কুমিল্লার সামনে দাঁড়াতেই পারল না রংপুর

ডেস্ক রিপোর্টঃ মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ফিল্ডিং নেওয়ার সার্থকতা প্রমাণিত করলেন তামিম ইকবালের বোলাররা। ব্যাটিংয়ে নেমে কুমিল্লার বোলারদের তোপের মুখে পড়ে ১৭.১ ওভারে মাত্র ৯৭ রানে গুটিয়ে যায় রংপুর। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

ব্যাটিংয়ে নেমে মেহেদীর করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে গেইল বোল্ড হয়ে ফিরে গেলে হোঁচট খায় রংপুর রাইডার্স। একই ওভারের পঞ্চম বলে জিয়াকে বোল্ড করে কুমিল্লাকে আনন্দে ভাসান মেহেদী। দ্রুত দুই উইকেট খুইয়ে অনেকটা ভেঙে পড়ে রংপুরের ব্যাটিং লাইন। তৃতীয় উইকেটে ম্যাককালাম এবং মিথুন খানিকটা লড়াই করলেও বেশিদূর যেতে পারেনি এই জুটি।

দলীয় ৩২ রানের মাথায় মিঠুনের উইকেট হারায় রংপুর। এরপর দলীয় ৫৭ রানের মাথায় বোপারা রানআউট হয়ে ফিরে গেলে ম্যাচ থেকে নিয়ন্ত্রণ হারায় মাশরাফির দল। ব্যক্তিগত ২৪ রান করে মেহেদীর ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেছে ম্যাককালাম। বাকি ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মাঝে কেবল দুই অঙ্কের ঘরে নাম লেখান সোহাগ গাজী। ফলে ১৭.১ ওভারে মাত্র ৯৭ রানে গুটিয়ে যায় রংপুর রাইডার্স।

কুমিল্লার হয়ে মেহেদী হাসান সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন। এছাড়া সাইফউদ্দিন তিনটি এবং আল-আমিন ও হাসান আলী নেন একটি করে উইকেট।

জয়ের জন্য লক্ষ্য ছোট হওয়ায় শুরু থেকেই সাবধানী ছিলেন দুই ওপেনার তামিম ও লিটন দাস। দলীয় ২২ রানের মাথায় মাশরাফির বলে লিটন ফিরে গেলে দাক্কা খায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এরপর দলীয় ৩৫ রানের মাথায় তামিম এবং ৪৭ রানের মাথায় জস বাটলার আউট হয়ে সাজঘরে ফিরলে ম্যাচ জমে ওঠে।

ইমরুল ও মালিকের মধ্যকার ২৪ রানের জুটিতে ধীরে ধীরে জয়ের পথেই হাঁটছিল কুমিল্লা। তবে ৭১ থেকে ৭৩ রানের মধ্যে ইমরুল ও মালিককে আউট করে রংপুরকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন মাশরাফি ও নাজমুল। বিপিএলের এই মৌসুমের সর্বনিম্ন স্কোরের পুঁজি নিয়েও প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ কাঁপিয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে মাশরাফির রংপুর রাইডার্স।

কুমিল্লার জিততে ৬ বলে চাই ২ রান। হাতে ৪ উইকেট। ইসুরু উদানার করা ইনিংসের প্রথম দুই বল থেকে কোনো রান নিতে পারেননি স্যামুয়েলস। তবে তৃতীয় বলে চার হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন এই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটসম্যান।

রংপুর রাইডার্সের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। এছাড়া নাজমুল ইসলাম দুটি ও সোহাগ গাজী নেন একটি উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

রংপুর রাইডার্সঃ ৯৭/১০ (১৭.১ ওভার) ম্যাককালাম ২৪, মিঠুন ১৭, সোহাগ গাজী ১২, মাশরাফি ৯। মেহেদী ৪/২২, সাইফুদ্দীন ৩/২২, হাসান আলী ১/১৫, আল-আমিন ১/১৮

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সঃ ১০০/৬ (১৯.৩ ওভার) তামিম ২২, মালিক ২০, ইমরুল ১৪, স্যামুয়েলস ১৬*। গাজী ১/১৫, মাশরাফি ৩/২৪, নাজমুল ২/১৭

ফলাফলঃ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ৪ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচ সেরাঃ মেহেদী হাসান (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স)।

হাইলাইটসঃ