আরো পড়ুনঃ  ঈদের দিন আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা

ইসি সূত্র জানায়, আগে কমিশন সভার ছাড়াও অন্য দিনগুলোতে সব কমিশনার সিইসির কার্যালয়ে চা খেতে বসতেন। সম্প্রতি তারা প্রয়োজন ছাড়া যাচ্ছেন না। চার কমিশনার মিলে একেক দিন একেক কমিশনারে রুমে বসেন।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ