গোমতীর মাটিবহনে নষ্ট হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশ

মো.জাকির হোসেনঃ কুমিল্লার গোমতী নদীর প্রতিরক্ষা বাধেঁর ভিতর থেকে অবাধে একশ্রেনীর ভূমি দস্যূ মাটি কেটে দিনরাত মহাসড়কের উপর দিয়ে বিভিন্নস্থানে মাটি পরিবহন করছে। এতে দেশের পাইপলাইন খ্যাত জাতীয় প্রধান ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর ট্রাক,ট্রাক্টর থেকে মাটি পড়ে নষ্ট হচ্ছে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান।

বিষয়টি প্রশাসনের নজরে থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তারা নিরব ভূমিকা পালন করছে। যানবাহন থেকে মাটি,বালু পড়ে প্রতিদিন মহাসড়কের বিভিন্নস্থান এভাবে নষ্ট হচ্ছে । পাশাপাশি বহনকারী যানবাহন থেকে ধুলো উড়ে মহাসড়কে চলাচলরত বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীসহ চালকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিন ঘুরে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া তথ্য ও চিত্রে দেখা যায়,দেশের প্রধান জাতীয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের বুড়িচং উপজেলার কামারখাড়া,বাবুবাজার,পাশ্ববর্তী সদর উপজেলার আলেখারচর, পালপাড়া, ষোলনল, ময়নামতি, পীরযাত্রাপুর, গোবিন্দপুর, কংশনগরসহ উপজেলার বেশ ক’টি স্থান থেকে একশ্রেনীর ভূমি দস্যূ প্রতিদিন জেলার প্রধান নদী গোমতীর প্রতিরক্ষাবাধেঁর ভিতর থেকে দিনে-রাতে সমানে মাটি কেটে ট্রাক, ট্রাক্টরযোগে মাটি মহাসড়ক দিয়ে পরিবহন করে ব্রীকস্ ফিল্ড,হাউজিং প্রকল্পসহ নীচু ভূমি ভরাটের কাজে নিয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত মাটি বহনের কারণে এসকল যানবাহন থেকে মহাসড়কে অবাধে পড়ছে মাটি। এতে চিত্র বদলে গেছে মহাসড়কের । দেখলে বোঝার উপায় নেই এটি কি জাতীয় প্রধান মহাসড়ক না গ্রামের কোন রাস্তা।

এছাড়াও দাউদকান্দি মেঘনা-গোমতী ব্রীজের দু’পাশ থেকে প্রতিদিন অসংখ্য ট্রাক , ট্রাক্টরে করে বালু,পাথর মহাসড়ক হয়ে জেলাসহ জেলার বাইরে বিভিন্নস্থানে নির্মান বা ডোবা,পুকুর ভরাটসহ আবাসনের নানা কাজের জন্য নিয়ে যাচ্ছে। মাটি পরিবহনের ক্ষেত্রে একই চিত্র দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত মহাসড়কের ৯৭ কিলোমিটার অংশের। দেখা যাচ্ছে ট্রাক বা ট্রাক্টরে ভেজা বালু তুলে পরিবহন করায় মাইলের পর মাইল সড়কের উপর সেগুলো পড়ছে। এতে প্রতিদিনই অপরিচ্ছন্ন হচ্ছে মহাসড়ক। একই অবস্থা মাটি পরিবহনে ব্যস্ত ট্রাক্টরগুলোর ক্ষেত্রেও। নদী,খাল বা ফসলী জমিসহ বিভিন্নস্থান থেকে ট্রাক্টরে করে মহাসড়ক দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন গন্তব্যে। এতে করে মহাসড়কের উপর মাটি পড়ে নস্ট হচ্ছে মহাসড়ক। অতিরিক্ত বোঝাই করার কারণে যত্রতত্র মাটি পড়ে মহাসড়কের চিত্র বদলে গেছে। বোঝার কোন উপায় নেই এটা দেশের প্রধান জাতীয় মহাসড়ক।

দায়িত্বশীল একাধিক নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়,মহাসড়ক দিয়ে ট্রাকে করে মাটি বা বালু পরিবহন করতে হলে সেটা ঢেকে বহন করতে হবে। কোনভাবেই খোলা সেটা বহন করা যাবেনা। কিন্তু সেটা মানা হচ্ছেনা। ফলে প্রতিদিনই মহাসড়কে জমছে মাটির আবরণ।

দায়িত্বশীল সুত্র নাম প্রকাশ না করার সুত্রে আরো জানান, মহাসড়কে কখনোই ট্রাক্টর চালানোর বৈধতা নেই। নিষিদ্ধ এই বাহনটি কিভাবে প্রতিদিন অবাধে মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মাটি বহন করে,আর সে মাটিতে অপরিচ্ছন্ন হচ্ছে মহাসড়ক অথচ সংশ্লিস্ট কারোর কোন খেয়াল নেই এটা নিয়ন্ত্রণে। ধূলা উড়ে বিভিন্ন যানবাহনের চালক,যাত্রীরা দুর্ভোগ পোহালেও ট্রাক্টরযোগে মাটি পরিবহন কোনভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছেনা।

এই চিত্র দাউদকান্দি, গৌরীপুর, রায়পুর ,ইলিয়টগঞ্জ, মাধাইয়া, চান্দিনা, কাবিলা,নিমসার, কালাকচূয়া, আমতলী, আলেখারচর, ঝাগুড়ঝুলি, পদুয়ারবাজা, সুয়াগাজী, মিয়াবাজার এলাকায় ব্যাপক। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী বিলাসবহুল একাধিক পরিবহনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চালকরা জানান, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, পদুয়ারবাজার, ময়নামতি সেনানিবাস সংলগ্ন আমতলী এলাকায় মাটি বহন করে ট্রাক্টর চালকরা বেপোরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে গন্তব্যে পৌছে দিচ্ছে মাটি। এতে মাটির আবরণে মহাসড়কের বেশ কিছু স্থান ঢেকে গেছে। ময়নামতি হাইওয়ে থানার সামনে আমতলী এলাকায় প্রতিদিন ট্রাক্টরযোগে মাটি পরিবহনের কারণে এস্থানটি দেখলে বোঝা যাবেনা দেশের প্রধান ব্যস্ততম মহাসড়ক এটি। একে তো নিষিদ্ধ তার উপর কোন নিয়মনীতি না মেনে খোলা অবস্থায় প্রতিদিন অবাধে মাটি বালু পরিবহনের কারণে দেশের প্রধান জাতীয় মহাসড়কটির বর্তমানে এই বেহাল দশা।

মহাসড়কে নিষিদ্ধ যানবাহনে করে বালু,মাটি পরিবহনের বৈধতার বিষয়ে প্রশ্ন করলে হাইওয়ে ময়নামতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন,কোন নিয়ম নেই মহাসড়কে ট্রাক্টর চলাচলের। একইভাবে ঢাকনা বিহীন ট্রাক-ট্রাক্টরে করে মাটি বা বালু পরিবহনও নিষিদ্ধ। তিনি আরো বলেন,এতে করে সড়কের উপর মাটি পড়ে মহাসড়কের সৌন্দর্য নস্ট হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতে ওই মাটি থাকা সড়ক পিচ্ছিল হয়ে বিভিন্ন যানবাহন দুর্ঘটনাকবলিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এদিকে কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এবিএম খান মুজাহিদী জানান,গোমতী নদীর প্রতিরক্ষা বাধেঁর ভিতর ব্যাক্তিমালিকানাধীন ভূমি থেকে মাটি কাটায় আমাদের কিছুই করণীয় নেই। তিনি আরো বলেন,এটা পরিবেশ অধিদপ্তরের দেখার বিষয়।

কুমিল্লা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শওকত আরা কলি বলেন, এটা একক পরিবেশ অধিদপ্তরের কাজ নয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।