বুড়িচং প্রতিনিধিঃ কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলা ৯টি ইউনিয়নে গ্রামীণ সড়ক সহ কুমিল্লা-বুড়িচং-মিরপুর এম এ গণি সড়কটি বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে পুুকুরে পরিনত হয়েছে। এতে যানজট, গাড়ী ও মানুষ চলাচলের সীমাহীন দূর্ভোগ এবং দূর্ঘটনার ঝুকি হয়ে পড়েছে। জনসাধারন যানবাহনে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

এ গণি সড়কটির প্রায়ই ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তে পরিনত হয়ে রাস্তার বেহাল দশা হয়ে পড়েছে। এই সড়কটি ছাড়াও জেলার বুড়িচং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনসাধারনের চলাচলের প্রায় সকল গ্রামের পাকা সড়ক গুলো কার্পেটিং, পিচ এবং কংক্রিট উঠে গিয়ে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টির হয়েছে। আর সে সমস্ত কাচা রাস্তার সে গুলোর আরো নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সে সমস্ত রাস্তার গুলো হল বুড়িচং পুরাতন বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন-মাদ্রাসা সড়ক, বুড়িচং- কালিকাপুর সড়কের বিভিন্ন স্থান, বাকশীমূল-রসুলপুর, চড়নল-লরিবাগ-বারেশ্বর-মাদ্রাসা রাস্তা, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নগর পাড়-বারেশ্বর-সাহেবাবাদ বাজার সংযোগ রাস্তা, এর মধ্যে বুড়িচং উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা গুলো হল বুড়িচং-গোবিন্দপুর-রামপুর পোষ্ট অফিস সড়ক-গোবিন্দপুর বাজার, গোমতি প্রতিরক্ষা বাধ-কোমাল্লা সড়ক, সাদকপুর-মালাপাড়া-কংশনগর, বুড়িচং-জগতপুর-পুর্ণমতি সড়ক, ষোলনল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: সিরাজুল ইসলাম জানান, ওই ইউনিয়নের ভরাসার বাজার, শিমাইলখারা, সোনাইসার-পূর্বহুড়া, কাহেতরা-পূর্বহুড়া সড়কের নাজুক অবস্থা। বাকশীমূল ইউনিয়নের সীমান্ত অঞ্চলের ৮-১০টি সড়ক অবস্থা একেবারে করুন এর মধ্যে কালিকাপুর-শ্রীমন্তপুর, কালিকাপুর -আনন্দপুর, ধর্মনগর-জামতলা সড়কের বেহাল দশা।

>>আরো পড়ুনঃ  কুমিল্লা মেডিক্যালে স্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তোলপাড়

এছাড়াও বিভিন্ন স্কুল প্রতিষ্ঠানের সড়কগুলো জনসাধারন চলাচলের দূর্ভোগ হয়ে পড়েছে। যার ফলে উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রাস্তার মাটি ক্ষয়ে যাওয়ার কারনে জনগণকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অথচ উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সহ বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে জানা যায় সড়কার রাস্তাঘাট নির্মাণে অগ্রাধীকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়াও জানা যায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মোকাম, পীরযাত্রাপুর, ভারেল্লা উত্তর, ভারেল্লা দক্ষিণ সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়কের চলাচলের বেহাল দশা হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, এক শ্রেণির অসাধু বালু, মাটি ব্যবসায়ীরা গোমতীর নদীর চর থেকে মাটি এনে বিভিন্ন সড়ক দিয়ে দৈনিক ২-৩শত ট্রাক যোগে মাটি, বালি ভরাট করে ভারি মালামাল গাড়ী চলাচল করার কারনে এইসব রাস্তাগুলো বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

>>আরো পড়ুনঃ  কুমিল্লার কামার শিল্পীদের ব্যস্ত সময়

এ ব্যাপারে ষোলনল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম জানান, তার এলাকার রাস্তাঘাট গোমতীর বালু মাটি অতিরিক্ত ভারি ট্রাক চলাচল করার কারনে এমন অবস্থা।

এই ব্যাপারে বুড়িচং উপজেলার প্রকৌশলী জিহান আল তুহিন জানান, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সড়ক গুলোর অধিকাংশ সংস্কার এবং অনেক নতুন সড়কের ইতিমধ্যে কাজ হাত নিয়েছি এবং কিছু কিছু সড়কের কাজ চলছে আবার কিছু কিছু সড়কের বৃষ্টির কারণে কাজ স্থগিত রয়েছে। আবার কিছু কিছু সড়কের কাজ করার পর তিন বছর পূর্ণ না হলে নতুনভাবে সংস্কার করা যাবে না। তবে এইসব সড়কের বড় বড় গর্ত গুলো আমরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি পরিশেষে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন গোমতী চর অঞ্চলের অনেক রাস্তাঘাট বেহাল দশা হওয়ার কারন হল গোমতীর বালু ও মাটি ট্রাকযোগে অতিরিক্ত চলাচলের কারনে এমন দশায় পরিনত হয়েছে। গোমতীর বালু মহলদেরকে বাধা প্রদান করলেও শুনছে না। আর কুমিল্লা-বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া-মিরপুর এ সড়কটি আমাদের আওতায় নেই।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ