কুমিল্লায় ১১টি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী যারা

ডেস্ক রিপোর্টঃ আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ-বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তারা নিজেদের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি জানান দিচ্ছেন। অনেকে গণমাধ্যমেরও দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সরব হলেও বিএনপির প্রার্থীর এখন নিরব রয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে ১১টি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম পাওয়া গেছে।

কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও মেঘনা): 
এ আসনে বিএনপি থেকে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পরিবর্তে তার ছেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেনের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া আ’লীগ থেকে কুমিল্লা উত্তর জেলা আ’লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ব্যারিস্টার নাঈম হাসান ও মেঘনা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শফিকুল ইসলাম মনোনয়ন প্রত্যাশী। এ আসনে আ’লীগের মনোনয়নের জন্য তাদের লড়াই করতে হবে বর্তমান সাংসদ মেজর (অবঃ) সুবিদ আলী ভূঁইয়ার সাথে। এ আসনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ছাত্রসমাজের সাবেক সভাপতি এবং জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্র বিষয়ক যুগ্ম সম্পাদক আবু জায়েদ আল মাহমুদ মাখন সরকার উপজেলা ঘুরে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস):
এ আসনে আ’লীগ থেকে মনোনয়ন পেতে হাফডজন নেতা দৌড়ঝাঁপ শুরু করছেন। তারা হলেন হোমনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ, নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান, ওমেন্স চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা সেলিমা আহমাদ মেরি (সিআইপি), হোমনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একেএম সিদ্দিকুর রহমান আবুল, ব্যবসায়ী এনামুল হক ইমন, তিতাস উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার, কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার হোসেন বাবু, বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তা সালাউদ্দিন আহম্মদ বাবু প্রমুখ। বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম। এছাড়াও রয়েছেন জাপার বর্তমান এমপি আমির হোসেন।

কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর):
এ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেইন কায়কোবাদ মামলার কারণে নির্বাচন করতে না পারলে তার (কায়কোবাদ) মামা ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ শফিকুল ইসলাম অথবা তার ভাই কাজী মুজিবুর রহমান প্রার্থী হতে পারেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান এমপি ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার। জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা সভাপতি আক্তার হোসেন।

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার):
এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান এমপি রাজী ফখরুল, সাবেক এমপি এবিএম গোলাম মোস্তফা, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ হুমায়ন মাহমুদ, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রৌশন আলী মাস্টার। বিএনপির মনোনয় প্রত্যাশী সাবেক এমপি মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খান। জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু। ন্যাপের মনোনয়ন প্রত্যাশী আমেনা আহমেদ।

কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া):
এ আসনে আ’লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ব্যারিস্টার সোহরাব খান চৌধুরী বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের উন্নয়নের লিফলেট বিতরণ করছেন। পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও মনোনয়নের জন্য তাকে এ আসনে লড়তে হবে বর্তমান এমপি, সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাড. আবদুল মতিন খসরুর সাথে। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী শওকত মাহমুদ, সাবেক এমপি প্রফেসর মোঃ ইউনুছ, বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন।

কুমিল্লা-৬ (সদর):
এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান এমপি আকম বাহউদ্দিন বাহার ও ব্যবসায়ী নেতা মাসুদ পরভেজ খান ইমরার। বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিন-উর রশিদ ইয়াছিন।

কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা):
এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে গত দু’মাস মাস ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, মাঠে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। তাকে এ আসনে মনোনয়নের জন্য লড়াই করতে হবে বর্তমান এমপি, সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক আলী আশরাফের সাথে। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি খোরশেদ আলম এর ছেলে আতিকুল ইসলাম শাওন। এলডিপির মনোনয়ন প্রত্যাশী দলের কেন্দ্রীয় মহসচিব রেদোয়ান আহমেদ।

কুমিল্লা-৮ (বরুড়া):
এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি নাসিমুল আলম চৌধুরী নজরুল, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি কেন্দ্রীয় বিএনপির কর্ম সংস্থান বিষয়ক সম্পাদক জাকারিয়া তাহের সুমন। জাতীয় পাটির বর্তমান এমপি অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মিলন।

কুমিল্লা-৯ (লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ):
এ আসনে সম্প্রতি সাবেক এমপি কর্নেল(অব.) আনোয়ারুল আজিম পদত্যাগ করেছেন। তাই এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি শিল্পপতি আবুল কালাম(চৈতী কালাম)। তিনি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান এমপি তাজুল ইসলাম, ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম হেলাল, শাহজালাল মজুমদার ও নুরন্নবী চৌধুরী কামাল।

কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-সদর দক্ষিণ):
এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি আবদুল গফুর ভূইয়া ও মোবাশ্বের আলম ভূইয়া।

কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম):
এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা আহ্বায়ক কামরুল হুদা। জামায়াতের মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ডা. প্রাণগোপাল দত্ত বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে দলীয় নেত্রীর কাছে আমি মনোনয়ন চাইব। এটা আমার মনের সুপ্ত বাসনা। চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবা করে যাচ্ছি। আমার মনে হয় একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আরো কাজ করার সুবিধা আছে। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার জন্যই কাজ করবো।

কুমিল্লা-৯ (লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ) আসনে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি শিল্পপতি আবুল কালাম (চৈতী কালাম) বলেন, এ আসনে আমিই মাঠে আছি। মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাবো না।

কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাড. আবদুল মতিন খসরু বলেন, আমার জনসম্পৃক্ততা রয়েছে। জনগণের সাথে আমার কখনো দূরত্ব সৃষ্টি হয়নি। দলীয় নেত্রী অতীতেও আমার উপর আস্থা রেখেছেন। ভবিষ্যতে রাখবেন বলে আমি আশাবাদী।

কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা মিয়া বলেন, নির্বাচন এলে অনেক নেতার নাম শোনা যায়। তবে যারা জনগণ ও দলের নেতাকর্মীদের নিকট গ্রহণযোগ্য তারাই মনোনয়ন পাবে বলে আমার বিশ্বাস।

তিতাসের কড়িকান্দি এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হক জানান, বাংলাদেশের দলগুলোর উচিত বয়স্ক, দুর্নীতিবাজদের বাদ দিয়ে তরুণ, জনপ্রিয় ও উদ্যমী নেতৃত্বকে সামনে আনা। যারা তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত করবে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স সৃষ্টি করবে।

দাউদকান্দি পৌর এলাকার বাসিন্দা কলেজছাত্রী ফারিয়া জাহান বলেন, জনপ্রতিনিধিরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে ব্যর্থ হন। তাই দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ জনগণকে। তাই নতুন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখতে চায় ভোটাররা।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ