কুমিল্লার ১১ আসনে ২৪ এমপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে ১৩৪ মামলা

ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন দাখিলকারী ২৪ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে হত্যা, নাশকতা, সন্ত্রাসী কার্যকলাপসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৩৪টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থীদের বিরুদ্ধেই রয়েছে ৯৮টি মামলা।

সবচেয়ে বেশি মামলা রয়েছে চৌদ্দগ্রাম আসনের সাবেক সাংসদ ও ২০ দলীয় জোটের মনোনয়নপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হলফনামার ২(খ) অংশে ফৌজদারি মামলার অভিযুক্ত কলামে প্রার্থীরা নিজেই এসব মামলার তথ্য উল্লেখ করেছেন।

রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় ও হলফনামায় অনুসন্ধান করে জানা যায়, কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও মেঘনা) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের প্রার্থী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে ১২টি ও তার ছেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য খন্দকার মারুফ হোসেনের বিরুদ্ধে একটি মামলা আছে। তারা দুইজন কুমিল্লা-২ (হোমনা ও তিতাস) আসনে দলের মনোনয়ন পেয়ে প্রার্থী হয়েছেন।

কুমিল্লা-২ আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সারওয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা আছে। অপর প্রার্থীদের নামে কোনো মামলা নেই।

কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১০ মামলা, বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি কায়কোবাতের ছোট ভাই কেএম মজিবুল হকের বিরুদ্ধে একটি মামলা, অপর ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী জুন্নন বসরীর বিরুদ্ধে এক মামলা, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের (পিডিপি) মো. কামাল উদ্দিন ভুঁঞার বিরুদ্ধে ৯ মামলা, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মো. হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে এক মামলা ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে এক মামলা আছে।

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে ১৭ মামলা, তার ছেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির কুমিল্লা উত্তর জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রিজভিউল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে আটটি মামলা, দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপির প্রার্থী মো. রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা আছে।

কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি শওকত মাহমুদের বিরুদ্ধে তিন মামলা ও জাকের পার্টির নূরুল আলম ভুঁঞার বিরুদ্ধে একটি মামলা আছে।

কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর) আসনে আওয়ামী লীগের সাংসদ, কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দলের প্রার্থী আ ক ম বাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি মামলা, বিএনপির প্রার্থী কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমির উর রশিদের বিরুদ্ধে চার মামলা ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দলীয় প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে হত্যাসহ চার মামলাটি আছে।

কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহাসচিব ও প্রার্থী রেদোয়ান আহমেদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) প্রার্থী মো. আবু তাহেরের বিরুদ্ধে তিন মামলা, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) শাহজাহান সিরাজের বিরুদ্ধে তিন মামলা আছে।

কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ও কেন্দ্রীয় যুবদলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি খোন্দকার মো. মোরতাজুল করিমের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা আছে।

কুমিল্লা-১০ (সদর দক্ষিণ, লালমাই ও নাঙ্গলকোট) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া মনিরুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে চারটি, নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে আটটি ও বিএনপির প্রেস উহংয়ের মীর আবু জাফর শামসুদ্দীনের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা আছে।

কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া জামায়াতের সাবেক সাংসদ ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বিরুদ্ধে বর্তমানে হত্যা, নাশকতাসহ ২২টি মামলা রয়েছে। অতীতে তার বিরুদ্ধে আরও আটটি মামলা ছিল।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ