মাসুদ সাহেব থাকেন মিরপুরের ৬০ ফিটে। চাকুরি করেন একটি অনলাইন গণমাধ্যমে। প্রতিদিনই ছুটে যেতে হয় কর্মস্থলে। কর্মস্থলে এবং কর্মের জন্য ব্যবহার করেন মোটরসাইকেল। যানজটের কারনে প্রতিদিন মিরপুর থেকে মতিঝিলে অফিস করতে ১ ঘণ্টা পূর্বে বের হোন তিনি। কয়েকদিন গাড়ির চাপ কম থাকায় খুব বেশি সময় হাতে নিয়ে বের হননা। আজ (২৬ মার্চ) কি মনে করে একটু আগেভাগেই বের হলেন। রাস্তায় বের হয়ে চক্ষু চরখগাছ। শুনশান নীরবতা। রাস্তায় নেই লোকজন। উৎসুক মন, তাই সংবাদের তাগিতে ঘুরে দেখলেন শহরের আরও কয়েকটি রাস্তা। ঘুরলেন শ্যামলি, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, শাহবাগসহ আরো কয়েকটি প্রধান প্রধান সড়ক। কিন্তু একি সব জায়গাতেই একই অবস্থা!

রাস্তায় দু’একটি রিক্সা চোখে পড়লেও তাতে যাত্রী নেই বললেই চলে। এছাড়া সব রকম গণপরিবহন বন্ধ থাকায় কোন গাড়িই চোখে পড়েনি। মাঝে মধ্যে টহলরত কয়েকটি র‌্যাবের গাড়ি চোখে পড়ে। অনেকের কর্মস্থল ছুটি না থাকায় তাদের হেঁটেই কর্মস্থলে ছুটে যেতে দেখা যায়। কথা হয় আসিফ নামে এক কর্মজীবির সাথে। তিনি বলেন, ‘পেটের তাগিদে কাজ করতে যেতে হচ্ছে। কনস্ট্রাকশনের কাজ করি।’ শ্যামলি মোড়ে কয়েকজন ট্রাফিক পুলিশকে অলস সময় পার করতে দেখা যায়। তারা কি করছেন, প্রশ্ন করতেই বলে উঠলেন, ‘সরকারি চাকুরি ভাই দায়িত্ব পালন করছি।’ একদিকে গণপরিবহন বন্ধ অন্যদিকে আজ স্বাধীনতা দিবস। দুই মিলে আজ যেন এক অন্যরকম ঢাকা। অনেকেই বলছে, এমন ঢাকা দেখেনি আগে। করোনা আতঙ্কে ঘর থেকে বের হচ্ছেনা সাধারন মানুষ। এমন আতঙ্ক খুব শ্রীঘই কেটে যাবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের। ঢাকা ফিরবে তার আপন রুপে, আপন মহিমায়।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী লঞ্চ, যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।’ তবে, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ওষুধ, জরুরি সেবা, জ্বালানি, পচনশীল পণ্য পরিবহন এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। এছাড়া পণ্যবাহী যানবাহনে কোনো যাত্রী পরিবহন করা যাবে না বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: