বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে গেছে ভারত। এই পরাজয়ে ক্ষুব্দ ভারতীয় সমর্থকরা। এ নিয়ে কোহলিরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রলের শিকার হয়েছে।

টুইটারে একজন লিখেছেন, ‘প্রেমিকার সঙ্গে বিচ্ছেদের চেয়ে এই হার বেশি কষ্টের’। আরেকজন একটি ছবি দিয়ে তাতে লিখেছেন, ‘ড্রেসিং রুমে আর কোনো ব্যাটসম্যান আছে কিনা তা দেখছে কোহলি।’

এছাড়া সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কিছু ছবিতে দেখা গেছে হারের পর টেলিভিশন ভাঙছেন ক্ষুব্ধ ভারতীয় সমর্থকরা।

এবারের বিশ্বকাপে টপ ফেভারিট ছিল ভারত। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে শিরোপার সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে জয়ী ধরে নেয়া হচ্ছিল বিরাট কোহলির ভারতকেই। গ্রুপ পর্বে মাত্র একটি ম্যাচ হেরেছিল তারা। একটি ভেসে গিয়েছিল বৃষ্টিতে। তবুও ১৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকেই সেমিফাইনালে উঠেছিল তারা।

সূচি অনুযায়ী ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে পয়েন্ট টেবিলের চার নম্বর দল নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হলো টিম ইন্ডিয়া। বৃষ্টি শঙ্কা মাথায় নিয়েই মঙ্গলবার শুরু হয় ফাইনালে ওঠার লড়াই। শেষ পর্যন্ত শঙ্কা সত্যি করে নেমে এলো বৃষ্টি। নিউজিল্যান্ডের ৪৬.১ ওভারে করা ২১১ রানের মাথায় নামা বৃষ্টি ম্যাচটাকে ঠেলে দিলো রিজার্ভ ডেতে।

আজও বৃষ্টির শঙ্কা ছিল কিন্তু সে শঙ্কা আর সত্যি হয়নি। বৃষ্টি নামেনি। তবে আদ্র আবহাওয়ার কারণে উইকেটের যে পরিবর্তন তাতে আগুন ঝরিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের পেসাররা। শুরুতেই ট্রেন্ট বোল্ট আর ম্যাট হেনরির আগুন ঝরানো বোলিংয়ের সামনে দিশেহারা হয়ে পড়ে ভারতের বিখ্যাত বিশাল ব্যাটিং লাইনআপ।

আগের ৮ ম্যাচে ৬৪৮ রান করা রোহিত শর্মা এবার আউট হয়ে গেলেন মাত্র ১ রান করে। বিরাট কোহলি হলেন এলবিডব্লিউর শিকার। তাও ১ রানে। টপ অর্ডারের আরেক ব্যাটসম্যান লোকেশ রাহুলও আউট হলেন ১ রানে। অর্থ্যাৎ ভারতের তিনজন মূল ব্যাটসম্যানই ফিরে গেলেন ব্যক্তিগত ১ রানে। ৫ রানে যখন স্কোরবোর্ডে ৩ উইকেট, তখন তো রীতিমত কাঁপছিল পুরো ভারতবর্ষ। গ্যালারিতে হাত তুলে প্রার্থনা শুরু করেছিলেন সমর্থকরা।

মহেন্দ্র সিং ধোনি আর রবীন্দ্র জাদেজার ১১৬ রানের জুটির পর চূড়ান্ত নাটকীয়তা তৈরি হয়। নিশ্চিত হেরে যাওয়া ম্যাচটিতে ভারতকে এই দু’জন টেনে তোলেন জয়ের ট্র্যাকে। ৬ উইকেটে ৯২ থেকে ভারতকে তারা নিয়ে যান ২০৮ রানে। এ সময়ই ভুলটি করে বসলেন জাদেজা।

মাথার ওপর ঝেঁকে বসা রান তাড়ার চাপটা সামলাতে পারেননি। ট্রেন্টে বোলের বলে বিগ শট খেলতে গিয়ে আকাশে বলটা তুলে দিলেন। জায়গায় দাঁড়িয়ে বলটি তালুবন্দী করে নিলেন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ৫৯ বলে ৭৭ রান করে ফিরে যান জাদেজা। ৪টি করে বাউন্ডারি এবং ছক্কার মার মারেন তিনি।

গ্রেট ফিনিশার বলা হয় মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। বলা হয় খুব ঠাণ্ডা মাথার খেলোয়াড় তিনি। কঠিন চাপের মুহূর্ত থেকেও দলকে বের করে আনার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে তার। সেখানে যদি তিনি যোগ্য একজন সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন রবীন্দ্র জাদেজাকে, তাহলে তো কথাই নেই। দু’জনের ব্যাটে ১১৬ রানের জুটি নিশ্চিত হারের ম্যাচটিকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছিল ভারত।

কিন্তু জাদেজা ফিরে যাওয়ার পর নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন ধোনি। তবুও ঠাণ্ডা মাথার খেলোয়াড় ধোনি চেষ্টা করেন ভারতকে জয় এনে দেয়ার। ৪৯তম ওভারের প্রথম বলে লকি ফার্গুসনকে বাউন্ডারির বাইরে আছড়ে ফেলেন ধোনি। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার, তৃতীয় বলে দ্রুত দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে মার্টিন গাপটিলের সরাসরি থ্রোতে আউট হয়ে ফিরে যান ধোনি। ৭২ বলে ৫০ রান করে আউট হন তিনি। এরপর বাকি ছিল কেবলই ভারতের পরাজয়ের আনুষ্ঠানিকতা।

এই হারের পর থকেই সামাজিক যোগাযোগ মধ্যমে ভারত দলকে নিয়ে তুমুল ঝড় উঠে। এ জয় যেন নিউজিল্যান্ডের জয় না। গোটা বাংলাদেশের জয়।

তাসলিমা হাসান তমা লিখেন, ‘নিউজিল্যান্ডের অসাধারণ বোলিং এ ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ।’

মঞ্জুরুল মোর্শেদ মর্শাল নামের একজন ফেসবুকে লিখেন, ‘পুরা ওয়ার্ল্ডকাপে গাপটিল যেই কাম করতে পারে নাই, এক ডিরেক্ট থ্রোতে ধনী কে গরিব বানিয়ে সেই কাজ করে দিল।’

কোহলিকে বেয়াদপ আক্ষা দিয়ে মামুনুর রহম চয়ন তার ফেসবুকে লিখেন, ‘কোহলির বেয়াদবি আর অহংকারের পতন ঘটল।’

এদিকে টাইগার কপ্তান মাশরাফি বিন ম*র্তুজার ভাই মোরসালিন বিন ম*র্তজা তার ফেসবুক লিখেন, ‘এখনো কানে ভাসে। যখনই আম*রা বলতাম ‘বাংলাদেশ’ তখনই তারা বলতো হারেগা।’

আহম্মেদ রিয়াদ নামের একজন লিখেন, ‘ভারতে টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মুস্তাফিজুরের রান আউটটা ব্যঙ্গ করেছিল ধারাভাষ্যকাররা। ট্রল করেছিল। আজকের ম্যাচের ধোনির রান আউটটা ব্যঙ্গ করা দরকার আছে কি?’