কুমিল্লায় মহাসড়কে মৌসুমী ফলের ভ্রাম্যমাণ হাট

ডেস্ক রিপোর্টঃ ঢাকা থেকে কুমিল্লা আসতেই মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার দৌলতপুর ও ইলিয়টগঞ্জে চোখ পড়বে মৌসুমী হলের ভ্রাম্যমাণ হাট। বাঙ্গি, তরমুজ এর মতো মৌসুমী ফলের পাশাপাশি নেটের ব্যাগে লাল টুকটুকে টমেটো ও মিষ্টি কুমড়া নিয়ে মহাসড়কের পাশে পশরা সাজিয়ে বসে আছেন প্রায় অর্ধশত মৌসুমী ব্যবসায়ী।

মহাসড়কের যে পাশে তারা বসে থাকে তার পিছনে বিস্তৃত বিশাল ফসলী মাঠ। যে মাঠে রয়েছে বাঙ্গি, খিরাই, টমেটো, মিষ্টি কুমড়া সহ হরেক রকমের ফসল। কিন্তু ওই মাঠে নেই কোন তরমুজের চাষাবাদ। তারপরও ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে পশ্চিম ও উত্তর বঙ্গ থেকে আমদানি করা তরমুজও সাজিয়ে রাখা হচ্ছে।

কাক ডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি ওই ভ্রাম্যমান হাটে প্রতিদিন অন্তত দেড় থেকে দুই লাখ টাকার বিকিকিনি হয়। প্রাইভেট পরিবহনে চলাচলরত অধিকাংশ যাত্রীরা কেউবা সখের বসে আবার কেউবা কৌতুহল বসত ওই স্থানে গাড়ি থামিয়ে কিনছেন তরতাজা ওই সব ফল ও সবজি।

তবে ওই স্থান থেকে টাটকা বাঙ্গি, টমেটো, খিরাই পাওয়া গেলেও তরমুজে রয়েছে যথেষ্ট প্রতারণা। দূর-দূরান্তের মানুষ তরমুজ ও বাঙ্গি ফলানো জমির পাশ থেকে কিনে নেওয়ার স্বাধ গ্রহণ করলেও তরমুজের সেই স্বাধ গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বাজার থেকে কেনা তরমুজ ও মহাসড়কের উপর জমির পাশ থেকে কেনা তরমুজ এর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।

গৌরীপুর থেকে ফেরার পথে মহাসড়কের দৌলতপুর এলাকা এমন ভ্রাম্যমান হাট দেখে গাড়ি থামাতেই বিক্রেতারা ডাকাডাকি শুরু করেন। কেউ বলছেন- ভাই, এই মাত্র পাইরা আনছি। এদিকে আসেন। আবার কেউ বা বলছেন- আমার নিজের জমির মাল, দাম কমাইয়া রাইখ্যাম। সকলের মুখে একই কথা টাটকা, ক্ষেতের পাকা, ইত্যাদি ইত্যাদি।

বিক্রেতারা বলেন- এখন মানুষ টাটকা ফল ও শাক-সবজি খোঁজে। যাত্রীরা যখন গাড়ি দিয়ে যাতায়াত করেন অনেকে আমাদেরকে দেখে গাড়ি থামান। ফসলী জমি থেকে সদ্য সংগ্রহ করা ফল ও সবজি। তাই অনেকেই গাড়ি থামিয়ে কিনে নেন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক বিক্রেতা জানান, বাঙ্গি-টমেটো, খিরাই আমাদের জমির হলেও তরমুজ এখানকার না। আমরা বাজারের আড়ৎ থেকে তরমুজ এনে এখানে বিক্রি করি। এ এলাকার আগে তরমুজের চাষাবাদ হতো, এখন আর তেমন হয় না।

বিক্রেতা অনীল চন্দ্র সরকার বলেন, আমার টমেটো ক্ষেত আছে। বাজারে টমেটো ৫-৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে পারি। আর এখানে প্রতিটি ঝুলিতে থাকা ৪-৫ কেজি টমেটো বিক্রি করি ৪০-৬০ টাকা পর্যন্ত। টমেটোর পাশাপাশি অন্যের জমি থেকে বাঙ্গি এবং আড়ৎ থেকে তরমুজ কিনে আনি। প্রতিদিন প্রায় ৫-৭ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারি।

অপর এক বিক্রেতা জানান, এ ব্যবসা সব সময় হয় না। প্রতি বছরের এক থেকে দেড় মাস ব্যবসা করার সুযোগ হয়। টমেটো ও বাঙ্গির মৌসুম শেষ হলে আমাদেরও বিক্রি বন্ধ হয়ে যাবে।

সূত্রঃ নয়া দিগন্ত