ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল দশায় যাত্রী দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। এর শিকার হচ্ছেন কুমিল্লা ও চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলার যাত্রী, নোয়াখালী এবং লক্ষ্মীপুরসহ অন্যান্য জেলার যাত্রীরাও। যাত্রী ও পরিবহন চালকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই বছর ধরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। এতে দুর্ভোগে পড়ছেন এই সড়কে চলাচল করা হাজারো গাড়ির যাত্রী। ভাঙা সড়কে গাড়ি চালাতে গিয়ে সময় নষ্ট, যানজট আর গাড়ি বিকল হওয়ায় ক্ষুব্ধ পরিবহন মালিক এবং শ্রমিকরা। কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের অধিকাংশই ভাঙা। কুমিল্লা পদুয়ার বাজারের পর থেকে ভাঙা শুরু হয়েছে। এসব স্থানে গাড়ি চলে হেলেদুলে। ধীর গতিতে গাড়ি চলায় সেখানে প্রায়ই যানজট লেগে থাকছে। বেশি খারাপ অবস্থা বাগমারা বাজার ও লাকসাম বাইপাসের দক্ষিণ অংশে।

>>আরো পড়ুনঃ  কুমিল্লায় টানা বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত

এ ছাড়া লালমাই, হরিশ্চর, লাকসাম বাইপাস, খিলা, নাথেরপেটুয়া, বিপুলাসার, সোনাইমুড়ি, বেগমগঞ্জ থানা এলাকাসহ মাইজদীর বিভিন্ন অংশে ভাঙা রয়েছে। এদিকে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের ফোরলেন প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ লাকসামের দৌলতগঞ্জ বাজার বাইপাস ও লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজার। এখানেই বেশি যানজটের সৃষ্টি হয়। এ দুই স্থানে ফোরলেনের কাজও শুরু হয়নি। কবে শুরু হবে তারও কোনো তথ্য নেই। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লার তথ্যানুযায়ী, কুমিল্লা নগরীর টমছম ব্রিজ থেকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ পর্যন্ত ৫৯ কিলোমিটার ফোরলেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর জেলাসহ সারা দেশের মানুষ উপকৃত হবেন। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া কাজ ২০২০ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা। এর ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ১৭০ কোটি টাকা।

>>আরো পড়ুনঃ  কুমিল্লা নগরী পানিবন্দি, জনদুর্ভোগ চরমে

দৌলতগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাবারক উল্যাহ কায়েস বলেন, দৌলতগঞ্জ বাজার বাইপাসে প্রতিদিনই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বাণিজ্যিক কেন্দ্র খ্যাত দৌলতগঞ্জের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই বাইপাসের কাজটি দ্রুত শেষ করার অনুরোধ জানাচ্ছি। উপকূল বাস সার্ভিসের পরিচালক অধ্যাপক কবির আহমেদ জানান, সড়ক ভাঙা হওয়ায় ঘন ঘন গাড়ি বিকল হচ্ছে। দ্রুত সড়কটি মেরামত করা না হলে গাড়ি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। এ ছাড়া লালমাইয়ের পরে সড়কের লাকসাম পর্যন্ত এখনো ফোরলেনের টেন্ডার হয়নি।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. আহাদ উল্লাহ বলেন, সড়কের যেখানে সংস্কারের প্রয়োজন সেখানেই সংস্কার করা হচ্ছে। ফোরলেন প্রকল্প অনুযায়ী লাকসাম দৌলতগঞ্জ বাজারের বাইপাস ও লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজার অংশের ফোরলেনের কাজে ভূমি অধিগ্রহণে সময় লাগছে। এ নিয়ে সিদ্ধান্তে আসতে আরও পাঁচ বা ছয় মাস সময় লাগতে পারে।

>>আরো পড়ুনঃ  কুমিল্লায় জন্ম নিবন্ধন নিয়ে সীমাহীন দূর্নীতির অভিযোগ

সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ