ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ করতে চাওয়ায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় সিমুকে

ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে ধর্ষণের পর ১০ বছর বয়সী শিশু সিমু আক্তারকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে এ ঘটনায় গ্রেফতার বাচ্চু মিয়া (৫০) ও আমির হামজা (৩৫)। সিমু হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মনোহরগঞ্জের নাথেরপেটুয়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো.জামির হোসেন জিয়া বৃহস্পতিবার (৮ মার্চ) দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত সোমবার (৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার উত্তর হাওলা ইউনিয়নের হাতিমারা গ্রামের কৃষক সাইদুল হকের ঘরে খাটের নিচ থেকে মেয়ে সিমু আক্তারের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সিমু স্থানীয় হাতিমারা মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

ধর্ষণের ঘটনায় সোমবার রাতেই বাচ্চু মিয়াকে সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করে থানায় হত্যা মামলা করেন সিমুর বাবা সাইদুল হক। বাচ্চু মিয়া একই গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে। সে পাশের নাথেরপেটুয়া বাজারে ফুটপাতে হালিম বিক্রি করতো। ঘটনার পর পুলিশ বাচ্চু মিয়াকে আটক করে বুধবার সকালে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখায়। পরে তার দেওয়া স্বীকারোক্তিতে বুধবার রাতে গ্রেফতার করা হয় একই গ্রামের মোস্তফা ভূঁইয়ার ছেলে আমির হামজাকে। আমির গ্রামের ধান খেতে পানি সেচের ব্যবসা করতো বলে জানা গেছে।

মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সামছুজ্জামান ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো.জামির হোসেন জিয়া জানান, ঘটনার দিন সকাল ১১টার দিকে বাচ্চু মিয়া ও আমির হামজা কৃষক সাইদুলের বাড়িতে প্রবেশ করে। ওই কৃষকের স্ত্রী সিলেটে থাকায় তাদের টার্গেট ছিল সাইদুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেজ মেয়েকে (১৭) ধর্ষণ করা। কিন্তু সে তখন স্কুলে ছিল। বাড়িতে সেসময় সিমু একাই ছিল। বাড়িতে ঢুকে বড় মেয়েটিকে দেখতে না পেয়ে ওই শিশুর দিকেই চোখ পড়ে তাদের। পরে তারা মেয়েটি জোর করে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় শিশুটি ঘটনা তার বাবাকে বলে দেবে বলে জানায়। এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে ঘর থেকে বটি নিয়ে বাচ্চু শিশুটির মুখে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। পরে দা হাতে নিয়ে আমির হামজাও মেয়েটিকে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলে।

ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতার বাচ্চু বুধবার বিকালে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাতে গ্রেফতার করা হয় এ ঘটনার অপর হোতা আমির হামজাকে। আমির হামজাও প্রাথমিকভাবে এসব ঘটনার কথা স্বীকার করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আদালতে নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, উপজেলার হাতিমারা গ্রামের পূর্ব-উত্তর পাশে ফসলের মাঠের মাঝখানে বাড়ি বানিয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন কৃষক সাইদুল হক। হত্যার ঘটনার এক সপ্তাহ আগে সাইদুলের স্ত্রী রাবেয়া বেগম সিলেটে বেড়াতে যান। সোমবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে সাইদুল মাঠে কৃষিকাজ করতে ঘর থেকে বের হন। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সাইদুল ছোট মেয়ে সিমুকে বলে যান, ‘পুরো বাড়ি যেহেতু খালি তুই নানার বাড়িতে চলে যা।’ সিমুর নানার বাড়ি কাছেই। ওইদিন দুপুরে মাঠে কৃষিকাজ শেষে বাড়ি ফিরে সাইদুল দেখেন ঘরের দরজা খোলা। এরপর ঘরে ঢুকে দেখেন সবকিছু এলোমেলো। একপর্যায়ে খাটের নিচে সিমুর ক্ষতবিক্ষত লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে ওইদিন শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পুলিশ সদস্যরা দেখেন শিশুটিকে অমানবিক নির্যাতনের পর দা ও বটি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। হত্যায় ব্যবহৃত দা ও বটি ঘর থেকেই উদ্ধার করে পুলিশ।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন