ছোট্ট তুবাকে ভর্তির জন্য বাড্ডার একটি স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়েই গত ২১ জুলাই ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তাসলিমা বেগম রেনু (৪০)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সেই তাসলিমা বেগম রেনুর ছোট্ট মেয়ে তাসমিন মাহিরা তুবা এবারের ঈদ করেছে মাকে ছাড়াই। চার বছর বয়সী তুবা ঈদের দিন মায়ের জন্য খিচুড়ি রেঁধেছে। খেলনা পাতিলে রান্না করা ওই খিচুরি নিয়ে মায়ের অপেক্ষায় প্রহর গুণেছে। দিনভর মায়ের আশায় বসে থেকে খিচুরি না খাওয়াতে পেরে কান্না করেছে বারে বারে। তুবার চোখের পানিতে বুক ভিজেছে তার স্বজনদেরও। এর আগের ঈদ তুবা তার মায়ের সঙ্গেই করছে। এবারই প্রথম ঈদে মায়ের স্নেহ বঞ্চিত হয়েছে সে।

ঈদের দিন সোমবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় মহাখালীর ওয়ারলেস গেট এলাকায় রেনুদের বাসায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খেলনা চুলায় ছোট্ট রান্নার হাঁড়ি চড়িয়ে ব্যতিব্যস্ত ছিল সে। কী রাঁধছ কেউ জানতে চাইলে জবাব দেয়, খিচুড়ি। তুবার বিশ্বাস মা আমেরিকা থেকে এসে তার রান্না করা খিচুড়ি খাবে।

তুবার খালা নাজমুন নাহার নাজমা জানান, খেলনা ফোনটা কানে দিয়ে মায়ের সঙ্গে একা একাই কথা বলে তুবা। ওর এমন আচরণে বুকটা ছিড়ে যায়। কিন্তু ছোট্ট মেয়ের সামনে কাঁদতেও পারি না।