“কুমিল্লা মডেল” বিশ্বের গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনের পথিকৃৎ

ডেস্ক রিপোর্টঃ দক্ষিণ কোরিয়ার গ্রাম উন্নয়নের মডেল ‘সেমাউল উনদং গ্লোবাল লীগ’ এর প্রেসিডেন্ট ড. সো জিং ওয়াং বলেছেন, বিশ্বের গ্রামীণ জনগোষ্ঠির দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য ড. আখতার হামিদ খানের উদ্ভাবিত বাংলাদেশের ‘কুমিল্লা মডেল’ একটি পথিকৃৎ। গত শতকের ষাটের দশকে বাংলাদেশের কুমিল্লা মডেল পদ্ধতির ভাবধারায় ১৯৭০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় সেমাউল উনদং কর্মসূচি চালু করা হয়। এ ধারণার আলোকে ২০১৬ সালে এশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয়, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার ৫১টি দেশকে নিয়ে সেমাউল উনদং গ্লোবাল লীগ দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যক্রম শুরু করে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী কুমিল্লার একটি হল রুমে এ সংবাদ সম্মেলনে হয়।

‘সেমাউল উনদং গ্লোবাল লীগ’ এর প্রেসিডেন্ট ড. সো জিং ওয়াং আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি সুন্দর ও সম্ভাবনাময় দেশ। কুমিল্লা মডেল, বার্ডের কার্যক্রম ও চিন্তা কাঠামোর সাথে সেমাউল উনদং কর্মসূচির যথেষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে। এ পরিবর্তনের আবহে একদিকে গ্রামীণ উন্নয়ন সাধিত হবে এবং অন্যদিকে দারিদ্র্য বিমোচন এবং শহর ও গ্রামের মধ্যে বৈষম্য হ্রাসের মাধ্যমে শহরমুখি অভিবাসন হ্রাস পাবে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক ধারণা ও অনুশীলন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা। অতি দরিদ্র কোরিয়া ১৯৭০ সালে সেমাউল উনদং এর ধারণা প্রয়োগের মাধ্যমে আজ বিশ্বের নবম শক্তিধর দেশে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এর ১১ বছর আগে ১৯৫৯ সালে একই ধারণা নিয়ে বার্ড প্রতিষ্ঠা হলেও তা পূর্ণাঙ্গভাবে এখনো সফল হয়নি। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ‘টপ টু বটম’ নীতিতে চলে, আর কোরিয়া চলে ‘বটম টু টপ’ নীতিতে। কোরিয়া বিশ্বাস করে তৃণমূলের সমস্যা তাদের নিজেদেরই সমাধান করতে হবে, আর বাংলাদেশ হচ্ছে উপর থেকে তা করে দেবে। এ ধারণায় পরিবর্তন আনতে হবে, তা না হলে সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। সংবাদ সম্মেলনের অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বার্ডের মহাপরিচালক ড. মোহাম্মাদ মিজানুর রহমান, পরিচালক (প্রশাসন) ড. কামরুল আহসান, পরিচালক (প্রকল্প) মিজানুর রহমান, দক্ষিণ কোরিয়ার গ্রাম উন্নয়ন উদ্যোগ সেমাউল উনদং সেন্টারের ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন ব্যুরোর পরিচালক বে ইয়াং বং এবং ম্যানেজার সো জুং ঘো।

সূত্রঃ ইত্তেফাক

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ