কুমিল্লার দেবীদ্বারে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী(১৩)কে ধ’র্ষণের অভিযোগে তার চাচাতো কাকা মোঃ শামসুল হক(৩৫)কে গ্রেফতার পূর্বক কুমিল্লা কোর্ট হাজতে চালান করেছে পুলিশ।

ওই ঘটনায় ধর্ষিতার মা’ (৪০) বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় মামলা দায়ের’র পর মঙ্গলবার সকালে দেবীদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এস,আই) নাজমুল হাসান একদল পুলিশ নিয়ে অভিযান চালিয়ে শামসুল হককে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেন। ধ’র্ষক মোঃ শামসুল হক উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামের আকামত আলী মাষ্টারের বাড়ির মৃত: ছোবহান মিয়ার পুত্র এবং বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ধর্ষিতার সম্পর্কে চাচাতো কাকা।

মামলার বাদী মার তার অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেন, গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর বিকেল ৪টায় একই বাড়ির আব্দু মিয়ার গোসল খানায় তাকে ফুসলে নিয়ে জোরপূর্বক ধ’র্ষণ করে। গত দু’দিন ধরে তার পেট ব্যাথা এবং বমি করার কারনে জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত তার চাচা মোঃ শামসুল হককে দেখিয়ে দেয়। ওই ঘটনায় সামাজিক সালিসের চেষ্টা করলেও কেউ এগিয়ে আসেননি। পরে ভি’ক্টিমের মা’ দেবীদ্বার থানায় এসে মোঃ শামসুল হককে একমাত্র আসামী করে নারী ও শিশু নি’র্যাতন আইনে দেবীদ্বার থানায় মামলা দায়ের করেন।

সরেজমিনে ওই গ্রামে যেয়ে জানা যায়, মোঃ শামসুল হক(৩৫) পেশায় একজন রাজমিন্ত্রী। রাজমিস্ত্রী হওয়ার সুবাদে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। বরিশাল, ফরিদপুর, রংপুর সহ যেখনে যেতেন সেখানেই তিনি বিয়ে করতেন। বিয়ের পর শ^শুর বাড়িতে কিছুদিন থাকার পর অন্যত্র চলে যেত। এ পর্যন্ত বিয়ে করেছেন ৮টি। বর্তমানে ২ স্ত্রী আছেন এবং তাদের গর্ভে ৫ সন্তান রয়েছে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এবং ভি’ক্টিমের চাচা ভূমিহীন সমিতির নেতা আবু মুছা, খালু মৌলভীবাজার সদর থানার উপ-পরিদর্শক(এস,আই) জাকির হোসেন’র সাথে কথা বলে জানা যায়, শামসুল হক জু’য়া, ম’দ-গা’জা, নারীর প্রতি আসক্ত ছিল। এলাকায়ও নারী কেলে’ঙ্কারীর অনেক অভিযোগ রয়েছে। সে রাতের বেলায় বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি যেয়ে মেয়েদের খোঁজে উকি ঝুকি মারত। এ নিয়ে বহুবার তাকে আটক করে মা’রধর ও সালিস করতে হয়েছে। প্রতিবেশী এক কিশোরী সম্পর্কে তার ভাইস্তির সাথে দৈহিক মিলনের পর গর্ভ’বতী হয়ে গেলে গ্রামবাসীরা ওই কিশোরীকে তার সাথে বিয়ে পড়িয়ে দেন। ওই স্ত্রীর গর্ভে ১ ছেলে ও ১ কণ্যা রয়েছে। অপর ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চলনা গ্রামের স্ত্রী’র গর্ভে ২ কণ্যা ও ১ পুত্র সন্তান সহ ৫ সন্তানের জনক তিনি।

নিজেরা করি সংস্থার মানবাধিকার কর্মী উজ্জল হাসান জানান, ভিক্টিম ধ’র্ষিতার ৫ভাই বোনের মধ্যে সবাই শারিরীক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। বড় বোন(২২) বিয়ে হয়ে গেছে, ২ ভাই (১৮) ও (৭) শারিরীক প্রতিবন্ধী, ছোট বোন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী (১১) স্থানীয় গোপালনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে।

রসুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কামরুল হাসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ধ’র্ষক একজন বখাটে, জু’য়ারী এবং নারীলোভী। এখন তার বিষয়ে কেউ সালিস দরবারে আসেন না। প্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে ধ’র্ষনের ঘটনায় তার অভিভাবকরা আমার কাছে বিচারের জন্য এসেছিল। আমি থানা পুলিশের সহযোগীতা নেয়ার কথা বলি।

দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল আনোয়ার জানান, ভি’ক্টিমের মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করার পর আসামীকে গ্রে’ফতার করে আনি। আসামী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে, তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।