ঢাকায় আসছে তাবলীগ নেতা, বিমানবন্দরে আলেমদের বিক্ষোভ

ডেস্ক রিপোর্টঃ মাওলানা সাদ কান্ধলভী বুধবার (১০ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টায় বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। তবে বিতর্কিত ও আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের অন্যতম আলেমগণ মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে তাবলিগ জামাতের ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমায় না আসার আহ্বান জানায়। কিন্তু তিনি বিশ্বের শীর্ষ আলেমদের মতামত ও সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে আজ (১০ জানুয়ারি) বুধবার ঢাকায় আসছেন মাওলানা সাদ কান্ধলভী। তার আসাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে বিমানবন্দর এলাকায় বিক্ষোভ করছেন আলেম ওলামারা।

শাহজালাল বিমানবন্দর থানার ওসি নূরে আযম সিদ্দিকী জানান, মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে যেনো বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়া না হয় সেজন্য বিমানবন্দর গোলচত্বর এলাকায় স্লোগান দিচ্ছেন আলেম-ওলামারা। তবে তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও সমাবেশ করছেন বলে জানান ওসি। মাওলানা সাদ কান্ধলভী আজ বেলা সাড়ে ১২টায় বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা তাকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেবো।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, ১২ জানুয়ারি এবারের বিশ্ব ইজতেমা শুরু হলেও মাওলানা সাদ (আজ) বুধবার ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে আসবেন।

মাওলানা সাদ কান্ধলভী ও নিজামুদ্দিন মারকাজের সদস্যদেরকে বাংলাদেশ সরকার বিশেষ কূটনৈতিক ভিসা দিয়েছে। তারা এরইমধ্যে বাংলাদেশগামী বিমানের টিকিটও বুকিং দিয়েছেন বলে জানা যায়।

বিশ্ব ইজতেমায় দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের মুরুব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলবীর অংশগ্রহণকে প্রতিহত করতে উত্তরা এলাকার বিভিন্ন মসজিদে এবং বিশেষ করে এয়ারপোর্ট এলাকার মসজিদগুলোতে আলেম ওলামা ও মাদরাসার শিক্ষক শিক্ষার্থীরা জড়ো হচ্ছেন বলে খবর পাওয়া যায়।

মাওলানা সাদ কান্ধলভী তাঁর নিজের বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার না করে এবং সবার সম্মিলিত সিদ্ধান্তকে পাশ কাটিয়ে মাওলানা সাদের ইজতেমায় আসা অনুচিত এমন দাবিতেই তারা জড়ো হচ্ছেন।

উল্লেখ্য যে, শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে গত ৭ জানুয়ারি যাত্রবাড়ীতে জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়ায় অনুষ্ঠিত তাবলিগের শুরা সদস্য ও আলেমদের বৈঠকে এবারের ইজতেমায় মাওলানা সাদের না আসার সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিবর্তে বৈঠকের ফয়সাল নিজামুদ্দিনের দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের আসার সিদ্ধান্ত দেন।

ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত সেদিন রাতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে হস্তান্তর করা হয়। তখন সবাই জানতেন ওই বৈঠকের সিদ্ধান্তের বাইরে মাওলানা সাদ বাংলাদেশে আসবেন না।

তাছাড়াও ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দও মাওলানা সাদ কান্ধলভীর প্রতি আস্থাশীল নয় বলেই ভারত সফরকারী প্রতিনিধি দলের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। সে প্রতিবেদনের কপিও বাংলাদেশের আলেমদের গঠিত কমিটির প্রতিনিধির সরকারপক্ষকে হস্তান্তর করেন।

তবে ভারতে সফরকারী সদস্যদেরকে মাওলানা সাদ ও তাঁর পক্ষ থেকে যে প্রতিবেদন দিয়েছিলেন সেখানে তিনি স্পষ্ট বলে দিয়েছিলেন যে, আগের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে তিনি এবারের বিশ্ব ইজতেমায়ও অংশগ্রহণ করবেন।