কুমিল্লায় ৯টি কলেজে অধ্যক্ষ নেই

ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লার ১৭টি উপজেলার ২২টি সরকারি কলেজের মধ্যে ৯টিতে অধ্যক্ষ নেই। এ কারণে এসব কলেজের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত কলেজগুলোতে অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জোহরা আনিস বলেন, কিছু কলেজ আশির দশকে জাতীয়করণ হয়েছে। এরপর ২০১৮ সালে সরকারি হয়েছে কিছু কলেজ। এসব কলেজে অধ্যক্ষের পদ দীর্ঘ সময় শূন্য থাকলে কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা থাকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান সব সময় থাকলে প্রতিষ্ঠান গতিশীল থাকে। কলেজে সহশিক্ষা কার্যক্রম হয়। অবিলম্বে এসব কলেজের অধ্যক্ষের পদ পূরণ হওয়া দরকার।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের কুমিল্লা কার্যালয়, শিক্ষা বোর্ড ও জেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ নেই। অধ্যক্ষ নিখিল চন্দ্র রায় অবসরে যাওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। একই উপজেলার চিওড়া সরকারি কলেজে গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে অধ্যক্ষের পদ শূন্য। সেখানকার অধ্যক্ষ কার্তিক চন্দ্র সরকার অবসরে গেছেন। দেবীদ্বারের সুজাত আলী সরকারি কলেজে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে অধ্যক্ষের পদ শূন্য। এখানকার অধ্যক্ষ আবু হানিফও অবসরে গেছেন। দাউদকান্দির গৌরীপুরের মুন্সী ফজলুর রহমান সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবদুজ জাহের ২৪ ফেব্রুয়ারি অবসরে যান। এরপর থেকে এই কলেজে অধ্যক্ষের পদ শূন্য। এ চারটি কলেজ ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে জাতীয়করণ হয়েছিল।

চারটি কলেজের চারজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বলেন, এই কলেজগুলোয় অধ্যক্ষ এলে থাকতে চান না। যাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়, তাঁরা চাকরির শেষ সময়ে এখানে এসে যোগদান করেন।

একই সূত্র আরও জানায়, ২০১৮ সালে জেলায় ১০টি কলেজ জাতীয়করণ হয়। এর অর্ধেক কলেজে অধ্যক্ষ নেই। এর মধ্যে লালমাই সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল মমিন মজুমদার গত ৩১ অক্টোবর অবসরে যান। এরপর থেকে সেখানে অধ্যক্ষ নেই। দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জেসমিন আকতার এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। নাঙ্গলকোট হাসান মেমোরিয়াল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ছাদেক হোসেন ভূঁইয়া ২৮ ডিসেম্বর অবসরে যান। এরপর থেকে এখানে উপাধ্যক্ষ মো. নুরুল্লাহ মজুমদার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। মুরাদনগরের শ্রীকাইল সরকারি কলেজে ২০১৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে অধ্যক্ষের পদ শূন্য। এখানে উপাধ্যক্ষ মিয়া গোলাম সারোয়ার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। চান্দিনার দোল্লাই নোয়াবপুর সরকারি কলেজে দুই বছর আগে অবসরে যান অধ্যক্ষ মো. আবুল খায়ের সরকার। বর্তমানে উপাধ্যক্ষ মো. আবদুল মান্নান এখানে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মেঘনার মানিকারচর বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজে অধ্যক্ষের পদ দীর্ঘদিন থেকে শূন্য।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাউশির কুমিল্লা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মো. আবুল খায়ের মুন্সী বলেন, পদ শূন্যের বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানো আছে। শিগগিরই চারটি কলেজে অধ্যক্ষ দেওয়া হবে।

সূত্রঃ প্রথম আলো

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ