কুমিল্লায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বাল্যবিয়ে

ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বাল্যবিয়ে। সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নানা কৌশলে চলছে এসব বাল্য বিবাহ। সরকার ও প্রশাসনের নানা উদ্যোগ বিভিন্ন এনজিও এবং সামাজিক প্রচার প্রচারণাসহ কোনো প্রক্রিয়াই ঠেকাতে পারছে না জেলার অধিকাংশ এলাকার বাল্যবিয়ে। এ নিয়ে সচেতন মহলে বেশ উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বর কনে পরিবারের সম্মতিতে গোপনস্থানে এসব বাল্যবিয়ে সংগঠিত হওয়ায় এ ক্ষেত্রে নিরুপায় হয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। এদিকে গত ১ বছরে শুধু জেলা মহিলা অধিদফতর প্রায় ১২২টি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিমাসে প্রায় অর্ধশতাধিক বাল্যবিয়ে সংগঠিত হচ্ছে। জেলার হোমনা, মেঘনা, তিতাস, মুরাদনগর, বরুড়া ও বুড়িচং এলাকায় এসব বাল্যবিবাহ বেশি সংগঠিত হচ্ছে। বে-সরকারি একটি সংস্থার অনুসন্ধানে এসব তথ্য বেড়িয়ে এসেছে। সংস্থাটি তার প্রতিবেদনে প্রতি সপ্তাহে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকায় কমপক্ষে ১০টি বাল্যবিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন। সে অনুযায়ী এ জেলায় বছরে ৬শতাধিক বাল্যবিয়ের ঘটনা ঘটছে। যা সমাজ ও সচেতন মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব বাল্যবিয়ে ঠেকাতে পারছে না প্রশাসন কিংবা সামাজিক সংস্থাগুলো। এ ক্ষেত্রে বর কনে পক্ষ নানা ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছে। কোনো কোনো বাল্যবিয়ে গোপন স্থানে এবং বাড়ির বাইরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আবার কোনো কোনো অভিভাবক ভুয়া জন্মসনদও ব্যবহার করছে। যার ফলে এ নিয়ে কার্যকর কোনো ভূমিকা পালন করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শারীরিক বিকাশের আগেই বাল্যবিবাহের শিকার মেয়েরা বৈবাহিক জীবনে প্রবেশ করায় এক ধরনের মানসিক চাপে পড়ে যায়। যার ফলে পারিবারিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এসব কন্যা শিশুরা বিষণœœতা, সমন্বয়হীনতায় ভুগতে থাকে। যা পরবর্তীতে ব্যক্তিত্ব সমস্যা সৃষ্টি করে। তারা তখন পরিবারের ও সমাজের প্রতি তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য সঠিকভাবে পালনে ব্যর্থ হয়। আর তখনই তারা রাষ্ট্রের জন্য বোঝা হয়ে যায়। তাছাড়া অল্প বয়সে মা হওয়ার কারণে শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েন তারা। পূর্ণ মানসিক বিকাশের আগে মা হওয়ার কারণে সন্তানের দিকে সঠিক মনোযোগ তারা দিতে পারেন না। ফলে অল্প বয়সী মায়ের সন্তানরা সঠিকভাবে বেড়ে ওঠে না।’

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কবীর উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিভাবক সমাবেশের মাধ্যমে বাল্যবিয়ের নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরলে সমাজে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে সব শ্রেণীপেশার লোকজনকে এগিয়ে আসতে হবে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ভিকারুন নেছা বলেন, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে এ বছর আমরা অনেক বেশি সফলতা পেয়েছি। নানা সংকট ও সমস্যার মধ্যেও আমরা এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছি। তবে আগের তুলনায় মানুষ অনেক সচেতন হয়েছে। অনেক সময় দেখা যায় একজন সাধারণ মানুষ আমাদের বাল্যবিয়ের খবর জানিয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তির এ সময়ে খুব সহজেই আমরা বাল্যবিয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাই। ১০৯ নম্বরে ফোন করে যে কেউ আমাদের খবর দিতে পারছে এবং আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারছি।

সূত্রঃ যুগান্তর

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: