মো: ওমর ফারুকঃ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাংগড্ডা ইউপির হেসিয়ারা, নুরপুর, বেরী ও দাড়াচৌ গ্রামের ডাকাতিয়া নদীর অংশে প্রায় এক কিলোমিটারের মধ্যে ১৫টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করেছিল একটি প্রভাবশালী মহল। গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন পত্রিকায় এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। গতকাল রোববার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ’মি) মো. সোহেল রানা অভিযান চালান। অবৈধ ভাবে ডাকাতিয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় ৬ টি ড্রেজার মেশিনে অগ্নিসংযোগ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিষয়টি টের পেয়ে অপর ড্রেজারের মালিকরা নদী থেকে মেশিন নিয়ে পালিয়ে যায়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে উপস্থিত ছিলেন , উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ’মি) মো. সোহেল রানা, নাঙ্গলকোট থানার উপ- সহকারী পরিদর্শক শামীম, স্যানেটারী ইন্সপেক্টর এবায়দুল হক প্রমুখ।

>>আরো পড়ুনঃ  কুমিল্লার মহাসড়কে অটোরিকশার অবাধ চলাচল, বাড়ছে দুর্ঘটনা

উল্লেখ্য গত এক মাস ধরে ডাকাতিয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন করে আশেপাশের ফসলী জমি, পুকুর-ডোবা ভরাট ও বিভিন্ন ইট ভাটায় এ বালু বিক্রি করছেন চলন কলেজের প্রভাষক আ’লীগ নেতা আশিকুর রহমান, নুরপুর গ্রামের ইউনুস, স্থানীয় মেম্বার জসিম ও হাজারীপাড়া গ্রামের রবিউল। তার মধ্যে চলন কলেজের প্রভাষক আ’লীগ নেতা আশিকুর রহমান নিজেই ৪টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন।

“বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ বিধি ৪ এর ‘খ’ তে বলা হয়েছে, সেতু কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাধঁ, সড়ক, মহাসড়ক, বন. রেল লাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও রেসরকারি স্থাপনা হইলে, অথবা আবাসিক এলাকা থেকে এক কিলোমিটার হইলে বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত সীমানার মধ্যে হইলে এবং ’গ’ তে বলা হয়েছে, বালু বা মাটি উত্তোলন বা বিপণনের উদ্দেশ্যে ড্রেজিংয়ের ফলে কোনো নদীর তীর ভাঙ্গনের শিকার হইতে পারে এরুপ ক্ষেত্রে বালু বা মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।”

>>আরো পড়ুনঃ  বুড়িচংয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গুলো খানাখন্দে ভরা, জন দূর্ভোগ চরমে

“শাস্তির বিষয়ে বিধি ১৫ এক এ বলা হয়েছে, এই আইনের ধারা ৪ এ বর্ণিত কতিপয় ক্ষেত্রে বালু বা মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ সংক্রান্ত বিধানসহ অন্য কোন বিধান কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অমান্য করিলে বা এই আইন বা অন্য কোনো বিধান লংঘন করিয়া অথবা বালু বা মাটি উত্তোলনের জন্য বিশেষ ভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করিলে সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ব্যক্তিবর্গ (এক্সকিউটিভ বডি) বা তাহাদের সহায়তাকারী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ অনূর্ধ্ব ২ (দুই ) বৎসর কারাদন্ড সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা হইতে ১০ (দশ) লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন।”

০১৭৫৮০৭৫১০২.
১৯-০৫-০১৯.