কুমিল্লায় চিরকুট লিখে সাবেক অধ্যক্ষের আত্মহত্যা

ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লায় বাথরুম থেকে কলেজ অধ্যক্ষের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকালে কুমিল্লার মহিলা কলেজ রোড মাদার কেয়ার হাসপাতালের পেছনে ভাড়াটে বাসার দুই তলা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রফেসর আব্দুল ওয়াব (৬০) কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ছিলেন। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ২নং চৌয়ারা ইউনিয়নের হেমজোড়া গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। মৃত্যুর আগে তিনি দুইটি চিরকুট লিখে গিয়েছেন। চিরকুটে তিনি তার মৃত্যুতে স্ত্রী, সন্তানসহ কাউকে দায়ী করেননি। তবে পুলিশ বলছে প্রফেসর আব্দুল ওয়াবের মৃত্যুতে রহস্য লুকিয়ে রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লার মহিলা কলেজ রোড মাদার কেয়ার হাসপাতালের পেছনে ভাড়াটে বাসার দুই তলা থাকতেন প্রফেসর আব্দুল ওয়াব। পরিবারের সদস্য হিসেবে ছিল স্ত্রী মরিয়ম আক্তার ও এক মেয়ে লাবিবা আক্তার।

প্রফেসর আব্দুল ওয়াব মৃত্যুর আগে চিরকুটে যে ভাবে লিখেছেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নহে। দায়ী আমার নসীব। অধ্যক্ষ থাকাকালীন দুই একজনের সঙ্গে তর্ক বিতর্ক হয়েছে। সবচেয়ে বড় দুঃখ একজন শ্রদ্ধেয় এবং সুনামধন্য ব্যক্তিকে আমি নাকি কি বলেছি। একথা শুনে আমার অন্তর ভূমিকম্পের মত কেঁপে উঠেছে। কাকে বলেছি এবং কে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগে আনল মৃত্যুর আগে তা উল্লেখ করলাম না। হয়তো আমি সে ব্যক্তির জামতা হওয়ার কথা ছিল। এছাড়া তিনি আরো লেখেন, একথা সত্য যে, যে কোনো ছাত্রী আমার নিকট সহজে তার সমস্যার কথা বলত। আল্লাহর কসম করে বলছি, কোনো ছাত্রীর সঙ্গে আমার দৈহিক সম্পর্ক ছিল না।’

আব্দুল ওয়াবের স্ত্রী ও মেয়ে বলেন, প্রফেসর আব্দুল ওয়াব পেনসন, সম্পত্তি ও পরিবার নিয়ে মানসিক ভাবে চিন্তিত ছিলেন দীর্ঘদিন। সোমবার সেহেরির পরবর্তীতে কোনো একসময় বাথরুমে ঝর্ণার পাইপের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন তিনি। মৃত্যুর আগে দুইটি কাগজে দুইটি চিরকুট লিখে গেছেন। এছাড়া কি কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন স্ত্রী ও মেয়ে বলতে পারেছন না।

কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আবু ছালাম মিয়া জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। মৃত্যুর আগে লেখা চিরকুটগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই জানা যাবে এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা। আবু ছালাম মিয়া আরো বলেন, ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর প্রাথমিক ভাবে দেখা গেছে তার গলায় এবং অন্ডকোষে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

উল্লেখ, প্রফেসর আব্দুল ওয়াব কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে ২০১৪ সালের ২ জুন থেকে ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭ সাল পর্যন্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন।

সূত্রঃ মানবকণ্ঠ

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ