কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলায় ১৩টি ইউপি ও একটি পৌরসভায় ফসলের মাঠ জুড়ে রয়েছে সবুজ সবজির সমারোহ।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর এ উপজেলায় শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে।

বসন্তের আগমনী গান যখন প্রকৃতিতে তখনো মাঠ জুড়ে রয়েছে সবজি আর সবজি। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে চান্দিনার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় সহজেই সবজি পরিবহন ও বিক্রি করতে পারছেন কৃষকরা। মাঠে থাকা সবজি আরো এক মাসেরও বেশি সময় পর্যন্ত বাজারজাত করতে পারবেন তারা। ভালো ফসলের পাশাপাশি ভালো দাম পাওয়ায় চান্দিনার কৃষকদের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে তৃপ্তির হাসি।

গত বছরও এ উপজেলার কৃষকরা সবজির ভালো উৎপাদনের পাশাপাশি বাজারমূল্য ভালো পাওয়ায় এ বছর ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে সবজি চাষে তারা মনোযোগী হয়েছেন। চলতি বছর গত বছরের তুলনায় ১২০ হেক্টর বেশি জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চান্দিনার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মাজেদুল ইসলাম।

চান্দিনার উপজেলা সংলগ্ন এলাকাসহ পুরো উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ জুড়ে যেদিকে চোখ যায় সেদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ। শীতের সবজির এ উৎপাদন বিপ্লবে খুশি স্থানীয় কৃষকরা। প্রতি বছর এ উপজেলায় সবজির চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজার জাত করছেন চাষিরা। চান্দিনার মাটি সবজি চাষের অনুকূল হওয়ায় জেলার অন্য অঞ্চলের তুলনায় এ উপজেলার সবজির আকার বড় হয় এবং স্বাদেও কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে।

চান্দিনা উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী এবছর চান্দিনায় ১ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদ করা হয়। যা গত বছরের তুলনায় ১২০ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে ৫৩০ হেক্টর জমিতে টমেটো, ৬০ হেক্টর জমিতে সরিষা, ৭৫ হেক্টর জমিতে ফুলকপি, ২০ হেক্টর জমিতে বাধাকপি, ৭০ হেক্টর জমিতে লালশাক, ৫০ হেক্টর জমিতে বেগুন, ৭০ হেক্টর জমিতে লাউ, ৬০ হেক্টর জমিতে সীম, ৮০ হেক্টর জমিতে মূলা, ৫০ হেক্টর জমিতে শসা চাষ করা হয়।

এছাড়া মিষ্টি কুমড়া, ক্ষিরা, বরবটি, পালংশাক, ডাটা, ঝিংগা, ঢেঁড়স, করলা ও উচ্ছে ইত্যাদি শীতকালীন সবজিরও বাম্পার ফলন হয়েছে।

২০১৯-২০২০ মৌসুমে চান্দিনা উপজেলায় ৯ হাজার ৮শত ৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরইমধ্যে অনেক জমিতেই সবজি উঠিয়ে বোরো আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার কৃষকরা।

এদিকে প্রতি বছর শীতকালীন সবজির ব্যাপক ফলন হয় কুমিল্লার চান্দিনার মাধাইয়া, জয়দেবপুর, গড়ামারা, গণিপুর, ছায়কোট, শ্রীমন্তপুর, চিলোড়া, পূর্ব অম্বরপুর, মাইজখার, বাড়েরা, খিরাসার, বরকইট ও তুলাতলী মাঠে। এসব এলাকায় দিনে দিনে শীতের সবজির চাষাবাদ বাড়ছে। এসব এলাকার মাটি সবজি চাষের জন্য বেশ উর্বর এবং উপযোগী। তবে যেসব নিচু এলাকা রয়েছে সেখানে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে সবজি চারা রোপণ কাজ শুরু হয়েছে।

সরেজমিনে কেরনখাল ইউপির ডুমুরিয়া গ্রামের টমেটো চাষি মনোরঞ্জন চন্দ্র সরকার এর সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, ঐশী জাতের টমেটো চাষ করেছেন তিনি। মৌসুমের প্রথমেই উৎপাদিত টমেটো বিক্রি করে যাবতীয় খরচ উঠিয়ে লাভের মুখ দেখছেন তিনি। এখনো জমিতে টমেটো রয়ে গেছে। বিক্রিও চলছে।

চান্দিনার মাইজখার এলাকার কৃষক সতীশ চন্দ্র শীল বলেন, গেল বছর মুলা ও সীম বিক্রি করে যে মুনাফা করেছি এবার তার দ্বিগুন মুনাফা হয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি আবহাওয়া অনুকূল ও ভালো বীজ পেয়েছেন বলে জানান।

উপজেলার বাড়েরা এলাকার জসিম উদ্দিনের স্ত্রী হাসমতের নেছা বলেন, এবার আমি বাড়ির সামনের ভিটিতে লাউ লাগিয়ে এ পর্যন্ত সাড়ে ৯ হাজার টাকা লাভ করেছি। আশা করি এ জমির লাউ আরো এক মাস বিক্রি করতে পারব। গেল বছরও ভালো লাউ বিক্রি করেছি। তবে এবার বেশি লাগিয়েছি এবং লাভও বেশি হয়েছে।

বাড়েরা এলাকার টমেটো চাষি গৌরাঙ্গ চন্দ্র সরকার, সরিষা চাষি রুক্কু মিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোরের কুয়াশার মধ্যেই ফসলের মাঠে গিয়ে দিনভর সবজি পরিচর্যা করেন তারা। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় ভ্যান, পিকআপ, মিনি ট্রাকযোগে কুমিল্লার বাজারগুলোতে প্রতিদিন ভোরেই নিয়ে যাচ্ছেন শীতের সবজি।

চান্দিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরিনা আক্তার জানান, চান্দিনা উপজেলার জমি সবজি উৎপাদনের জন্য খুবই উর্বর। এখানকার কৃষকরাও অত্যন্ত পরিশ্রমী। এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠে এখনো অনেক সবজি রয়েছে।

তিনি আরো জানান, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত সবজি উৎপাদনে চান্দিনার অনেক কৃষকরা কাজ করে যাচ্ছে।

সূত্রঃ ডেইলি বাংলাদেশ