কুমিল্লার সন্তান ১০ ট্রাক অস্ত্র আটককারী ইন্সপেক্টর হেলাল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত

ডেস্ক রিপোর্টঃ চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর ১০ ট্রাক অস্ত্র আটকে অংশ নেয়া ট্রাফিক পুলিশের তৎকালীন সার্জেন্ট এবং বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকার ট্রাফিক পুলিশের পেট্রোল ইন্সপেক্টর (পরিদর্শক-টিআই) হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

রোববার দুপুর পৌনে ২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশের রামপুরের নাসির মেমোরিয়াল কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর সন্ধ্যায় কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কেরণখাল ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের আমির আলী ভূঁইয়া মাস্টারের ছেলে।

ফেনী জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) মীর গোলাম ফারুক জানান, চট্টগ্রাম বন্দর এলাকার ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা থেকে রোববার নিজে প্রাইভেটকার (চট্ট-মেট্রো-গ-১১-৫১৪১) চালিয়ে চট্টগ্রামে কর্মস্থলের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে দুপুর পৌনে ২টার দিকে ফেনী জেলার রামপুর এলাকায় পৌঁছার পর তার গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। সেখান থেকে ছিটকে গিয়ে আরও একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ওই প্রাইভেট কারের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে তাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে ফেনী সদর হাসপাতাল পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সোমবার ওই হাসপাতালে তার মরদেহের ময়না তদন্ত হয়। গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

চান্দিনা থানার ওসি মুহাম্মদ শামছুল ইসলাম জানান, সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিহতের ময়নাতদন্ত করার পর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাদ আসর গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে।

এদিকে টিআই হেলালের মৃত্যুর খবরে তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চলছে শোকের মাতম।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানার ঘাটে ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল রাতে ১০ ট্রাক অস্ত্র খালাসের সময় ঘটনাস্থলে প্রথম উপস্থিত হন তৎকালীন সার্জেন্ট ও কয়লার ডিপো ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া। পরে তার মাধ্যমে খবর পেয়ে অন্যান্য সিনিয়র কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। এ ঘটনায় কর্ণফুলী থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহাদুর রহমান বাদী হয়ে চোলাচালান ও অস্ত্র আইনে পৃথক ২টি মামলা দায়ের করেন। হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া ওই মামলার অন্যতম স্বাক্ষী ছিলেন।

২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি এ মামলায় আদালত সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী এবং বিএনপি নেতা ও সাবেক স্বরাস্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা এবং অস্ত্র আইনের মামলায় তাদের সবাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

সূত্রঃ পরিবর্তন

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ