মাসুদ আলমঃ কুমিল্লার ময়নামতি রেলওয়ে ক্রসিং সংলগ্ন দৌয়ারা মৌজায় রেলের সম্পত্তি অবৈধ দখলের হিড়িক চলছে। ঘর,বাড়ি, দোকানপাট এবং কারখানাসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে সম্পত্তি দখলে নিচ্ছে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে। এইসব দখল কর্মকা-ে অর্থের বিনিময়ে রেলের দায়িত্ববান কর্মকর্তাও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার ময়নামতি রেলওয়ে ক্রসিং সংলগ্ন দৌয়ারা মৌজায় রেলের পুকুর ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে জাবেদ মিয়া নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ওই সম্পত্তি দখলে রেল কর্তৃপক্ষের বাধাও আমলে নিচ্ছে না জাবেদ। জাবেদ মিয়া উপজেলার দৌয়ারা গ্রামের মৃত মোখলেছুর রহমানের ছেলে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে কুমিল্লার উর্দ্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী/পূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ময়নামতি রেলওয়ে ক্রসিং সংলগ্ন রেললাইনের পূর্ব পাশে দৌয়ারা মৌজার জেএল নং-১০৩, সিট নং-১ এবং ৪৬৫ ও ৪৬৬ দাগের সম্পত্তির উপর টিনশেডের ঘর নির্মাণ করেছে। অভিযুক্ত জাবেদ মিয়া পুকুর ভরাট করে রেলের সম্পত্তির উপর ঘর উত্তোলনের পূর্বে ওই একই স্থানে রেলওয়ের সম্পত্তি অবৈধ দখল করে বাড়ি, খাবার হোটেল এবং ওয়ার্কশপ নির্মাণ করেছেন। যাহা অবৈধ ও নিয়ম বহিরর্ভূত। সিএস,আরএস এবং বিএসসহ সকল কাগজপত্রে ৪৬৫ ও ৪৬৬ দাগের সম্পত্তি শতভাগ রেলওয়ে সম্পত্তি।

অভিযোগে আরও জানান, কুমিল্লা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় তে অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য এজাহার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজারসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ও আইডব্লিউ/কুমিল্লা কানুনগোকে এই অবৈধ দখল সম্পর্কে এজাহার প্রদানের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এছাড়াও উর্দ্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী/পূর্ত বিভাগ জিআরপি পুলিশ সদস্যদের নিয়ে রেলের সম্পত্তির উপর উত্তোলনকৃত ঘরের কাজ বন্ধে একাধিকবার বাধা প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকবারই জাবেদ মিয়া ও তার ভাই আজাদ মিয়াসহ ভাড়াটে লোকবল দিয়ে উচ্ছেদে বাধা প্রদান করেছে।

অভিযুক্ত জাবেদ মিয়া পুকুর ভরাট করে ঘর উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, আমার দখলকৃত সম্পত্তির বিএস খতিয়ান রয়েছে। তবে সিএস ও আরএস এর কোন কাগজপত্র নেই। আমার বাবা রেল কর্তৃপক্ষকে সম্পত্তির সঠিক মূল্য দিয়ে বিএস খতিয়ান নিয়েছে। আর আমরা দীর্ঘদিন যাবত এই সম্পত্তির উপর দখলে রয়েছি।

কুমিল্লার লাকসাম কানুনগো কাউছার হামিদ বলেন, রেলওয়ের ওই সম্পত্তি অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে আমিও একটি মামলা করেছি। শুনেছি রেলের কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদে যাওয়ার পরে তাদেরকে বাধা দিয়েছে। রাজনৈতিক শক্তির কারণে অবৈধ দখলকৃত ব্যক্তিরা এখনও টিকে আছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে কুমিল্লার উর্দ্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী/পূর্ত রাম নারায়ন ধর বলেন, ময়নামতি রেলওয়ে ক্রসিং সংলগ্ন রেললাইনের পূর্ব পাশে দৌয়ারা মৌজার জেএল নং-১০৩, সিট নং-১ এবং ৪৬৫ ও ৪৬৬ দাগের সম্পত্তির জাবেদ নামে ওই ব্যক্তি অবৈধ দখলে নিয়েছে। বর্তমানে ওই স্থানে রেলের পুকুর ভরাট করে ঘর তুলেছে। কাজ বন্ধ করতে আমরা পুলিশ নিয়ে একাধিকবার ঘটনাস্থলে গিয়েছি। আমাদের উচ্ছেদ কাজে বাধা প্রদান করা হয়েছে। তারপর আমি রেলের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ও থানা পুলিশকে আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য এজাহার প্রদান করেছি।