কুমিল্লায় বছরে শতাধিক মোটরসাইকেল চুরি

ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লায় বেপরোয়া মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেট। নগরীতে সংঘবদ্ধ এ সিন্ডিকেটের সদস্যরা সম্প্রতি চুরি, ছিনতাই, অপহরণসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। গত এক বছরে সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশার লোকজনের প্রায় শতাধিক মোটরসাইকেল চুরি করে নিলেও পুলিশ চুরি হওয়া এসব মোটরসাইকেলের কোনোটিই উদ্ধার করতে পারেনি।

ভুক্তভোগীরা জানান, থানা পুলিশের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ চুরির অভিযোগ না নিয়ে হারিয়ে গেছে বলে জিডি গ্রহণ করে। তাই কাগজপত্রে পুলিশের কোনো দায়বদ্ধতা না থাকায় উদ্ধারে কোনো তৎপরতা দেখা যায় না। এতে চোর সিন্ডিকেটের সদস্যরা অনেকটা নির্বিঘ্নেই এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নগরীর বিভিন্ন অভিজাত শপিংমল, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সিটি কর্পোরেশন, দোকানপাট, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, অফিস-আদালত ও বাসাবাড়ির সামনে থেকে মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেটের সদস্যরা প্রতিদিনই মোটরসাইকেল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। গত ১ বছরে নগরীসহ শহরতলীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় শতাধিক মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। চুরির পর থানায় অভিযোগ করতে গেলে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। পুলিশ চুরির অভিযোগ গ্রহণ করে না। হারিয়ে গেছে মর্মে আবেদন করলে তা জিডি হিসেবে গ্রহণ করে। এতে পুলিশের কোনো প্রকার দায়বদ্ধতা না থাকায় এসব মোটরসাইকেল উদ্ধারে তাদের কোনো তৎপরতা দেখা যায় না। পুলিশের পক্ষ থেকে সহযোগিতা না পেয়ে বিভিন্ন সময় মুক্তিপণ দিয়ে চোর সিন্ডিকেটের কাছ থেকে নিজেদের মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছেন কয়েকজন মালিক। বিভিন্ন সময় ধরা পড়লেও প্রভাবশালী এবং রাজনৈতিক দলের নেতাসহ সন্ত্রাসীদের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে এসব চোর সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে কেউ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগরীর একজন কাপড় ব্যবসায়ী জানান, ঝাউতলা এলাকা থেকে তার ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়ে যায়। পরে তার বাইকটি চোর সিন্ডিকেটের সদস্যরা তার কাছেই বিক্রি করার প্রস্তাব দেয়। ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে মোটর বাইকটি তিনি উদ্ধার করেন। সব জেনে-শুনেও প্রাণের ভয়ে তিনি এ নিয়ে মুখ খোলেননি।

এ দিকে সম্প্রতি কুমিল্লায় কর্মরত ১৫ সাংবাদিকের মোটরসাইকেল চুরি হয়ে গেলেও এসব উদ্ধারে পুলিশের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা। ২৬ নভেম্বর বিকালে নগরীর ঠাকুরপাড়া এলাকার নিজ বাসার সামনে থেকে যমুনা টেলিভিশনের কুমিল্লা প্রতিনিধি খালিদ সাইফুল্লার মোটরসাইকেল চুরি হয়। সাংবাদিক বাহার রায়হান জানান, নগরীর বাগিচাগাঁও ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে পরপর আমার দুটি মোটরসাইকেল চুরি হয়ে যায়। পরে আমি থানায় অভিযোগ করে জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি উত্থাপন করলেও কোনো লাভ হয়নি। দৈনিক রূপসী বাংলার স্টাফ রিপোর্টার এমএস মনির, আবু হানিফ, সাকিব আল হাসান, মাহবুব আলম, সাইফুল ইসলাম, জাকির হোসেনসহ ১৫ সাংবাদিকের মোটরসাইকেল নগরীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে একই কায়দায় চুরি হয়ে গেলেও এ পর্যন্ত কোনোটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ২৭ নভেম্বর শহরতলীর নোয়াপাড়া এলাকা থেকে আবদুল কাইয়ুম মজুমদার নামের এক ব্যবসায়ীর একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আবু ছালাম মিয়া জানান, সম্প্রতি বেশ কয়েকটি চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছে। বিভিন্ন জনের অভিযোগের ভিত্তিতে চুরি হওয়া মোটরসাইকেলগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

সূত্রঃ যুগান্তর