ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের দাবিতে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাস্কুকে সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা।

সোমবার দুপুরে কোটবাড়িতে রাস্তা সংস্কারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এ আল্টিমেটামের ঘোষণা দেন। মানববন্ধনে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসের সবুজ কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে হুঁশিয়ার করে বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রাস্তার কাজ না ধরলে আর ১ মাসের মধ্যে রাস্তা সম্পন্ন না করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হবে।

মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদ, সাধারণ শিক্ষার্থী পরিষদের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাজহারুল ইসলাম হানিফসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এসময় শিক্ষার্থীরা খুব শীঘ্রই রাস্তা সংস্কারের দাবি জানান। উল্লেখ্য, কোটবাড়ি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গামী রাস্তার সড়কের পিচ তুলে ফেলায় রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এ রাস্তা যাতায়াতের অনুপযোগী হয়ে যায়। ফলে এ রাস্তার হাজারো যাত্রীকে প্রতিদিন সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

উল্লেখ্য দেশের অধিকাংশ প্রত্নতাত্তিক নিদর্শন অবস্থিত কুমিল্লায়। কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শালবন বিহার, ময়নামতি জাদুঘরসহ অসংখ্যা প্রত্নতাত্তিক স্থান। এর পাশেই অবস্থিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। কোটবাড়ি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুরত্য প্রায় আড়াই কিলোমিটারের মত। কিন্তু রাস্তা সংস্কার কাজ শুরু হয়ে থমকে যাওয়ায় এই আড়াই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতেই প্রতিদিন দৃর্বিষহ হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যসহ হাজারো পথচারী। শুধু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ই নয় কোটবাড়ি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশসহ এই অঞ্চলে রয়েছে বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এই অঞ্চলের রাস্তার বেহাল দশার কারনে প্রতিনিয়তই ছোটবড় দুর্ঘনায় পড়তে হয় শিক্ষার্থী, সাধারণ জনগনসহ ঘুরতে আসা পর্যটকদের।

কালবন বিহার, ময়নামতি যাদুঘর, বাংলাদেশ পল্লীউন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), কুটিলামুড়া, রুপবানমুড়া, নব শালবন বিহার, বøুওয়াটার পার্ক, ডাইনোপার্ক, ম্যাজিক প্যারাডাইসপার্কসহ বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক নিদর্শন ও বিনোদনের জন্য পার্কসহ দর্শনীয় স্থান গুলোর অনেক গুলোই বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশসহ এই অঞ্চলে অবস্থিত। কিন্তু এই স্থানে আসতে হলে দর্শনার্থীদেরও পোহাতে হয় নানাবিধ সমস্যা। রাস্তাটির বেহাল দশার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনসহ দর্শনার্থীদের ও মানুষ চলাচলের যানবাহন গুলো প্রায়শই রাস্তায় আটকে থাকতে দেখা যায়।

তাছাড়া কোটবাড়ির আশেপাশেই রয়েছে কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে বোর্ড কলেজ, বর্ডারগার্ড স্কুল এন্ড কলেজ, ল্যাবরেটরি স্কুল, সিসি এন পলিটেকনিক, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক সরকারি ও বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠান গুলোর জন্য চলাচলের রাস্তাটির দিকে তাকালে মনে হয় যেন এই অঞ্চলটিই পরিত্যক্ত। রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু করলেও বেশ কিছু স্থানের রাস্তার পিচের কার্পেটিং তুলে ইট সুড়কি দিয়ে আরও বেহাল অবস্থা করে রেখেছে। আবার বৃষ্টি হলে পানি জমে সৃষ্টি হয় নানাবিধ সমস্যা। কোথাও হয়ে পড়ে চলাচলের অনুপযোগী। গাড়ি চলাচলসহ মানুষ পারাপারের অনুপযোগী এমনকি বৃষ্টির সময় রাস্তার অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়না অনেক স্থানে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোটবাড়ি পর্যন্ত প্রধান সড়কটিতে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে বর্তমানে বৃষ্টির পানি জমে বর্তমানে সেগুলো এখন বড় আকার ধারণ করেছে। কোথাও কোথাও পানি জমে রাস্তার অস্তিত্বই বিলীন করে দিযেছে। যার ফলে নিয়মিতই ছোটবড় দূর্ঘটনার কবলে পড়ছে যান বাহনগুলো। তাছাড়া রাস্তার ছোটবড় গর্তগুলো এখন বড় বড় মৃত্যুকুপে পরিনত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীদেও পরিবহন গুলো প্রায়শই রাস্তা অব্যবস্থাপনার কারনে ইতিমধ্যে বিকল হয়ে পড়ে। যাতে সমস্যার সম্মুখীন হয় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যসহ পথচারীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, কোটবাড়ী থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যন্ত যাওয়ার জন্য এটিই একমাত্র সড়ক, কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থায় থাকায় পড়ে আছে। বারবার কাজ শুরু কওে অসম্পূর্ন রেখে কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে প্রতিনয়ততে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাজারো পথচারীদের।

কুমিল্লা সিটিকর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, সড়কটির দৈর্ঘ্য ২ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে সড়কটিসহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি রাস্তা ও নালা নির্মাণে ৩৮ কোটি ১৫ লক্ষ ৭০ হাজার ২৬৮ টাকার কর্মসূচী চলছে।

এ ব্যাপাওে সিটিকর্পোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘ইতিপূর্বে আমরা এই রাস্তার কার্পেটিং এর টেন্ডার করেছিলাম। সম্প্রতি পুরো সংস্কারের টেন্ডার হয়েছে। যেসব জায়গায় পানি জমে থাকে সেখানে আরসিসি’ও কাজ হবে। আমরা ঠিকাদারদের দ্রুতকাজ শেষ করার জন্য নির্দেশ দিচ্ছি। এই মাসের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।