হয়তো কারও মা বলছে বাবা হাসপাতালে যেও না,দরকার হলে চাকরি ছেড়ে দাও। কারও বাবা দরজা কিংবা বারান্দায় বসে টলটল চোখে সন্তানের চলে যাওয়ার দৃশ্য দেখছে। হাসপাতালে যাওয়া নিয়ে কারও স্বামী বা স্ত্রীর সাথে গৃহবিবাদ চলছে নিয়মিত। কিন্তু তারপরও বিশে^র এ দু:সময়ে দূত হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো যাদের ব্রত তারাতো এসময়ে ঘরে বসে থাকতে পারে না। তাই সবকিছুর মায়া বুকে চাপিয়ে ঝুঁকি নিয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে সবসময় আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারেরা। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বহির্বিভাগে রোগী দেখার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা সেবাও চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কুমিল্লা জেনারেল (সদর) হাসপাতালে সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে ডাক্তারদের রীতিমতো চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যেতে দেখা গেছে।

করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর জ¦র,শ^াসকষ্ট,হাঁচি-কাশি রোগীদের দেখা বন্ধ করে দেয় কুমিল্লার বেশিরভাগ বেসরকারি হাসপাতাল, সেখানে সরকারি নির্দেশনা পালন করে ফ্লু কর্নার চালু করে সরকারি হাসপাতালগুলো। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে ফ্লু কর্নারে করোনার উপসর্গ আছে এমন রোগীসহ সাধারণ সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের দেখা হচ্ছে। এদের মধ্যে যাদের করোনার উপসর্গ আছে তাদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে পাঠানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত দুইজন রোগীকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে।

ফ্লু কর্নারে নির্দিষ্ট সময় ছাড়াও অন্যান্য সময়ে জরুরি বিভিাগে এ ধরনের রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল নিয়মিত পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি করোনার সংক্রমণ হতে পারে এমন স্থানে নিয়মিত জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে। হাসপাতালে দর্শনার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মাস্ক ছাড়া কাউকে হাসপাতালের ভেতর প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। অন্যান্য সব ওয়ার্ডে সরকারি নির্দেশনা মাফিক রোগী দেখা অব্যাহত আছে। দূরের রোগীদের জন্য চালু আছে ৫টি হটলাইন নম্বর। ক্যান্টিন বন্ধ থাকায় ডাক্তাররা যেন খাবারে কষ্ট না পান সেজন্য হাসপাতাল থেকে সকল ডাক্তার,নার্স, কর্মকর্তা,কর্মচারীদের জন্য খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুজিবুর রহমান জানান, আমাদের চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী আছে। সবাইকে সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাড়তি পিপিই মজুদ আছে। সকল বিভাগেই ডাক্তার আছে। তবে যানবাহন বন্ধ থাকায় এবং ভয়ের কারণে দূরের রোগীরা কম ভর্তি হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে ১১শ’-১২শ’ রোগী ভর্তি থাকতো সেখানে রোগী ভর্তি আছে ২৬৪জন। কোনো ডাক্তার যাতে দায়িত্বে অবহেলা না করে সে বিষয়টি মনিটরিং করা হচ্ছে। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দায়িত্বে অবহেলার কারণে দুইজন ডাক্তারকে শোকজ করা হয়েছে।

এদিকে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালেও ফ্লু কর্নার চালু করা হয়েছে। সকল বিভাগে সরকার কর্তৃক বেঁধে দেওয়া সময়ে রোগী দেখা হচ্ছে। ডাক্তারিদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো।

কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান জানান, হাসপাতালের সকল বিভাগ সক্রিয় আছে। যেসব ডাক্তারকে যে ধরনের সুরক্ষা পোশাক দেওয়া দরকার তাদের সে ধরনের পোশাক সরবরাহ করা হচ্ছে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: