শিক্ষাজীবনে কখনো দ্বিতীয় হননি। মেডিকেলেও তার ফলাফল ভালো। কিন্তু ফাল্গুনের প্রথম দিন বসন্তকালকে বরণ করতে ঘুরতে বের হয়ে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

বলছি পাবনা মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী তানজিলা হায়দারের (২২) কথা। মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষ থেকে তৃতীয় বর্ষ পর্যন্ত ভালো ফলাফল করে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। ফলাফলে ক্লাসে সবার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শিক্ষাজীবনে কখনো দ্বিতীয় হননি তানজিলা।

এরই মধ্যে বুধবার সন্ধ্যায় পাবনা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন মহেন্দ্রপুরে ট্রাকচাপায় প্রাণ হারান এই মেধাবী শিক্ষার্থী। নিহত তানজিলা হায়দার রাজশাহী জেলার লক্ষ্মীপুর কাঁচাবাজার এলাকার বাসিন্দা ও বন বিভাগের কর্মকর্তা শাম্মাক হায়দারের মেয়ে।

সড়ক দুর্ঘটনায় তানজিলা নিহত হওয়ার খবরে পাবনা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে নেমে আসে শোকের ছায়া। খবর শুনে সহপাঠীদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তানজিলা হায়দারের সহপাঠীরা জানান, বসন্তবরণ উপলক্ষে একই মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের ছাত্র ইমরান চৌধুরীর (২৪) সঙ্গে বিকেলে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হন তানজিলা। কিন্তু হঠাৎ একটি সড়ক দুর্ঘটনা এভাবে তার প্রাণ কেড়ে নেবে আমরা বুঝতে পারিনি। তানজিলা ছিলেন অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী। ক্লাসে কখনো দ্বিতীয় হননি। তার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করার। হাসিখুশি এই মেয়েটি সবসময় ক্লাসে ফার্স্ট হতেন। ক্লাসের সবার সঙ্গেই ভালো আচরণ করতেন। তার এভাবে চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছি না আমরা।

পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুল হক বলেন, পহেলা ফাল্গুন উপলক্ষে বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে মোটরসাইকেলে চড়ে ঘুরতে বের হন তানজিলা। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পাবনা বাস টার্মিনাল এলাকায় এলে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে যান তিনি। এ সময় পেছন দিক থেকে দ্রুতগতির একটি ট্রাক তানজিলার ওপর দিয়ে চলে গেলে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় তার বয়ফ্রেন্ড ইমরান চৌধুরী (২৪) আহত হয়েছেন। তিনি একই মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের ছাত্র ও নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার বাসিন্দা।

ওসি ওবায়দুল হক আরও বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক ও তার সহকারী পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা যায়নি। তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে, তানজিলা হায়দার নিহত হওয়ার ঘটনায় পাবনা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া বিরাজ করছে। তার অকাল মৃত্যুতে শোকাহত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার ক্লাস বিরতি রেখেছেন। ক্যাম্পাসে শোক ব্যানার টাঙানোসহ কালো ব্যাজ ধারণ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। খবর পেয়ে তানজিলার অভিভাবকরা বুধবার রাতেই রাজশাহী থেকে পাবনায় ছুটে আসেন এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নিয়ে যান।

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রাজশাহী নগরীর হেতেম খাঁ মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা নামাজ শেষে তানজিলাকে হেতেম খাঁ কবরাস্থানে দাফন করা হয়।

তানজিলা নিহত হওয়ার ঘটনায় বিএমএ পাবনা শাখার সভাপতি ডা. আসলাম হোসেন বিশ্বাস মাসুদ ও সাধারণ সম্পাদক ডা. আনন গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন।
বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ডা. আনন বলেন, মেডিকেল শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় পিএমসিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। বৃহস্পতিবার শোকাবহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্লাস বিরতি রাখেন।

এছাড়া বিএমএ’র উদ্যোগে শোক ব্যানার টাঙানোসহ কালো ব্যাজ ধারণ কর্মসূচি পালন করা হয়। শনিবার তানজিলার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিএমএ’র উদ্যোগে শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে।