ডেস্ক রিপোর্টঃ জাতীয় দলের উদীয়মান ক্রিকেটার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করছেন তার স্ত্রী সামিয়া শারমিন। ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নং আমলী আদালতে এই মামলাটি দায়ের করা হয়।

মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের সাথে তার আপন খালাত বোন সামিয়া শারমিন সামিয়ার বিয়ে হয় ২০১২ সালের ২৮ অক্টোবর। বিয়ের পূর্বে খালাত বোন সামিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও দুই পরিবারের সম্মতিক্রমে পারিবারিক পরিবেশে কন্যার নিজ বাসায় বরের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়।

মামলার ১ নম্বর স্বাক্ষী, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের স্ত্রীর বড় ভাই মোজাম্মেল কবির বলেন, ‘সৈকত (মোসাদ্দেক হোসেন) আমার খালাতো ভাই। পারিবারিকভাবে মেলামেশা থেকেই আমার ছোট বোন সামিয়া শারমিনের সাথে পরিণয় এবং যা পরবর্তীতে বিয়েতে গড়ায় এবং আমরা বিষয়টা মেনেও নেই। ছয় বছর আগেই তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কয়েক বছর ভাল কাটলেও যখনই মোসাদ্দেক সৈকত জাতীয় দলে নিয়মিতভাবে সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই তার নৈতিক স্থলন ঘটতে শুরু করে।’

মোসাদ্দেকের বিপক্ষে করা মামলার কপি এবং পাশে তার বিয়ের কাবিননামা

মোজাম্মেল অভিযোগ করে বলেন, ‘সে (মোসাদ্দেক) ঘরে বসে বন্ধুদের নিয়ে মদপান করতে শুরু হরে। অন্য নারীতে আকৃষ্ট হওয়া, তথা নানা অসামাজিক কার্যক্রমে লিপ্ত হতে থাকে। আমার বোন তাকে ওইসব অসামাজিক কার্যক্রম বন্ধের কথা বলতেই সে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে। তা থেকেই শুরু হয় বিবাদ ও দূরত্ব। আমরা বুঝতে পারি তারকা খ্যাতি, নাম-ডাক ও অর্থ তাকে বদলে দিয়েছে।’

এ বিষয়ে মামলার বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম দুলাল বলেন, যৌতুকের দাবিতে মোসাদ্দেক দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রীকে নির্যাতন করে আসছিলেন। গত ১৫ আগস্ট দুপুরে তিনি ফের ১০ লাখ টাকা যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে নির্যাতন করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। রোববার দুপুরে সদর আমলি আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রোজিনা খানের আদালতে উষা নির্যাতনের অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিকেলে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বিষয়ে মোসাদ্দেক ও তার স্ত্রী উষার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কল সিরিভ করেননি।

মোসাদ্দেকের ছোট ভাই মোসাব্বের হোসেন মুন বলেন, ৬ বছর আগে মোসাদ্দেকের সঙ্গে উষার বিয়ে হয়। সে সম্পর্কে আমাদের খালাতো বোন। তার বাসা নগরীর চৌরঙ্গী মোড়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দু’জনের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিলনা।

গত ১৫ আগস্ট ভাই তাকে ডিভোর্স লেটার পাঠান। কিন্তু উষা বিয়ের কাবিন নামার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ ভাইয়ের কাছে দাবি করেছিলো। ভাই সেই টাকা না দেওয়ায় মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে এই মামলা দায়ের করেছেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে নারী নির্যাতনের কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের বেশ কিছু ক্রিকেটার। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রুবেল হোসেন, নাসির হোসেন, আরাফাত সানি, সাব্বির রহমান ও মোহাম্মদ শহীদ।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: