চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের গত নির্বাচনে একাই সাতটি ভোটকেন্দ্র দখল করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী।

গত বুধবার রাতে চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে নৌকার প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমদের বাসায় মতবিনিময়সভায় এ কথা বলেন তিনি।

নদভীর বক্তব্যের একটি ভিডিও যুগান্তরে এসেছে।

জানা গেছে, গত বুধবার রাতে নগরীর লালখানবাজারে মোছলেম উদ্দিন আহমদের বাসায় ওই মতবিনিময়সভা হয়। সেখানে রাখা বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনেও নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে নৌকার প্রার্থী মোছলেম উদ্দিনকে জিতিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এমপি নদভী।

গত চসিক নির্বাচনে কেন্দ্র দখলে রাখার বর্ণনা দিয়ে নদভী বলেন, ‘আমি এমনভাবে কেন্দ্রগুলো দখলে নিয়েছিলাম যে লোকজন বলাবলি করছিল, নদভী সাহেব মাওলানা হয়েও গুণ্ডা-সন্ত্রাসীর মতো করে (কেন্দ্র দখল) নিয়ে নিলেন। তারা বলেছে, ওনাকে আলেম মনে করতাম কিন্তু কাজ করেছেন একেবারে সন্ত্রাসীর মতো।’

তার এই বক্তব্যের সময় সেখানে মোছলেম উদ্দিন আহমদ ছাড়াও চন্দনাইশের এমপি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, বাঁশখালীর এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, পটিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোতাহের হোসেনসহ দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এমপি নদভীর এমন বক্তব্যে উপস্থিত নেতারা প্রথমে হতচকিত হলেও পরে কাউকে কাউকে হাসতে দেখা যায়।

নদভী আরও বলেন, ‘আমরা সবাই মোছলেম ভাইয়ের জন্য কাজ করব। আমি বোয়ালখালীতেও যাব, চান্দগাঁও এলাকায়ও যাব। চান্দগাঁও এলাকায় যেহেতু আমি থাকি, সেখানে আমি কাজ করব। যেভাবে আমি গতবার আ জ ম নাছির সাহেবের (চসিক মেয়র) জন্য কাজ করেছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘বোয়ালখালীতে আমি মসজিদ দিয়েছি। তাই আলেম-ওলামাদেরও বলে দিয়েছি। আমরা নৌকার প্রশ্নে দলের প্রশ্নে এক। মোছলেম ভাইকে এমপি করে সংসদে নিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।’

এমপি নদভী এমন সময় বক্তব্যটি দিলেন যখন চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনে নালিশ দিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান।

আবু সুফিয়ান বলেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে আবু রেজা নদভী সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন। আমি খুবই মর্মাহত। এখানে আইনের শাসন কোথায়, নির্বাচনইবা কোথায়? আমি বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। আশা করি, কমিশন এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

প্রসঙ্গত সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী একসময় জামায়াতে ইসলামী পরিচালিত আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) অধ্যাপক ছিলেন।

পরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়। তিনি ২০১৪ ও ২০১৮ সালে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

সূত্রঃ যুগান্তর

ইউটিউবে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন: