বিশ্বকে প্রবলভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। গোটা বিশ্বই এখন কার্যত অচল। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ইতালিত এবং স্পেনে ওষুধ ও খাবারের দোকান বাদে সব বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। চীন থেকে গোটা বিশ্বে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৭ হাজার ১২৫ জন।

বিজ্ঞাপন

যখন প্রাণঘাতী করেনা ভাইরাস বিশ্বের দেড়শোর বেশি দেশ আক্রান্ত করেছে ঠিক তখনি বাংলাদেশে করোনা রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। গত রবিবার (৮ মার্চ) তিন জন করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানান সরকারের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দেশে নতুন করে আরো দুইজন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। এর আগে সোমবার (১৬ মার্চ) আক্রান্ত হয়েছে দুই শিশু ও এক নারী। এ নিয়ে দেশে মোট ১০ জন আক্রান্ত হলো। তাদের মধ্যে তিনজন সুস্থ হয়ে এরইমধ্যে বাড়ি চলে গেছেন।

করোনাভাইরাস আতঙ্কের প্রেক্ষাপটে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে সব ধরনের স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও সরকারী বেসরকারী সকল বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি কোচিং সেন্টারও বন্ধ থাকবে। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুজিববর্ষের কর্মসূচীও। গতকাল সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা পর থেকে প্রায় জনশূন্য ঢাকার রাস্তাসহ বিভিন্ন শপিংমল। আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন যায়গায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। করোনা নিয়ে সাধারন মানুরেষর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে মানুষ ঘর থেকে বাহিরে বের হচ্ছেন না এমনটাই বলছিলেন গণপরিবহনের যত্রীরা। রাজধানীর গণপরিবহনেও তেমন যাত্রী লক্ষ করা যায়নি বলা যায় প্রায় যাত্রী শুন্য চলছে পরিবহন।

এদিকে লক্ষ করা গেছে রাজধানীতে চলাচল করা সাধারন মানুষের চোখে মুখে রয়েছে আতঙ্কের ছাপ। বেশির সংক্ষক মানুষের মুখে রয়েছে মাস্ক। দেখা গেছে অনেকে দুরত্ব বজায় রেখে চলাচল করছেন। করোনা আতঙ্কে বেড়েছে মাস্কের ব্যবহার। এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন অনেক অসাধু ব্যাবসায়ী, কয়েকগুন বেশি দামে বিক্রি করছেন মাস্ক। এদিকে মাস্কের চাহিদা বাড়ায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফুটপাতের দোকানে বেড়েছে মাস্ক বিক্রি।

চীন থেকে গোটা বিশ্বে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। এর মধ্যে ইতালির অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। দেশটিতে কয়েক দিন ধরে মৃত্যুর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৩৪৯ জনের। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৮২ হাজার ৪৭ জন বলে জানা গেছে। এর একদিন আগে মারা গেছে ৩৬৮ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ১৫৮ জনে।

ইতালির পরই স্পেনের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় গিয়ে পৌঁছেছে। সেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪২ জনে। এ ছাড়া মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ৯৪২ জন। জরুরি অবস্থা জারির ফলে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের রাস্তায় আসা মানুষদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করছে পুলিশ। মেট্রো ট্রেনগুলোও সব জনশূন্য।

অন্যদিকে ফ্রান্সে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা ১৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ছয় হাজার ৬৫৩ জন। চীনের জনশূন্য শহরের মতো রূপ পেয়েছে ফ্রান্সের প্যারিস। প্যারিসের যে সড়কে লাখো মানুষের চলাচল ছিল, জরুরি অবস্থা জারি করার পর সেগুলো এখন জনশূন্য। এ ছাড়া স্কুল-কলেজ সব বন্ধ। অফিস-আদালত, ক্যাফে কিছুই খোলা নেই। দেশটিতে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্বখ্যাত পারফিউম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলভিএমএইচ এবার হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি শুরু করেছে, যা বিনামূল্যে ফরাসি নাগরিকদের বিতরণ করা হবে।

এদিকে করোনাভাইরাস ঠেকাতে সোমবার থেকে ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক ও লুক্সেমবার্গ সীমান্তে কড়াকাড়ি আরোপ করে জার্মানি। দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে সাত হাজার ২৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। করোনাভাইরাসের ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে আজ মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্স করার কথা রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতাদের। যুক্তরাজ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আক্রান্ত হয়েছেন দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় যুক্তরাজ্য সরকার বয়স্কদের সেলফ আইসোলেশনে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতিও খুব একটা ভালো নয়। সেখানে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮১ জনের। এ ছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মানুষ। করোনা আতঙ্কে নিত্যপণ্যের দোকানে গিয়ে বেশি বেশি কেনাকাটা করে মজুদ করছেন মার্কিনিরা।