দাউদকান্দিতে রহস্যজনক কারণে বৃদ্ধকে শ্বাসরোধ করে হত্যা

ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লার দাউদকান্দি আশ্রাফ আলী নামে ৮৫ বছর বয়সের এক বৃদ্ধকে রহস্যজনক কারণে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে উপজেলার দক্ষিন পদুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।  বৃদ্ধ আশ্রাফ আলী ওই গ্রামের মৃত মুর্শিদ আলীর ছেলে।  আজ মঙ্গলবার সকালে পুলিশ মৃদদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মর্গে পাঠিয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ নিহতের দুই ভাতিজাকে আটক করেছে।  খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার(দাউদকান্দি সার্কেল) মহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পুুলিশ ও স্বজনরা জানায়, দাউদকান্দি উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের দক্ষিন পদুয়া গ্রামে আশ্রাফ আলীর বসত ঘরে সোমবার গভীর রাতে একদল মুখোশধারী সিঁধকেটে প্রবেশ করে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এ সময় নিহতের স্ত্রী মালেকা বানু বাধা দিতে গেলে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে সে অজ্ঞান হয়ে যায়।

জ্ঞান ফিরার পর তার স্বামীকে তিনি মৃত অবস্থায় দেখতে পায়  এবং  আলমারী ভেঙ্গে নগত টাকা ,স্বর্নালংকার ও জমি-জমার দলিল নিয়ে যায়।  এ ঘটনায় প্রাথমিক জিঞ্জাসাবাদের জন্য পুলিশ নিহতের বড় ভাই নেকবর মিয়ার ছেলে মনির ও অলি উল্লাহ কে আটক করেছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানায়, নিহত আশ্রাফ আলী ৫ছেলে ও ১ মেয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন চট্টগ্রামে বসবাস করতেন। ৭/৮ বছর পূর্বে বাড়ীতে আসলে ঘর নির্মান করা নিয়ে ভাতিজাদের সাথে মনোমালিন্য হয়। ওই সময় এলাকার পঞ্চায়েতের মাধ্যমে সমাধান হলেও বাড়ীর জায়গা নিয়ে আশ্রাফ আলী পরে আদালতে মামলা করেন বলে ২০ বছর পূর্বে নিখোজ হওয়া নিহতের বড় ভাই নেকবর আলীর স্ত্রী ছাফিয়া বেগম জানান।

ছাফিয়া বেগম আরো বলেন আমার দেবর আশ্রাফ আলী ৩০ বছর আগে ভাইদেও নিকট বাড়ীর জায়গা  বিক্রী করে ছেলে মেয়েদের নিয়ে  চট্টগ্রামে চলে যান।  এর কয়েকবছর পর আমার স্বামী নিখোজ হন।  পরে চট্টগ্রামে কি এক মামলাজনিত কারণে বাড়ীতে চলে আসে এবং থাকার ঘরের জন্য একটু জায়গা দেয়ার জন্য  বলে।  গ্রামবাসীর অনুরোধে তাদেরকে থাকতে দিলে পরে সম্পত্তি নিয়ে আদালতে আমাদের নামে মামলা করে ।

নিহতের বড় ছেলে রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা চার ভাই চট্টগ্রামে থাকি আর এক ভাই দাউদকান্দি সদওে থাকে। বাড়ীতে একা থাকার সুযোগে আমার চাচা ও চাচাত ভাইরা প্রায় সময়ই আমাদের জায়গা জমি নেই বলে বাবা-মা’র উপর অত্যাচার করতো। এ নিয়ে কয়েকবার গ্রাম্য শালিসও হয়েছে। আজ আমার বাবাকে হত্যা করে  চাচা মোবারক আলী পালিয়ে গেছে।

পদুয়া ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল তালুকদার বলেন, সিধঁ কেটে চুরি করার মতো তেমন কিছুই তাদের ঘওে ছিলোনা।  মুলতঃ জায়গা সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ থাকায় হয়তো দলিলপত্র নেয়ার জন্যই এ হত্যাকান্ড ঘটতে পারে।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি(তদন্ত) নুরুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক প্রেরণ করা হয়েছে।  এঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের দুই ভাতিজাকে থানায় আনা হয়েছে।  মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন:

ভালো লাগলে শেয়ার করুনঃ