ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট উত্তর ইউপির রায়কোট ৫ নং ওয়ার্ড থেকে যজ্ঞশাল পর্যন্ত এক সড়কের ইট তুলে অন্য জায়গায় নিয়ে গেলেন স্থানীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন মোল্লা ও তার সাঙ্গ পাঙ্গরা।

গত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে এই সড়কে ইটের সলিংয়ের বরাদ্ধ দেন উপজেলা পরিষদ। এতে ব্যায় ধরা হয়েছে ১ লাখ টাকা। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন, রেদোয়ান ও বারি জানান, ছাত্রলীগ নেতা শাহিন মোল্লা ও শুভসহ ১০-১৫-জনের একটি গ্রুপ এসে গত ৫-৬ দিন আগে তারা রাস্তার ইট গুলো তুলে নিয়ে গেছে। শুনেছি উপজেলা পরিষদ এক লাখ টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে, ইট বসানোর জন্য, রাস্তার কাজটি করেছে শাহিন নিজেই, সেই আবার ইট ও তুলে নিয়ে গেছে। ইট তুলে নেয়ার কারনে রাস্তাটি বেহাল দশায় রয়েছে।

>>আরো পড়ুনঃ  বুড়িচংয়ে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল হক হাজারী বলেন, ওই রাস্তার ইটের সলিং বসিয়েছে শাহিন নিজেই আবার সেই উপজেলা পরিষদ থেকে বরাদ্ধ এনে কাজ করেছে, ইট গুলো তুলে নিয়ে গেছে। এই রাস্তা পাকাকরণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কাচাঁ রাস্তা রায়কোট থেকে যজ্ঞশাল পর্যন্ত ১ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। এর মধ্যে ইটের সলিং বসানো হয়ে ছিল আব্দুল গফুরের বাড়ী থেকে আব্দুল মালেক মোল্লার বাড়ী পর্যন্ত ১ শ মিটার। কিন্ত শাহিন ও তার সাঙ্গ পাঙ্গরা রাস্তার ইট গুলো তুনে নিয়ে যায়। সেখান থেকে একটি রাস্তা গ্রামের ভেতর দিয়ে উত্তর দিকে চলে গেছে। কিছু দূর এগিয়ে সড়কটি পূর্বমুখী হয়েছে। এরপর আবার পশ্চিম মূখি হয়ে সড়কটি গ্রামের মধ্য দিয়ে হাসানপুর-বাংগড্ডা-চৌদ্দগ্রাম সড়কের সাথে সংযুক্ত হয়েছে। এ রাস্তা থেকে সদ্য ইট তুলে নেওয়ার চিহ্ন রয়েছে। সড়কটির মাঝে মাঝে জমে আছে সামান্য কাদা। সড়কের দুই পাশে ভাঙা ইটের কয়েকটি স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা যায়। গত ৫- ৭ দিন আগে শাহিন হঠাৎ কাউকে কিছু না বলে তার সাঙ্গ পাঙ্গ ও শ্রমিক দিয়ে ওই ইট তোলা শুরু করেন।

>>আরো পড়ুনঃ  লাকসামের আহাদ-মিজান হ ত্যা মামলা কার্যক্রম শুরু, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার

এই বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন মোল্লা বলেন, রাস্তার ইট গুলো তুলে নিয়ে রুহুল আমীন মোল্লার বাড়ীতে রাখা হয়েছে। রাস্তাটি পাকাকরণের দরপত্র হয়েছে।

গতকাল বুধবার উপজেলা প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানার পর ইউপি চেয়ারম্যানকে বলেছি সমস্যাটি সমাধান করার জন্য। যদি আমাদের মন মত না হয়। তাহলে নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এইটি ফৌজদারী অপরাধ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দাউদ হোসেন চৌধুরী জানান, কেউ যদি সরকারি রাস্তার ক্ষয়ক্ষতি করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ