ডেস্ক রিপোর্টঃ ‘তোর কারণে আসামি হইছি’ এ কথা বলেই মামলার অপর আসামী হাসানকে মারতে মারতে বিচারকের খাস কামরায় নিয়ে গিয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে হাসান।

সোমবার (১৫ জুলাই) সকাল সোয়া ১১টায় কুমিল্লার অতিরিক্ত ৩য় দায়রা জজ আদালতে বিচারকের সামনে এভাবেই এক আসামির হাতে অপর আসামি খুন হয়। এ ঘটনায় দ্রুত এজলাস ত্যাগ করে পাশের অন্য একটি কক্ষে চলে যান বিচারক ফাতেমা ফেরদৌস।

জানা গেছে, নিহত আসামি ফারুক কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার অহিদুল্লাহর ছেলে। ঘাতক হাসানেরও একই উপজেলার শহীদুল্লাহর ছেলে। সম্পর্কে তারা ফুফাতো-মামাতো ভাই।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিনিয়র কুমিল্লা জেলা দায়রা জজ আলী আকবর, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ পিবিআই কর্মকর্তাগণ।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, সোমবার জেলার মনোহরগঞ্জ থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় হাজিরা দিতে আসেন আসামি হাসান এবং ফারুক। দুপুরে অতিরিক্ত ৩য় দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফাতেমা ফেরদৌস আসনে বসলে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়।

মামলার শুনানিকালে ফারুকের কারণে হাসান মামলায় আসামি হতে হয়েছে এমন অভিযোগ করে ফারুককে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হাসান। এ সময় আদালতের আইনজীবী এবং বিচারকের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আদালতের বারান্দাসহ আশপাশে থাকা লোকজন দিগ্‌বিদিক ছোটাছুটি করতে থাকে।

বাঙ্গরা বাজার থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্য ফিরোজ আহাম্মেদ সাথে সাথেই বিচারকের খাস কামরায় গিয়ে ঘাতক হাসানকে আটক করে ছুরিটি উদ্ধার করে।

উপস্থিত আইনজীবী এবং সহকারীরা ফারুককে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিপিএম (বার), পিপিএম বলেন, হাসানকে আটক করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনার পর থেকে আদালতের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।