ডেস্ক রিপোর্টঃ প্রাচীন আর সমৃদ্ধশালী জেলাগুলোর নাম বললে কুমিল্লার নামটা একদম উপরের দিকেই আসে , আর এ কারণে কুমিল্লা জেলাকে নিয়ে দেশের মানুষের একটা আলাদা আগ্রহ আছে । কুমিল্লা জেলাতে ঘুরে দেখার কি আছে এ নিয়ে হরহামেশাই প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয় ,কিভাবে আসবো কুমিল্লা ? ঘুরে দেখার জায়গাগুলোতে কিভাবে যাবো ? খাবো কোথায় ?

প্রথমেই আসি কুমিল্লাতে দেখার মতো কি আছে যার টানে আপনি কুমিল্লা আসবেন ? অনেক জায়গা আছে যা দেখার জন্য আপনি রসমলাই এর জন্য বিখ্যাত কুমিল্লা জেলায় ঘুরে আসতে পারেন। তাহলে শুরু করা যাক ? আজকে আপনাদের সাথে আলোচনা করব রূপবান মুড়া ও ইটাখোলা মুড়া নিয়ে।

কুমিল্লার প্রাচীন উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক স্থানসমূহের মধ্যে রূপবান মুড়া অন্যতম। এ স্থানটি দেখতে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা ভিড় করে এখানে। রূপবান মুড়াতে সর্বপ্রথম খননকার্য শুরু হয় দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়। পরবর্তীতে ১৯৮৪, ‘৮৫ এবং ‘৮৬ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এখানে আরও তিন দফা খনন কাজ করে। এখানকার মন্দিরটিকে বিহারের বাইরে আলাদা স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে মন্দিরটি ঐতিহ্যগতভাবে চতুর্মুখী ও বর্গাকৃতি ভূমি নকশায় নির্মিত এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে একে ক্রুশাকৃতির রূপ দেয়া হয়।

রূপবান মুড়ায় প্রত্নতাত্তি্বক খননের ফলে একটি বিহার, একটি মন্দির, একটি ৰুদ্র স্তুপ ও একটি উচ্চ মঞ্চের স্থাপত্য নিদর্শন উন্মোচিত হয়। এ নিদর্শনগুলোর মধ্যে তিন আমলের অস্তিত্ব রয়েছে। এর মূল নির্মাণসামগ্রী ছিল ইট ও কাদা। রূপবান মুড়ার প্রায় মাঝামাঝি অংশে একটি পূর্বমুখী প্রাচীরঘেরা চত্বরের পশ্চিম অংশজুড়ে মন্দিরটির অবস্থান। এর পিছনের অংশটি মূর্তি কোঠা এবং সামনের অংশটি মন্ডপ। মন্ডপে বাতি জ্বালিয়ে রাখার জন্য খোপ ছিল। প্রতিটি মূর্তি কোঠায় একটি করে দেবীও ছিল। পূর্ব দিকের মূর্তি কোঠাটি পাশাপাশি তিনটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। একটি প্রকোষ্ঠে একটি বেলে পাথরের তৈরি দণ্ডায়মান বৌদ্ধমূর্তি ছিল। মন্দিরটির চারদিক প্রথমে প্রদক্ষিন পথ ও পরে প্রাচীর দিয়েও ঘেরা ছিল। 
রূপবান মুড়ায় পাওয়া পুরা বস্তুর মধ্যে রয়েছে পোড়ামাটির ফলক, অলঙ্কৃত ইট, খাদ মিশ্রিত সোনায় তৈরি পাঁচটি গুপ্ত অনুকৃত মুদ্রা, একটি ব্রোঞ্জের হাতল, ত্রিশূল ও লিপিসহ তিনটি রৌপ্য মুদ্রা, একটি ধাতব শিতাতপত্র, একটি ধাতব অমিতাভ, লোহার পেরেক, ধাতব মুদ্রার টুকরা ইত্যাদি। এই ইমারত থেকে প্রায় ৫০ গজ দৰিণ-পূর্ব দিকে পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা প্রায় একটি ইমারতের ধ্বংসাবশেষ আছে। এই ইমারতের চারদিকে অসংখ্য ইষ্টক নির্মিত স্তম্ভ ছিল। এগুলোর নিচের অংশ এখনও টিকে আছে। রূপবান মুড়ায় এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত ও তথ্য প্রমাণের বিচারে প্রথম যুগের মন্দির ও বিহার খ্রিস্টীয় ৮ম-শতাব্দীর পূর্বে নির্মিত হয় বলে ধারণা করা হয়।

ইটাখোলা মুড়াটি প্রাচীনকাল হতে ইটপোড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হতো বলে এই বিহারের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। এই বিহারে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে বড় বড় কিছু বৌদ্ধস্তূপ ও বৌদ্ধ মঠের সন্ধান পাওয়া গেছে। ধারণা করা হয়, এই বিহারটি ৫টি সাংস্কৃতিক যুগ অতিক্রম করেছে। পূর্ববর্তী তিনটি সাংস্কৃতিক কাল পর্যায়ের নিদর্শনগুলো পরবর্তী কালের ধংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে রয়েছে।

যেভাবে যেতে হবেঃ কুমিল্লা-কালিরবাজার সড়কের দক্ষিন পার্শ্বের কোটবাড়ী এলাকায় ভূমি থেকে প্রায় ৪০ ফুট উঁচুতে এটি অবস্থিত। কুমিল্লা শহর থেকে বাস, ট্যাক্সি অটোরিকশা, মাইক্রো কিংবা রিকশা দিয়ে যাওয়া যায় এই রূপবান মুড়াতে।
ইটাখোলা মুড়া অবস্থিত রূপবান মুড়ার উল্টোদিকে।

কোথায় থাকবেনঃ কুমিল্লা শহরে অনেকগুলো ভাল মানের হোটেল আছে। সেখানে থাকতে পারেন। বার্ড খুব কাছে। বার্ডে যোগাযোগ করলে সেখানেও থাকতে পারেন।