ডেস্ক রিপোর্টঃ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনীর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে তিনি বলছেন, ‘পার্লামেন্ট ভাঙে নাই, প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় আছেন।….. ২০১৪ সালের নির্বাচন এবারও হবে। কিন্তু আমরা (সরকার) ছক করে নির্বাচন করছি।’

আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মহীবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের ঘরোয়া নির্বাচনী বৈঠকে এসব কথা বলেন। যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ‘ফেসবুকে’ ছড়িয়ে পড়েছে।

৩ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ২০ নম্বর দেওয়ানবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী বক্তব্য দিচ্ছেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘সরকার নির্বাচন করছে, যারা বলছেন আরকি? নির্বাচন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো হবে। আপনারা কর্মী আছেন বলে আপনাদের বলছি। নির্বাচন ইনশাআল্লাহ আমরা নেব। হান্ড্রেট পার্সেন্ট আমরা নেব।’

‘পার্লামেন্ট ভাঙে নাই, পদত্যাগ করে নাই। বুঝতে পারছেন? বুঝার কিছু আছে? পার্লামেন্ট ভাঙে নাই। প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় আছেন। আওয়াজ আছে? তত্ত্বাবধায়ক সরকার, এই সরকার, সেই সরকার, ওকে মন্ত্রী দিতে হবে। আর …, হারায় গেছে মিয়া। কোথায় গেছে,’-বলেন চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী।

ভিডিওতে তিনি আরও বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচন এবারও হবে। কিন্তু আমরা ছক করে নির্বাচন করছি। আমরা নিয়ম মাফিক নির্বাচন করছি।’

‘আওয়ামী লীগ না চাইলে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী শাহাদত হোসেনসহ বিএনপি নেতাদের নির্বাচনের আগে মুক্তি দেয়া হবে না’, জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শালারপুতদের প্রতিদিন রাতে খুঁজে এখন। আরও খুঁজবে। একজনও থাকতে পারবে না এলাকায়, বলে দিলাম। যিনি নির্বাচন করছেন উনি জেলে। যদি মহানগর আওয়ামী লীগ বলে আসে, তাকে বের করার জন্য তাহলে তিনি বের হবেন, না হলে হবে না। আজকের তথ্য বলছি, যদি মহানগর আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি বলে, ওদেরকে ছাড়বেন, না হলে ছাড়বেন না। জেলে থাক। ওখান থেকে নির্বাচন করবে।’

মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর বিএনপি নেতাকর্মীরা এলাকায় থাকতে পারবে না জানিয়ে এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘বিডির-পিডির করে, যারা পুডি মাছর মতো ফালায়’ (যারা পুঁটি মাছের মতো লাফায়), যারা বলে ধানের শীষ.. বিষ’.. একজনও ঘরে থাকার সুযোগ পাবে না আগামী ৯ তারিখের পর। আর কীভাবে নির্বাচন হবে? আর কীভাবে নির্বাচন চান? ’

মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী এক পর্যায়ে বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন নির্বাচন করছে না। আপনারা দেখছেন? উনি নির্বাচন করার জন্য আসছিলেন। উনারা আবারও সেই ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একট ছক রেডি করতে চাচ্ছে। কোনটা? একসাথে সবাই পদত্যাগ করে, উইথড্র করে চলে যেতে চায়। আমরা ওদেরকে অভয় দিয়ে রাখছি। পুলিশকে… বলছি, এখন কিছু করিস না। একটু অফ থাক ভাই।’

এদিকে নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতার এ বক্তব্যকে ‘নির্বাচনে কারচুপির ষড়যন্ত্র’ বলছেন বিএনপি নেতারা। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর আজ স্মারকলিপি দেবে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এ বক্তব্যের মাধ্যমে আগামী নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে গেছে। ওই ব্যক্তি তার দলীয় কর্মীদের যা বলেছেন, তার সবই রাষ্ট্রবিরোধী ও সংবিধান বিরোধী কথা।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনী আইন অনুাযায়ী তারা এভাবে সভা করতে পারেন না। আবার সে সভায় যা বলা হয়েছে সেগুলো তো রাষ্ট্রবিরোধী, নির্বাচনে কারচুপির ষড়যন্ত্র। আশা করছি নির্বাচন কমিশন এবার কিছু বলবে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারক শুধু একজন, তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এর বাইরে দলের পরিকল্পনা নেয়ার কেউ নেই, সুযোগও নেই। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেছে তিনি প্যানেল মেয়র, প্যানেল মেয়র কোনো পদই না। তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, এমন সাংগঠনিক সম্পাদক আরও আছে। তার কথায় কিছু আসে যায় না। তার ব্যক্তিগত দায় আওয়ামী লীগ নেবে কেন? এ বক্তব্য আওয়ামী লীগের না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন কেউ মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে, ভিডিও টুইষ্ট করে ছড়িয়ে দিয়েছে। আমি তাকে বলেছি তার নিজের বিষয়ে নিজেকেই পরিষ্কার করতে।’

এদিকে এ বিষয়ে জানতে আজ চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘এটা আমার বক্তব্য না। কেউ এডিট করে অপপ্রচার করেছে। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত বলা হবে।’

সূত্রঃ জাগোনিউজ