কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার মাঠ জুড়ে আলু গাছের সবুজ সমারোহ

ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় চলতি মওসুমে আলুর ভালো ফলনের সম্ভবনা রয়েছে। এই উপজেলার একটি ৮টি ইউনিয়নের চাষযোগ্য জমিতে এখন শুধু আলু গাছের সবুজ রঙের সমারোহ। পোকার আক্রমনে এই উপজেলায় রোপা আমন ধানের কিছুটা ক্ষতি হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকেরা আলু চাষে ব্যস্ত হয়ে উঠে মাঠে স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে সঠিক সময়ে আলুর গাছের পরিচর্যা করছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি শস্য মওসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১৮হাজার ৫শত ২৫ শতক জমিতে এই উপজেলার কৃষকরা আলু চাষ করেছে। প্রথম দিকে আলু লাগানোর শুরুতে বৃষ্টির কারনে আলুর বীজ কিছুটা পচন দেখা দিলে উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন প্রত্যান্ত অঞ্চলের আলুর মাঠে গিয়ে কৃষকদেরকে সঠিক সময়ে পরামর্শ দেয়য়া এবং আবহাওয়া অনুকূলে আসায় অন্যান্য শস্যের পাশাপাশি আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে। ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামীন জনপদের কৃষকেরা এবছর উপসী জাতের আলু ১ হাজার ৬ শতক ও দেশী জাতের ছোট আলু ২শ ২৫ শতক লাগিয়েছেন।

সময়মতো আলু ঘরে তুলতে পাড়লে এবং চাহিদা ও বাজারমূল্য ভালো থাকলে এই চাষে কৃষকদের আগ্রহ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে স্থানীয় কৃষক ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের একাধিক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন। তবে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মধ্যে রামনগর, মনোহরপুর, অলুয়া, মলাপাড় ও আসাদনগর এলাকায় সবচেয়ে বেশি আলু চাষ হয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে। অলুয়া গ্রামের প্রান্তিক কৃষক খোরশেদ আলম চারু মিয়া জানা, আমি এ বছর ১২০ শতক জমিতে ভালো ডায়ামেন্ট জাতের দেশী আলুর বীজ কিনে জমিতে লাগিয়েছি। এ পর্যন্ত আলু গাছের গঠন দেখে মনে হচ্ছে বাকি দিন গুলোতে যদি আবহাওয়া ভাল থাকে আশানুরূপ ফলন পাবো। একই গ্রামের আলু চাষি আবুল বাশার বলেন, আমি এবছর ১৮০ শতক জমিতে ডায়ামেন্ড জাতের আলু লাগিয়েছি।আকাশ ভাল থাকলে ও ছত্রাক আক্রমণ না করলে এ বছর আলুর ভালো ফলন পাবো বলে আশা করছি।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার এনএম আলমগীর বাদশা এই প্রতিনিধিকে জানান, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় এবছর আবহা জনিত কারনে আলুর তেমন একটা বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। প্রথম দিকে লাগাতার কয়েক দিনের বৃষ্টির কারনে সমস্যা দেখা দিলেও আমরা কৃষকদের সাথে কথা বলে তাদের যুগো উপযোগি পরামর্শ দিয়ে তা সমাধান করেছি। এই পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে থাকায়, আগামী দিনেও যদি গন কূয়াশা না থাকে,আকাশে রোদজ্জল থাকে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোনো প্রকার ক্ষতি না হয় তাহলে আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে। এছাড়াও কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদেরকে নিবিড় ভাবে যথাযথ পরামর্শ ও পরিচর্চার বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দেয়া অব্যাহত রয়েছে।

সব শেষে তিনি, কৃষকরা যে কোন ফসল নিয়ে প্রান্তিক কৃষকগণ সমস্যায় পড়লে উপজেলা কৃষি অফিসার ও কৃষি সম্প্রসারন অফিসার এবং উপ-সহকারী কৃষি অফিসার কর্তৃক সঠিক পরামর্শ গ্রহন করার আহবান জানান।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ