ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লা নগরীর প্রধান প্রধান সড়কের পাশে ফুটপাত নির্মাণের কাজ শেষ না হতেই বিভিন্ন স্থানে পথচারীদের পায়ের চাপে ভেঙে যাচ্ছে রঙ-বেরঙের টাইলস, বিনষ্ট হচ্ছে এসএস পাইপগুলোও। বালুর সঙ্গে সামান্য সিমেন্টের মিশ্রণে যেনতেনভাবে টাইলসগুলো লাগানোসহ নিম্নমানের এসএস পাইপের কারণে এগুলো সহসাই বিনষ্ট হয়। এ ছাড়া বেশির ভাগ স্থানে ফুটপাতের মাঝখানে বিভিন্ন জাতের গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি, বিলবোর্ড ও ফ্যাস্টুনের কারণে এসব ফুটপাতে হাঁটাচলা করা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন পথচারী ও বাসিন্দারা।

কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও নগরীর দক্ষিণ চর্থার বাসিন্দা মো. সহিদ উল্লাহ জানান, ‘প্রকৃত ঠিকাদার কাজ করেন না, হাত বদল হয়ে কাজ করেন অন্য ঠিকাদার। কাজের তদারকিও তেমন দেখা যায় না। ফলে কাজের গুণগত মান টেকসই হয় না এবং কিছুদিন না যেতেই এসব কাজ বিনষ্ট হয়ে জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’

কুসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শেখ মো. নূরুল্লাহ জানান, ‘নোয়াগাঁও এলাকা থেকে কাঁটাখালী খালের সুলতানপুর এলাকার কদমতলী সেতু পর্যন্ত ৬৭৬ মিটার রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের দুই মাসের মধ্যে গত ১৮ এপ্রিল এ অংশের ৪৭ মিটার দেয়াল ধসে খালে পড়ে যায়। ধসে পড়া রিটেইনিং ওয়াল এখনো পুনঃনির্মাণ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে, কাগজ হাতে পেলেই তা করা হবে।’

কুসিকের প্রধান প্রকৌশলী মো. সফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, ‘ফুটপাতের অনেক স্থানে কালভার্ট, গ্যাস ও পানির লাইনের কারণে সমস্যা হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে ফুটপাতের ভেতরে ইঁদুরে মাটি সরিয়ে ফেলছে, তাই টাইলসের নিচের মাটি আস্তে আস্তে সরে যাওয়ায় কোথাও হয়তো পথচারীদের পায়ের চাপে টাইলস ভেঙে যাচ্ছে।’

কুসিক মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘সিটি এলাকায় জাইকা ও এডিবির অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। আমাকে সকল কাজ দেখতে হয়। কাজে ত্রুটি নেই একথা বলি না, চেষ্টা করি যেন ত্রুটি না হয়। মূল সমস্যা হচ্ছে—বড়ো ঠিকাদার কাজ নেয়; কিন্তু নিজে করে না, তারা অন্য ঠিকাদার দিয়ে কাজ করায়। এ ছাড়া ফুটপাতের বিদ্যুতের পিলার ও গাছ সরানো সম্ভব না। অনেক স্থানে টাইলস ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ সত্য। এজন্য ঠিকাদারের সিকিউরিটির টাকা আটকে রেখেছি, সঠিকভাবে কাজ বুঝে পাওয়ার পরই তা দেওয়া হবে।’

সূত্রঃ ইত্তেফাক