কুমিল্লায় প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে বাড়ি নির্মাণ

ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লার বরুড়ার ডিমডুল গ্রামের অারিফুর রহমান প্লাষ্টিকের পরিত্যাক্ত বোতল দিয়ে বাড়ি নির্মান করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। প্রতিদিন শতশত মানুষ ভীড় জমাচ্ছেন প্লাষ্টিকের তৈরি নির্মিত বাড়িটি দেখার জন্য।

গত অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে ৫জন শ্রমিক দিয়ে কাজ শুরু করে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে কাজ শেষ করেন।প্রায় দেড় মাস সময়ের মধ্য শেষ হয় প্লাষ্টিকের বোতলের তৈরীর বাড়ির কাজ। বাকী অাছে শুধু ছাদের কাজ টুকু। ছাদ হবে টিনের। দরজা -জানালা হবে যথাক্রমে স্ট্রিল ও কাঠের।প্রায় ৫০ হাজার পরিত্যাক্ত প্লাষ্টিকের বোতল দিয়ে নির্মিত বাড়িটি দুটি শয়ন কক্ষ, একটি চৌচাগার,একটি রান্নাঘরের ৯০ভাগ কাজ প্রায় শেষ।

রাজমিস্ত্রি রাজন বলেন,বাড়িটি নির্মান করতে প্লাষ্টিকের বোতলের ভিতর বালি ভরে দেওয়াল বা প্রাচীরে গাঁথা হচ্ছে বালি মিশ্রিক সিমেন্ট দিয়ে। লিনটার ও পিলারে ব্যাবহৃত হয়েছে ইট,সিমেন্ট ও রড।

বোতলের তৈরির বাড়ি বানানোর উদ্যেক্তা অারিফুল ইসলামের বাবা অহিদুল ইসলাম বলেন,”ছেলে একদিন অামাকে বললো অামি প্লাষ্টিকের বোতল দিয়ে বাড়ি বানাবো। উত্তরে অামি বললাম সমস্যা কি বানাও। আমি তাকে বিভিন্ন জায়গা থেকে বোতল সংগ্রহ করে দেই। সে অনুপাতে বাড়ি বানানোর কাজ শুরু করে। অাল্লাহর রহমতে অামি অনেক খুশি।প্রতিদিন অনেক মানুষ অামার ছেলের নির্মান করা বাড়ি দেখতে অাসে”।।
উদ্যেক্তা অারিফুল ইসলাম বলেন,”প্রথমে মন খারাপ হলেও এখন অামি অনেক খুশি। আমার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পেরে।আমি অনেক ভেবেছি প্লাষ্টিকের বোতল পরিবেশের অনেক ক্ষতি করে তা দিয়ে কিছু করলে যেমন পরিবেশের উপকার হবে তেমনি কমবে ইটের উপড় চাহিদা।যেই ভাবা সেই কাজ শুরু করে দিলাম। আর স্বপ্নকে অাজ বাস্তবে রূপ দিলাম।। অাশা করি অামার দেখা দেখিতে অামাদের দেশের তরুনরা ইটের উপড় চাপ কমিয়ে প্লাষ্টিকের বোতল দিয়ে বাড়ি বানাবে। তাতে কমপক্ষে পরিবেশের উপকার হবে। একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতিকর ইটভাটার উপড় নির্ভরশীলতা কমবে অপরদিকে প্লাষ্টিকের বোতল ব্যাবহারের ফলে পরিত্যাক্ত বোতলের ফলে যে ক্ষতি হবার সম্ভাবনা ছিল সেটাও কমবে”।

প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন,”ইটের তৈরি বাড়ি থেকে চারগুন বেশি শক্তিশালী হয় বোতলের তৈরি বাড়ি। ৮.১ মাত্রা ভূমিকম্পতে যেখানে সাধারন ইটের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হলেও এই বাড়িতে তেমন কোন ক্ষতি হয় না।তাছাড়া এই বাড়িটি অাগুনেও বড় ধরনের ক্ষতি হবে না। এই বাড়িতে শীতে গরম আর গরমে ঠান্ডা অনুভব হবে।”

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ