ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লায় থেকে এই প্রথম প্রবীর চন্দ্র সরকার নামে একজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি কুমিল্লা নগরীর শুভপুর এলাকার হারুন স্কুল সংলগ্ন ইয়াছিন মিয়ার বাসায় ভাড়া থাকেন। প্রবীর জেলার দাউদকান্দি উপজেলার আমিরাবাদ গ্রামের পরিমল চন্দ্র সরকারের ছেলে।

জানা যায়, তিন দিন ধরে শরীরে জ্বর অনুভব হওয়ায় চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে তার ডেঙ্গু সনাক্ত করেন। পরে রবিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি নগরীর গোয়ালপট্টি এলাকার হোটেল ডনের সামনের পান-দোকানদার। প্রায় ২০ দিন আগে নিজস্ব কাজে ঢাকায় গিয়েছিলেন এবং পরে কুমিল্লায় ফিরে আসেন। গত ২ জুলাই নগরীর মেডিনোভায় ডেঙ্গু পরীক্ষার পর ৩ জুলাই চিকিৎসক তার ডেঙ্গু রোগ সনাক্ত করে। পরে রবিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে কুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এ বিষয়ে কুমেক হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবুল হাসেম জানান, ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী কোন মশা কাউকে কামড় দেওয়ার ১ সপ্তাহের মধ্যে লক্ষণ দেখা দিবে। যেহেতু এই রোগী ২০ দিন হয়েছে কুমিল্লার বাইরে যায়নি তাহলে আমরা ধরে নিতে পারি তিনি কুমিল্লায় ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে তার কর্মস্থল ও বাসার চারপাশ পরীক্ষা করে দেখা উচিত।

কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর লক্ষণ অনেক সময় একটু দেরিতে দেখা যায়। দুই মাসও অতিবাহিত হতে পারে। কেননা অনেক সময় এই ভাইরাস সুপ্ত অবস্থায় থাকে। পরিমল নামের রোগীটি ঢাকায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কুমিল্লায় এরকম সিরিয়াস কোন লার্ভা পাওয়া যায়নি।’

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় কুমেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন বলে কুমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। সোমবার বিকালে কুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. স্বপন কুমার অধিকারী সাংবাদিকদের জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ পর্যন্ত এ হাসপাতালে ২৩৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছে এবং চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৪০ জন। বাকিরা এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ২৩৭ জনই ঢাকায় আক্রান্ত হয়েছে এবং একজন কুমিল্লায় আক্রান্তের খবর জানা গেছে।

সূত্রঃ ইত্তেফাক