মো.জাকির হোসেনঃ বাংলাদেশের প্রধান জাতীয় রেলপথ ঢাকা-চট্টগ্রাম। প্রতিদিন এই পথের কুমিল্লা হয়ে আন্তঃনগর , এক্সপ্রেস , মেইল , লোকাল, ডেম্যু,মালবাহীসহ ৩৮ টি ট্রেন রাজধানী ঢাকা,চট্টগ্রামসহ সারাদেশে যাতায়াত করে। অভিযোগ রয়েছে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রেল সেতুগুলোর সুষ্ঠু রক্ষনাবেক্ষণ বা দেখভালো না করায় বেশ কিছুদিন ধরেই ফাটল দেখা দেওয়ায় চরম ঝুঁকিতে রয়েছে কুমিল্লার রাজাপুর-সদর রসুলপুর ষ্টেশনের মাঝে থাকা ২৫৩ নং রেল সেতুটি। প্রতিদিন এই চরম ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে ট্রেন পারাপার হচ্ছে হাজার হাজার যাত্রী নিয়ে। এতে যে কোন মুহুর্তে ধ্বসে যেতে পারে ব্রীজটি। হতাহত হতে পারে অনেক মানুষ।

দেশের প্রধান জাতীয় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ। এই রেলপথের অনেকটা মাঝামাঝি অংশে রয়েছে কুমিল্লা। গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথে প্রতিদিনই চলাচল করে আন্তঃনগর , এক্সপ্রেস , মেইল , লোকাল, ডেম্যু,মালবাহীসহ ৩৮ টি ট্রেন । দুর্যোগকালীন সময়ে অনেক রিলিফ ট্রেনও চলাচল করে। দেশের সবচেয়ে দ্রুতগতির ট্রেন সুবর্ণ ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেন দুটিও এই রুটে চলাচল করে। ৩’শ ৩১-৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথের দুরত্ব দ্রুতগতির ট্রেন সুবর্ণ ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেস সাড়ে ৫ ঘন্টায় অতিক্রম করে । দ্রুতগতির দু’টি ট্রেনই প্রতিদিন ১৫ টি বগি নিয়ে চলাচল করে। এরবাইরে ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে মহানগর , চট্টগ্রাম- সিলেট চট্টগ্রাম পথে পাহাড়িকা ,উদয়ন, নোয়াখালী-ঢাকা-নোয়াখালী উপকূল ,চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম পথে বিজয়সহ অন্যান্য ট্রেন। এসকল ট্রেনে বসা ও দাড়ানো অবস্থায় হাজার হাজার যাত্রী চলাচল করছে। সরকার রেলপথে নিরাপদ যাত্রী পরিবহনে অক্লান্ত পরিশ্রমসহ বিপুল অর্থ বরাদ্দ করলেও অভিযোগ রয়েছে কখনো কাজ না করে কখনোবা নামমাত্র কাজ করেই বরাদ্দের সিংহ ভাগ টাকা লুটে নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। এমনই একটি রেলসেতু রয়েছে কুমিল্লার সদর রসুলপুর- রাজাপুর রেলওয়ে ষ্টেশনের মাঝে রাজাপুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া এলাকায়।

জেলার আদর্শ সদর উপজেলা ও বুড়িচং উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ১৬৬/২-৩ কিলোমিটার এলাকায় সেতুটি অবস্থিত। সেতুটির দৈর্ঘ ৪০ ফিট। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এর উত্তর অংশের দেয়ালটি লম্বা ও আড়াআড়ি ফাটল রয়েছে। এতে করে যে কোন সময় সেতুটি ধ্বসে দুর্ঘটনাকবলিত হতে পারে ট্রেন। হতাহত হতে পারে অনেকেই। রেলওয়ের স্থানীয় একটি দায়িত্বশীল সুত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এসব সেতু রক্ষনাবেক্ষনের জন্য বিপুল পরিমান অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে প্রতি বছর। কিন্তু কাজ না করেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বরাদ্দের টাকা লুটে খাচ্ছেন। এই সেতু এলাকায়ই পাশাপাশি কুমিল্লার লাকসাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া জংশনের মাঝে ডাবল লাইন প্রকল্পের নতুন আরেকটি সেতু নির্মানের কাজ বর্তমানে চলমান। এই সেতুর নির্মান কাজের সাথে জড়িত এক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সেতুটি খুবই বিপদজনক অবস্থায় আছে। এটা দেখে মনে হয়না বিগত ৪/৫ বছরে এর কোন সংস্কার বা মেরামতের কাজ হয়েছে। দায়িত্বশীল রেলওয়ের একটি সুত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরো জানান, কুমিল্লার লাকসাম জংশন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া জংশন এলাকা পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার রেলপথের সেতু,কালবার্ট রক্ষনাবেক্ষনে কুমিল্লায় একজন সিনিয়র সাব এসিসটেন্ট ইঞ্জিনিয়ার (ওয়ার্কস) রয়েছেন। এই রেলপথের সেতুসহ অন্যান্য স্থাপনা মাঝে মাঝে তার দেখভালো করার রুটিন ওয়ার্ক হলেও অজ্ঞাত কারণে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ কাজ দেখার প্রয়োজন মনে করেননি। ফলে মৃত্যু ঝুঁকিতে প্রতিদিন এই পথে চলছে হাজার হাজার যাত্রী।

বিষয়টি জানতে কুমিল্লা রেলওয়ের সিনিয়র সাব এসিসটেন্ট ইঞ্জিনিয়ার (ওয়ার্কস) রাম নারায়ন ধর এর সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করে এক পর্যায়ে ফোনটি বন্ধ করে দেন।

এদিকে এবিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ নাইমুল হক জানান, কোন কোন ব্রিজ মেরামত বা সংস্কার করা হবে সেটা আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করি । বরাদ্দ আসলে সংস্কার করা হবে।