জীবন সংগ্রামে জয়ী সদর দক্ষিণের ৫ জয়িতার সাফল্যের কাহিনী

মাজহারুল ইসলাম বাপ্পিঃ অর্থনৈতিক ভাবে সাফল্য অর্জন, সফল জননী নারী, শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন, সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবধান ও নির্যাতনের বিভিষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু” এই পাঁচ ক্যাটাগরীতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে পাঁচজন জয়িতা অন্বেষন করা হয়।

পাঁচ জয়িতারা হলেন- অর্থনৈতিক ভাবে সাফল্য অর্জনকারী আয়শা বেগম, সফল জননী নারী বাসন্তি রানী চক্রবর্তী, শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী মোসাঃ সালমা আক্তার, সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবধান রেখেছেন সুফিয়া বেগম ও নির্যাতনের বিভিষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করা শিপ্রা দেবনাথ। অর্থনৈতিক ভাবে সাফল্য অর্জনকারী আয়শা বেগম জানান,আর্থিক দূরাবস্থার কারণে ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালাতে পারতামনা। এমনকি না খেয়ে কাটাতে হয়েছিল দিনের পর দিন। সংসারের আয় উপার্জনের কোন পথ না থাকায় নিজেই কিছু করে আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের ব্যাপারে মনোনিবেশ করেন। আয়শা বেগম দর্জি ও কুটির শিল্প প্রশিক্ষণ গ্রহনের মাধ্যমে সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনেন। বর্তমানে তার প্রথম মেয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে,দ্বিতীয় মেয়ে বেলতলী উচ্চ বিদ্যালয় এবং ছেলেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করাচ্ছেন। আয়শা বেগম নিজে যেভাবে তার অবস্থার উন্নতি করেছেন সেভাবে গ্রামের অনেক অবহেলিত নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলার চেষ্টা করছেন।সফল জননী নারী বাসন্তি রানী চক্রবর্তী জানান, শিক্ষা অনুরাগী বাসন্তি রানী নিজে তেমন বেশি পড়াশোনা না করতে পারলেও চরম দারিদ্র ও প্রতিক’লতার মধ্য দিয়ে সন্তানদের পড়াশোনার দায়িত্ব পালনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শত দরিদ্রতার মাঝেও তিনি তার বড় মেয়েকে কুমিল্লা সি সি এন পলিটেনিক্যাল কলেজের নার্সিং বিভাগে,ছোট ছেলে ও মেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করছে। ইচ্ছা ও আগ্রহ থাকলে প্রতিকূলতাকে পিছনে ফেলে উজ্বল ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব বাসন্তি রানী চক্রবর্তী তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী মোসাঃ সালমা আক্তার জানান, দারিদ্রতাকে জয় করতে গৃহিনী সালমা আক্তার ঘরের চার দেয়ালের ভিতরে না থেকে বেসরকারী একটি সংস্থায় স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে চাকরী নেন। চাকরীর টাকা দিয়ে সালমা সংসারের যাবতীয় খরচ মিটিয়ে ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা চালান। গ্রামের অসহায় নারীদের স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি এলাকার অন্যান্য মহিলা ও শিশুদের নিয়ে অনুপ্রেরনার সাথে কাজ করছেন। সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবধান রাখা সুফিয়া বেগম জানান,এলাকার কারো বিপদের খবর,আইনগত সহায়তা প্রদান, কোন সামাজিক সমস্যা দেখা দিলে সুফিয়া তাৎক্ষনিক তাদের পাশে দাঁড়ান। সমাজের বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ, আর্থিক সমস্যার কারণে কোন পরিবার মেয়ের বিয়ে দিতে সমস্যার সম্মখিন হলে তিনি এলাকার সকলের কাছ থেকে সহযোগিতার মাধ্যমে বিয়ের ব্যবস্থা করেন। এছাড়াও নারী নির্যাতন ও যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে সর্বদা এলাকার জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করান। নির্যাতনের বিভিষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করা শিপ্রা দেবনাথ জানান, প্রায় আমি স্বামীর নির্যাতনের শিকার হতাম। সর্বশেষ বিয়ের ৩ বছর পর স্বামীর বাড়ি থেকে আমার এক কণ্যা সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে আসি। জীবন বাঁচানোর তাগিদে পরে একটি ব্যসরকারী সংস্থায় চাকরী নেই। চাকরীর অর্থ দিয়ে সংসার ও মেয়ের পড়াশোনা চালাই। চাকরীর পাশাপাশি দর্জির প্রশিক্ষণ নেই। আগের অবস্থার পরিবর্তন করে বর্তমানে আমি ৩ শতক জমির মালিক।কুমিল্লা সদর দক্ষিণে আর্ন্তজাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস এ “জয়িতা অণে¦ষণে বাংলাদেশ”কার্যক্রমের আওতায় জয়িতাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত জয়িতাদের সম্মাননা হিসেবে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর দক্ষিণ উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপালী মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাবলু, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)ফারহানা জাহান উপমা,সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম পি.পি.এম,উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তানজুমা পারভীন লুনা।