দেবীদ্বারে প্রতিবন্ধীকে গণধর্ষণ, ধর্ষক গ্রেফতার

ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লার দেবিদ্বারে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী গণধর্ষণের আসামি সোহাগ ভূঁইয়া কে গ্রেপ্তার করেছে দেবিদ্বার থানা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে কুমিল্লার ক্যান্টনমেন্ট কফি হাউজ থেকে তাকে আটক করা হয়।

ধর্ষক সোহাগ ভূঁইয়া (২৪) উপজেলার মরিচা গ্রামের জাপান প্রবাসী মো: মফিজ উদ্দিনের পুত্র। জানা গেছে, ধর্ষক সোহাগের এক বন্ধুর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে দেবিদ্বার থানার এক নারী সোর্স। কিছু দিন সম্পর্ক চলার পর সুযোগ বুঝে গত বৃহস্পতিবার ওই নারী সোর্স প্রেমিকের সাথে দেখা করবে এমন প্রস্তাব দিয়ে কুমিল্লার ক্যান্টনমেন্ট কফি হাউজে আসতে বলে।

পরে ওই প্রেমিক তার বন্ধু ধর্ষক সোহাগ ভূইয়াকে সাথে নিয়ে কুমিল্লার ক্যান্টনমেন্টের কফি হাউজে প্রেমিকার সাথে দেখা করতে আসে। সেখানে আগে থেকেই উৎ পেতে থাকা পুলিশ সদস্যরা সোহাগের ছবি দেখে নিশ্চিত হয়ে সোহাগকে গ্রেপ্তার করে প্রেমিককে ছেড়ে দেয়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৪ আগস্ট (শুক্রবার) ওই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়ে (১৭) উপজেলার মরিচা গ্রামের ফুফাতো বোন রাবেয়া আক্তারের বাড়িতে বেড়াতে আসে। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফুফাতো বোনের পাশের বাড়ির চাচাতো বোন সালমা আক্তার তাকে নিয়ে স্থানীয় বাজারে ফার্মেসী থেকে ঔষধ আনতে যায়। পথিমধ্যে সোহাগ ভূঁইয়া ও সহযোগী মোমেন সালমা আক্তারকে বলে ‘ভাবি রাতে আসব নাকি?’ সালমা আক্তার রাতে তার ঘরে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। রাতে সালমা আক্তার ওই বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে একসাথে ঘুমাতে জোর করে তার ঘরে নিয়ে যায়। পরে গভীর রাতে সালমা আক্তার ওই দুই ধর্ষক (সোহাগ ও মোমেন) কে তার ঘরে আসতে ফোনে জানায়। আগে থেকেই ঘরের দরজা খোলা রেখে সালমা আক্তার ঘুমের ভান করে শুয়ে পড়ে। ফোন পেয়ে ওই দুই ধর্ষক সালমা আক্তারের ঘরে ডুকে সালমার সহায়তায় ওই বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে ঘরের মেঝেতে ফেলে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। সালমা আক্তার একই ঘরের খাটে শুয়ে ধর্ষণের দৃশ্য দেখছিলেন। এ সময় সে চিৎকার করতে চেষ্টা করলেও তাকে মেরে ফেলাসহ বিভিন্ন ভয় ভীতি দেখিয়ে থামিয়ে দেওয়া হয়। পরে ভিকটিমকে বাড়ির ৫০ গজ দূরে পুকুর পাড়ে নিয়ে যায় সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষায় থাকা ধর্ষকদের অপর দুই বন্ধু পুনরায় (দ্বিতীয়বার) তাকে ধর্ষণ করে। গভীর রাত হওয়ায় দ্বিতীয়বার ধর্ষণ করা ধর্ষকদের চেহারা চিনতে পারেনি ভিকটিম।

এদিকে, পরদিন ভিকটিম তার নিজ বাড়ি চান্দিনার কংগাই গ্রামে গেলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ধর্ষণের ঘটনা সৎ মাকে জানালে তার মা সাথে সাথে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শারীরিক পরীক্ষা করিয়ে মেয়েকে নিয়ে ঘটনাস্থল মরিচার ফুফাতো বোন রাবেয়ার বাড়িতে আসেন। ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হলে এলাকার একটি প্রভাশালী মহল মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে চেষ্টাসহ তা প্রকাশ না করতে ভিকটিমকে বিভিন্ন ভয় ভীতি দিতে থাকে।

এ ঘটনা দেবিদ্বার থানায় আসলে দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মিজানুর রহমানের নির্দেশে ধর্ষণের সত্যতা নিশ্চিত হয়ে ভিকটিম, মা ও ফুফাতো বোন রাবেয়া আক্তারকে দেবিদ্বার থানায় নিয়ে এসে ধর্ষক সোহাগ ভূইয়া ও মোমেন মিয়া এবং ধর্ষণকাজে সহযোগিতা করায় সালমা আক্তারসহ আরো অজ্ঞাত দুই আসামির নামে দেবিদ্বার থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার পরেই দেবিদ্বার থানা পুলিশ সালমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে স্বীকারোক্তিমূলক ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রের্কড করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। অপর আসামি সোহাগ ভূইয়া ও মোমেন মিয়া পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় পুলিশ। পরে গত বৃহস্পতিবার সোহাগের এক বন্ধুর সাথে নারী সোর্সের দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে বন্ধুকে দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে কুমিল্লা জুডিশিয়াল নির্বাহী ম্যাজিট্রেট রোকেয়া বেগম এর ৪ নং আমলী আদালতে হাজির করলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

এ ব্যাপারে দেবিদ্বার থানার ওসি মো: মিজানুর রহমান বিডি২৪লাইভকে জানান, ধর্ষক সোহাগ ভূইয়া দীর্ঘদিন আত্ম গোপনে ছিলেন তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে গ্রেপ্তার করা হয়। বিজ্ঞ আদালতে অপরাধের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের পর তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।