মো. ওমর ফারুকঃ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় ইরি-বোরো মৌসুমের ফসলি জমিতে ব্যাপক আকারে ধানে চিটা দেখা দিয়েছে। ধান পাকার আগ মুহূর্তে নেক ব্লাস্ট রোগে ধানখেত নষ্ট হওয়ায় এ সব সমস্যা দেখা দিয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, ইউনিয়ন উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা সরেজমিনে না এসে দোকানে বসে বসে কৃষকদের পরামর্শ দেন ও বিভিন্ন কোম্পানির ওষধ দেন। এ সব ব্যবহার করার কারণে এখন ধান কম ও ধানে চিটা দেখা দিয়েছে। আবার অনেকে কৃষি অফিসে বার বার ধরণা দিয়ে উপ-সহকারি কৃষি অফিসারদের মাঠে পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ কেউ বলছেন উপ-সহকারি কৃষি অফিসারদের ছিনেন না তারা। কৃষকরা ধান খেতের বিভিন্ন রোগের সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন পরামর্শ নিয়েছিলেন স্থানীয় সার ও কীটনাশক দোকানের মালিকদের কাছ থেকে।

বৈশাখের প্রথমদিকে চারদিকে বাতাসে দুল খাচ্ছে সোনালী ধান। ধান কাটা শুরু করে দিয়েছে কৃষক। কিন্তু ধান খেতে গিয়ে দেখেন তার উল্টো। সব ধান চিটা হয়ে গেছে, যা বলা হয় ধান পাঁকার আগে পাঁকা। এমনি চিত্র পাওয়া গেছে উপজেলার মৌকরা ইউপির বড় ফতেপুর গ্রামের গ্রাম্য চিকিৎসক গফুরের জমিতে। ওই জমিতে ধানের ছড়াগুলো বের হয়ে ঝাঁক দিয়েছে। এর মধ্যে ধান গাছের ওপরের অংশে কালো দাঁগের চিহ্ন পড়ে ধানগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। যা নেক ব্লাস্ট (পঁচা রোগ) নামে পরিচিত। গাছগুলো আগাম কেটে ফেলছে, পশুখাদ্য জন্য। এ রোগ (পঁচা রোগ) আক্রমণের ৪-৫ দিনের মধ্যে সব ধান চিটা হয়ে যায়।

গত কয়েক দিন ধরে উপজেলার মৌকরা ইউপির গোমকোট, রায়কোট ইউপির পিপড্ডা, বেকামলিয়া, বাংগড্ডা ইউপির পরিকোট, পেরিয়া ইউপির পেরিয়া, ঢালুয়া ইউপির শিহর, মঘুয়া, জোড্ডা ইউপির জোড্ডা, আদ্রা ও হেসাখাল সহ বেশ কয়েকটি এলাকার ফসলি মাঠ ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

বড় ফতেপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রেজ্জাক, আব্দুল খালেক ও দুলাল বলেন, এ মৌসুমে প্রায় ৪-৫ একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে পুরো ধান খেত নষ্ট হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে পিপড্ডা গ্রামের আব্দুর রশিদ ও শরীফ আহমেদ বলেন, ‘তারা ৬ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ধান চাষ করেছে। পুরো খেতই নষ্ট হয়ে গেছে। জমির মালিককে আট মণ ধান দেওয়ার কথা। ধান চাষ করতে ধার-দেনা করেছি। এখন সেই টাকা শোধ করব কীভাবে, আর জমির মালিককে ধান দিব কীভাবে?’

জোড্ডা গ্রামের কৃষক সুরুজ মিয়া বলেন, দানা পুষ্ট হওয়ার আগ মুহূর্তে ধান গাছের ডগা সোনালি হয়ে যাচ্ছে। এ ছত্রাক দ্রুত ছড়াচ্ছে বলে ওষুধ দিয়েও উপকার হচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার সব এলাকাতেই এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার সবচেয়ে বড় বিল ঢালুয়া ইউনিয়নের বেরলা চর এলাকার ধানখেতেও এ রোগ দেখা দিয়েছে। বিআর ২৮ জাতের ধানে ব্লাস্ট রোগ বেশি দেখা দেয় ।

এ ব্যাপারে মৌকরা ইউপির উপ-সহকারি কৃষি অফিসার আমিনুল হক জানান, এটা ‘নেক ব্লাস্ট’ রোগ। ‘নেক ব্লাস্ট রোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমরা দুই মাস ধরে কৃষক পর্যায়ে সভা করছি। লিফলেট বিতরণ করে কৃষকদের মাঝে করণীয় তুলে ধরছি। এ ছত্রাক থেকে রক্ষা পেতে নাটিভো, ফিলিয়া, বাস্টিন, টাটাভো জাতীয় ছত্রাক নাশক ধানখেতে ছিটানোর পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

ফসলি মাঠে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, পুরো ইউনিয়নে তিনি একজন অফিসার। যার ফলে ইউনিয়নের এক এলাকায় গেলে অন্য এলাকায় যাওয়া সম্ভব হয় না।

এ বিষয়ে শনিবার উপজেলা কৃষি অফিসার রেজাউল হক বলেন, আমি এখানে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে আছি। কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। আমার পক্ষে পুরো উপজেলায় নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব নয়। ইউনিয়ন উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আছেন তারা বিষয় গুলো দেখা শুনা করেন।