ডেস্ক রিপোর্টঃ দাতা সংস্থা জাইকার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য তৈরি ড্রেনেজ ব্যবস্থা কোন কাজেই আসে না। গতকাল মাত্র এক ঘন্টার বৃষ্টিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কুমিল্লা নগরী। আজ সকালের বৃষ্টি আরো ভয়াবহ করে তুলেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজারো পরিবার।

শনিবার সন্ধ্যা ও রবিবার বেলা বারোটার বৃষ্টিতে নগরীর প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড় পানিতে তলিয়ে যায়। সেই সাথে নগরীর স্টেডিয়াম রোড, নজরুল অ্যাভিনিউসহ প্রধান সড়ক ডুবে যায়। রেইসকোর্স, দ্বিতীয় মুরাদপুর এলাকায় বাসা বাড়িতে পানি প্রবেশ করে গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে হাজারো পরিবার। চরম দূর্ভোগে থাকা মানুষগুলো কীভাবে রাত পার করবে তা নিয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছে। ড্রেনের ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির কাছে অসহায় মানুষগুলো সিটি কর্পোরেশনের কাছে এমন অসহায় অবস্থা থেকে মুক্তি চায়। বিগত দু,দশক ধরে কুমিল্লা শহরের বিভিন্নস্থানে এমন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে আসছে।

>>আরো পড়ুনঃ  কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক, ফোর লেনের কাজ শেষ ২০২০ সালে

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড় লাকসাম রোড, কান্দিরপাড় নজরুল অ্যাভিনিউ, বাদুরতলা, ডাক্তারপাড়া, তালপুকুর রোড, ফয়জুন্নেছা স্কুল রোড, শিক্ষাবোর্ড এলাকা, টমসম ব্রীজ এলাকা, উত্তর চর্থা, দক্ষিণ চর্থা, ঢুলিপাড়া, থিরাপুকুর পাড়, জিলা স্কুল-ষ্টেডিয়াম রোড, নুরপুর হাউজিং, নতুন চৌধুরীপাড়া, ডিসি রোড, মুরাদপুর, পার্ক রোড, রেসকোর্স, সিটি করপোরেশনের পিছনের সড়কসহ নগরীর বিভিন্নস্থান পানিতে তলিয়ে গেছে। ড্রেন থাকা স্বত্বেও পানি নামছে না। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে নগরীর বাসা-বাড়ি, দোকান-পাট বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে করে চরম দুর্ভোগে রয়েছে অসংখ্য মানুষ।

রেইসকোর্স এলাকার বাসিন্দা মো. আফজল হোসেন, মো.ফারুক আহমেদ, দ্বিতীয় মুরাদপুর এলাকার সৈকত,জীবন,জাহাঙ্গীরসহ আরো অন্তত কুড়িজন লোক অভিযোগ করে জানান, মেয়র শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে দু বার নির্বাচিত হয়েছেন। কাজের কাজ কিছুই হয় নি। আমরা আগেও বৃষ্টি হলে যেমন পানিবন্দী থাকতাম এখন আগের চেয়ে আরো বেশী পানিবন্দী অবস্থায় আছি। যে পরিমাণ উচু করে ড্রেন তৈরি করছে এই ড্রেইন পুকুরের পাড়ের মত হইয়া গেছে। এহন আমডার বাসা বাড়ির পানিই নামতে পারে না। ভাইরে ভীষণ যন্ত্রনা আছি।

>>আরো পড়ুনঃ  কুমিল্লার কামার শিল্পীদের ব্যস্ত সময়

সুত্র জানায়, বিগত দু,বছর ধরে জাপানী উন্নয়ন সংস্থা (জাইকা)’র অর্থায়নে নগরীর শাসনগাছা, রেসকোর্স, বাগিচাগাঁও, ফায়ার সার্ভিস রোড, কান্দিরপাড় নজরুল অ্যাভিনিউ, রানীরবাজার, অশোকতলা, ষ্টেশন রোড, পুলিশ লাইন, জেল রোড, ধর্মসাগরের পশ্চিমপাড়, ঝাউতলা, বাদুরতলা, মনোহরপুর, সার্কিটহাউজ রোড, আদালতের মোড়, তালপুকুর রোড, ফয়জুন্নেসা স্কুল রোড, ডাক্তার পাড়া, সদর হাসপাতাল রোড, ছাতিপট্টি, রাজগঞ্জ, মোগলটুলীসহ প্রায় একশ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটিকরপোরেশন বক্স ড্রেন নির্মাণ করলেও এসব ড্রেন পানি নিস্কাশনে কোন কাজে আসছেনা। অভিযোগ রয়েছে সিটি করপোরেশনের সুষ্ঠু তদারকির অভাবে এসকল ড্রেনের কাজ অনেক স্থানেই অসমাপ্ত পড়ে রয়েছে।

আবার কোথাও ড্রেনের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই ঠিকাদার ড্রেন নির্মাণ কাজ শেষ করে ফেলেছে। ফলে ময়লা আবর্জনা জমে পানি চলাচল ব্যহত হচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অজ্ঞাত কারণে সেগুলো দেখেও না দেখার ভান করায় এখন দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

>>আরো পড়ুনঃ  কুমিল্লা মেডিক্যালে স্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তোলপাড়

এ বিষয়ে সিটি মেয়র মো.মনিরুল হক সাক্কুর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এখনো ড্রেনের কাজ বাকি আছে। সম্পূর্ণ কাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতা থাকবে না।

সূত্রঃ আমাদের সময়

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ