মোঃ জহিরুল হক বাবুঃ পাঁচ বছর আগে আমিসহ আমাদের গ্রামের অন্তত ২শ পরিবার গড়ে ৫০ হাজার টাকা করে গ্যাসের জন্য এক কোটি টাকা দিয়েছি কিন্তু এক বেলাও ভাত রান্না করতে পারিনি। কথাগুলো বলছিলেন গৃহবধু রেহেনা। চা দোকানদার মহসিনও বলেন ভাই আমিও প্রায় পাঁচ বছর আগে আমাদের এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান মো: আনোয়ার হোসেনের কাছে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। এখন পর্যন্ত গ্যাসও পাইনি টাকাও পাই নি। গৃহবধু আয়েশা জানান ধার কর্য করে গ্যাসের জন্য কুড়ি হাজার টাকা পরে রাইজারের জন্য আরো দশ হাজার টাকা মিলিয়ে মোট ত্রিশ হাজার টাকা দিয়েছি ,কিন্তু না পেলাম গ্যাস না পেলাম টাকা। আমরা এর প্রতিকার চাই।

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টায় কুমিল্লা দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিন ইউনিয়নের টামটা ঈদ গা এলাকায় গ্যাস সংযোগের টাকা ফেরত চেয়ে মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা এ কথা বলেন।

জানা যায়, কুমিল্লা দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিন ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো:আনোয়ার হোসেন গ্যাস সংযোগ দিবে বলে টামটা গ্রামের অন্তত ১৯১ টি পরিবারের কাছ থেকে গড়ে ৫০ হাজার টাকা করে অন্তত এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে গ্যাসের লাইন টেনে আর গ্যাস সংযোগ দেয় নি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। এরপর কেটে যায় পাঁচ বছর।

ভুক্তভোগীদের দাবী চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন এক সময় বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলো। পরে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে আনোয়ার চেয়ারম্যান টাকা আত্মসাতের জন্য এলাকাবাসীকে জানায় আওয়ামীলীগ সরকার গ্যাস বন্ধ করে দিয়েছে। তাই এখন গ্যাস সংযোগ দেয়া যাবে না। কিন্তু এলাকাবাসী টাকা ফেরত চাইলে টাকা পরিশোধ করবো বলে শুধু সময়ক্ষেপন ছাড়া আর কিছুই হয় নি।
এদিকে চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেকা যায় বাড়ীতে কেই নেই। তার বাড়ীর আশেপাশের বাড়ির মানুষজনের গ্যাসের জন্য শোর চিৎকার শোনা যায়। তারা বলেন চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বাড়ীর লোকদের সাথে প্রতারনা করতে ছাড়ে নি।

অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, গ্রাহকদের টাকা ব্যাংকে জমা আছে।কত টাকা ব্যাংকে আছে এমন প্রশ্নর জবাবে আনোয়ার হোসেন বলেন ত্রিশ পয়ত্রিশ লাখ টাকা জমা আছে। ভুক্তভোগীরা বলছে এক কোটি টাকা দিয়েছে তাহলে ত্রিশ পয়ত্রিশ লাখ টাকা কেন? এ প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চেয়ারম্যান বলেন এটা আমি জানি না বলেন আগামী ডিসেম্বর জানুয়ারীতে গ্যাস সংযোগ দেয়া হবে। তবে এতদিন কেন গ্যাস সংযোগ দেয়া হয় নি এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন আমি এ বিষয়ে বলতে পারবো না। এ বিষয়ে ঠিকাদাররা ভালো বলতে পারবে। এদিকে ভুক্তভোগীরা এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো:আবুল ফজল মীর বলেন, আমি বিষযটি দেখতে দাউদকান্দি ইউএনওকে নির্দেশ দিয়েছি। তবে আমি বলবো গ্যাস সংযোগসহ সরকারী কাজে সরকারী দফতরে টাকা পয়সা লেনদেন করার আহবান জানাই। আপনারা সচেতন হউন, টাউট বাটপার থেকে দূরে থাকুন।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো: মোতালেব, মো: আলাউদ্দিন ফরাজী, কাজী আবু হানিফ, মীর কাশেম, জামাল ফরাজী, আক্তার হোসেন, ইউসুফ ফরাজী প্রমূখ।