কুমিল্লা দেবীদ্বার উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমিন গ্রেফতার

ডেস্ক রিপোর্টঃ জাল দলিল তৈরি চক্রের মূলহোতা কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা রুহুল আমিন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছে। সাভারের আশুলিয়া এলাকায় জাল দলিলের মাধ্যমে ১১ কোটি মূল্যের সাড়ে চার বিঘা জমি গ্রেফতারকৃত চেয়ারম্যান হাতিয়ে নিয়েছে বলে তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পর বুধবার সিআইডি পুলিশ ঢাকার শান্তিনগর থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কুমিল্লাসহ দেবিদ্বারে বিষয়টি এখন হট কেট।

বুধবার দুপুরে সিআইডির ঢাকার মালিবাগ সদর দফতরে এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানান সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের সিরিয়াস ক্রাইম স্কোয়াডের বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লাহ। তাঁরই সার্বিক নির্দেশনায়ই সিআইডির একটি দল ঢাকার শান্তিনগরের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বুধবার রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করে। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সাভারের আশুলিয়া থানাধীন পূর্ব নরসিংহপুর মৌজার সি,এস ও এস, এ ৯২ দাগ আর এস ২৭২ দাগ সিটি জরিপে ৯১৫ ও ৯১৯ দাগে ১৩৭.৫০ শতাংশ প্রায় সাড়ে চার বিঘা জমির মূল মালিক মোঃ আব্দুল হাকিম নামের এক ব্যক্তি। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১১ কোটি টাকা।

চলতি বছরের গত ২৮ এপ্রিল আব্দুল হাকিমকে আশুলিয়া এসিল্যান্ড অফিস থেকে নোটিশ দিয়ে জানানো হয়, রুহুল আমিন নামের এক ব্যক্তি জমির নামজারি ও জমা খারিজের জন্য আবেদন করেছেন। আব্দুল হাকিম এসিল্যান্ড অফিসে যোগাযোগ করার পর জানতে পারেন রুহুল আমিন নামের এক ব্যক্তি চারটি জাল দলিলের মাধ্যমে উক্ত সম্পত্তির মালিকানা দাবি করছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর চলতি বছরের ২৫ মে আব্দুল হাকিম আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের সিরিয়াস ক্রাইম স্কোয়াডের বিশেষ শাখা মামলাটি তদন্ত করে। তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়, রুহুল আমিন জাল দলিল করে জমির মালিকানা দাবি করছেন। শেষ পর্যন্ত রুহুল আমিনকে শনাক্ত করার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লাহ জনকণ্ঠকে বলেন, রুহুল আমিনকে কোন জনপ্রতিনিধি বা কোন রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে গ্রেফতার করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরেই তাকে একজন অপরাধী হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ নিয়ে রাজনীতি করার কোন সুযোগ নেই। যদিও কোন রাজনৈতিক দল এ নিয়ে মন্তব্য করে তাহলে তা উচিত কাজ হবে না। কারণ গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রুহুল আমিন কুমিল্লা জেলার দ্বেবীদ্বার উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান। স্থানীয় বিএনপি নেতা।

তিনি বলছেন, দীর্ঘ দিন ধরেই তার বিরুদ্ধে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যের জমি দখল করার অভিযোগ ছিল। অনেক জমি দখল করার পর বিক্রিও করে দেয়ারও অভিযোগ আছে। জাল দলিল তৈরি করে জমি দখল করে নেয়ার জন্য তার নিজস্ব একটি সিন্ডিকেট আছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। রুহুল আমিন সেই সিন্ডিকেটের মুলহোতা বলেও জানা গেছে। এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা রুহুল আমিনের গ্রেফতারের বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, বিএনপি’র মনোনয়নে রুহুল আমিন নির্বাচিত হলেও বর্তমানে বিএনপির সঙ্গে তার কোন সর্ম্পক নেই। দলে তার কোন পদ-পদবী নেই। তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে কিনা সে সর্ম্পকে তিনি কোন স্পষ্ট জবাব দেননি।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ